ব্যবহার
ন্যালোক্সোন হাইড্রোক্লোরাইড একটি জরুরি ঔষধ, যা মরফিন, পেথিডিন, ফেন্টানিল, ট্রামাডল, মেথাডোন ও হেরোইনের মতো অপিওয়েড ঔষধের প্রভাব উল্টে দিতে ব্যবহৃত হয়। সন্দেহজনক অপিওয়েড ওভারডোজে শ্বাস ধীর হয়ে গেলে বা বন্ধ হলে, এবং অস্ত্রোপচার বা প্রসবের সময় দেওয়া অপিওয়েডের কারণে শ্বাস কমে গেলে এটি দেওয়া হয়। মা অপিওয়েড পেয়ে থাকলে নবজাতকের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ন্যালোক্সোন একটি অপিওয়েড অ্যান্টাগোনিস্ট (প্রতিরোধক)। মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর যে রিসেপ্টরে অপিওয়েড কাজ করে, এটি সেখানে যুক্ত হয়ে অপিওয়েডকে সরিয়ে দেয় ও তার কাজ আটকে দেয়। ফলে দ্রুত শ্বাস ও জ্ঞান ফিরে আসে। যিনি অপিওয়েড নেননি, তার শরীরে এর প্রভাব খুব কম।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ন্যালোক্সোন ইনজেকশন চিকিৎসক, নার্স বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তি শিরায়, মাংসপেশিতে বা চামড়ার নিচে দেন। মাত্রা চিকিৎসক ঠিক করেন এবং শ্বাস স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কয়েক মিনিট পরপর আবার দেওয়া হতে পারে। অনেক অপিওয়েডের প্রভাব ন্যালোক্সোনের চেয়ে বেশি সময় থাকে, তাই রোগীকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয় এবং আরও মাত্রা লাগতে পারে। নবজাতক ও শিশুর মাত্রা চিকিৎসক নির্ধারণ করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অপিওয়েড ব্যথানাশক ও কাশির ঔষধ: ন্যালোক্সোন এদের প্রভাব, ব্যথা উপশমসহ, বন্ধ করে দেয়।
- বুপ্রেনরফিন: এর প্রভাব আংশিক উল্টায়, বেশি মাত্রা লাগতে পারে।
- অপিওয়েডে নির্ভরশীল ব্যক্তির ক্ষেত্রে হঠাৎ উইথড্রয়াল (প্রত্যাহার) উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
কারা খাবেন না
ন্যালোক্সোনে অ্যালার্জি থাকলে এটি দেওয়া হয় না। জীবন-সংশয়ী ওভারডোজে এর তেমন অন্য কোনো বাধা নেই; চিকিৎসক ঝুঁকি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
যারা নিয়মিত অপিওয়েড নেন, তাদের হঠাৎ উইথড্রয়ালে অস্থিরতা, উত্তেজনা, ঘাম, হাই তোলা, নাক দিয়ে পানি পড়া, গায়ে কাঁটা দেওয়া, বমিভাব, বমি, পেট কামড়ানো, ডায়রিয়া, কাঁপুনি ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা দ্রুত ফিরে আসতে পারে। কদাচিৎ উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি বা ফুসফুসে পানি জমতে পারে।
ন্যালোক্সোন দেওয়ার পর আবার শ্বাস ধীর হলে, আবার ঝিমিয়ে পড়লে, বুকে ব্যথা, খিঁচুনি বা তীব্র শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। সন্দেহজনক ওভারডোজে রোগী জেগে উঠলেও সবসময় জরুরি সহায়তা ডাকুন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
জীবন বাঁচাতে প্রয়োজন হলে গর্ভাবস্থায় ন্যালোক্সোন দেওয়া যায়। অপিওয়েডে নির্ভরশীল মায়ের ক্ষেত্রে এটি মা ও শিশু দুজনেরই উইথড্রয়াল ঘটাতে পারে, তাই চিকিৎসক সাবধানে ব্যবহার করেন। স্বল্প সময়ের চিকিৎসায় বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
সতর্কতা
- অপিওয়েডের প্রভাব ন্যালোক্সোনের চেয়ে দীর্ঘ হতে পারে এবং উপসর্গ ফিরে আসতে পারে, তাই রোগীকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
- হৃদ্রোগ থাকলে বা হৃদ্যন্ত্রে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ পেলে সাবধানে দেওয়া হয়।
- অপিওয়েড-নির্ভর মায়ের নবজাতকের হঠাৎ উইথড্রয়াল বিপজ্জনক হতে পারে।
- অ্যালকোহল বা বেনজোডায়াজেপিন জাতীয় ঘুমের ঔষধের মতো অপিওয়েড নয় এমন ঔষধের ওভারডোজ ন্যালোক্সোন সারায় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ন্যালোক্সোনের নিরাপত্তা সীমা বেশ বড়। অপিওয়েড-নির্ভর ব্যক্তিকে বেশি দিলে মূলত তীব্র উইথড্রয়াল উপসর্গ হয়, যার চিকিৎসা হাসপাতালে করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অপিওয়েড অ্যান্টাগোনিস্ট (প্রতিষেধক)।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। হিমায়িত করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।