ব্যবহার
ন্যানোপার্টিকেল অ্যালবুমিন-বাউন্ড প্যাক্লিট্যাক্সেল (ন্যাব-প্যাক্লিট্যাক্সেল) একটি কেমোথেরাপি ঔষধ, যা ছড়িয়ে পড়া স্তন ক্যান্সার, অগ্রসর নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যান্সার (কার্বোপ্ল্যাটিনের সাথে) এবং ছড়িয়ে পড়া অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সার (জেমসিটাবিনের সাথে) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা হাসপাতালে এটি ব্যবহার করেন।
কীভাবে কাজ করে
প্যাক্লিট্যাক্সেল ট্যাক্সেন গোষ্ঠীর ঔষধ। এটি কোষের ভেতরের ক্ষুদ্র গঠন মাইক্রোটিউবিউলের সাথে যুক্ত হয়, যা কোষ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম আলাদা করে। এগুলোকে আটকে দিয়ে এটি ক্যান্সার কোষের বিভাজন বন্ধ করে এবং কোষগুলো মারা যায়। এই রূপে প্যাক্লিট্যাক্সেল তেলজাতীয় দ্রাবকের বদলে অ্যালবুমিনের (রক্তের প্রাকৃতিক প্রোটিন) ক্ষুদ্র কণার সাথে যুক্ত থাকে, তাই দ্রুত দেওয়া যায় এবং সাধারণ অ্যালার্জি প্রতিরোধক ঔষধ লাগে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত প্রায় ৩০ মিনিট ধরে। বিশেষজ্ঞ শরীরের উপরিতলের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করেন, যা ক্যান্সারের ধরন, চিকিৎসা পরিকল্পনা ও রক্তের কণিকার ওপর নির্ভর করে। এটি প্যাক্লিট্যাক্সেলের অন্য রূপের সাথে বদলানো যায় না। প্রতি ডোজের আগে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
যকৃতের CYP2C8 ও CYP3A4 এনজাইমকে বাধা দেয় বা ত্বরান্বিত করে এমন ঔষধ প্যাক্লিট্যাক্সেলের মাত্রা বদলাতে পারে, যেমন কিটোকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির, জেমফাইব্রোজিল, রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন। চিকিৎসাকালে জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলুন। সব ঔষধ ও সম্পূরকের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
চিকিৎসার আগে নিউট্রোফিল (এক ধরনের শ্বেতকণিকা) খুব কম থাকলে, স্তন্যদানকালে, অথবা প্যাক্লিট্যাক্সেল বা অ্যালবুমিনে গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকলে এটি দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো রক্তের কণিকা কমে যাওয়া (ফলে সংক্রমণ, রক্তপাত ও রক্তশূন্যতার ঝুঁকি), চুল পড়া, হাত-পায়ে অসাড়তা বা ঝিমঝিম (পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি), ক্লান্তি, বমিভাব, ডায়রিয়া, মুখে ঘা, গিঁট ও পেশিতে ব্যথা, ফুসকুড়ি ও জ্বর। কম সাধারণ গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে ফুসফুসের প্রদাহ, সেপসিস, হৃদ্যন্ত্রের সমস্যা ও গুরুতর অ্যালার্জি।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি বা সংক্রমণের অন্য লক্ষণ, শ্বাসকষ্ট বা নতুন কাশি, বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, তীব্র ডায়রিয়া বা বমি, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। নারীদের চিকিৎসাকালে ও শেষ ডোজের পর অন্তত ৬ মাস এবং পুরুষদের চিকিৎসাকালে ও পরে অন্তত ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাকালে ও শেষ ডোজের পর ২ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন; কণিকা কম থাকলে বা নিউরোপ্যাথি তীব্র হলে ডোজ পিছানো বা কমানো হতে পারে। যকৃৎ, হৃদ্যন্ত্র বা ফুসফুসের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং ভালোভাবে হাত ধুন। এতে মানব রক্ত থেকে নেওয়া অ্যালবুমিন আছে বলে সংক্রমণ ছড়ানোর খুব সামান্য তাত্ত্বিক ঝুঁকি থাকে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি মাত্রায় রক্তের কণিকা অনেক কমে যেতে, স্নায়ুর ক্ষতি ও মুখে ঘা হতে পারে। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ (ট্যাক্সেন, মাইক্রোটিউবিউল ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: খোলা হয়নি এমন ভায়াল প্যাকেটের নির্দেশমতো, সাধারণত ২৫°C এর নিচে আলো থেকে রক্ষার জন্য মূল কার্টনে রাখুন। প্রস্তুত ইনফিউশন প্রশিক্ষিত হাসপাতাল কর্মীরা সামলান।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।