ব্যবহার
ন্যাফাজোলিন নাইট্রেট একটি ডিকনজেস্টেন্ট, যা মূলত নাকের ড্রপ হিসেবে সর্দি, সাইনাসাইটিস, হে ফিভার ও অন্য অ্যালার্জিতে নাক বন্ধ হওয়া কমাতে ব্যবহৃত হয়। চোখের ড্রপ হিসেবে ধুলা, ধোঁয়া, অ্যালার্জি বা ক্লান্তিজনিত চোখের হালকা লালচে ভাব ও জ্বালা কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
ন্যাফাজোলিন নাক বা চোখের আস্তরণের ছোট রক্তনালীর আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে। এতে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়, ফলে নাকের ফোলা ও বন্ধ ভাব কমে এবং চোখের লালচে ভাব কমে। কয়েক মিনিটেই কাজ শুরু হয় এবং কয়েক ঘণ্টা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নাকের ড্রপ (প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী): প্রতিটি নাসারন্ধ্রে ১ থেকে ২ ফোঁটা দিনে ৩ থেকে ৪ বার পর্যন্ত, ৬ ঘণ্টার আগে আবার নয়, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। টানা ৩ থেকে ৫ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। চোখের ড্রপ: আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার, ৩ দিনের বেশি নয়, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৬ বছরের কম বয়সী (নাক) বা ছোট শিশুদের (চোখ) ব্যবহার করবেন না। ড্রপারের মুখ পরিষ্কার রাখুন এবং অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
MAO ইনহিবিটরের সাথে বা সেটি বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার করবেন না, কারণ রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে। ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতারোধী ও অন্য ডিকনজেস্টেন্ট এর প্রভাব বাড়াতে পারে। এটি রক্তচাপের ঔষধের কার্যকারিতা কমাতে পারে। একসাথে দুটি ডিকনজেস্টেন্ট পণ্য ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
ন্যাফাজোলিনে অ্যালার্জি, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, MAO ইনহিবিটর সেবন, অথবা (নাকের ড্রপের ক্ষেত্রে) নাকের শুষ্ক প্রদাহ (রাইনাইটিস সিকা) বা সম্প্রতি নাকের মধ্য দিয়ে অস্ত্রোপচার হলে ব্যবহার করবেন না। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে শিশু ও ছোট বাচ্চাদের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো নাকে জ্বালা, হাঁচি বা শুষ্কতা, এবং চোখের ড্রপে ক্ষণিক জ্বালা বা ঝাপসা দেখা। দীর্ঘ সময় ব্যবহারে রিবাউন্ড কনজেশন হতে পারে (বন্ধ করলে নাক আরও বন্ধ হয়ে যায়)। শোষিত হলে মাথাব্যথা, অস্থিরতা, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, রক্তচাপ বৃদ্ধি বা ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক তন্দ্রা, ধীর শ্বাস ও শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে।
শিশু গিলে ফেললে বা খুব তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে, ধীর বা কষ্টকর শ্বাস বা শরীর ঠান্ডা হলে, অথবা কারও বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, তীব্র মাথাব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তনসহ চোখে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
রক্তপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; স্তন্যদানকালে ব্যবহারের আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
শুধু অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা গ্লুকোমা থাকলে আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে কন্ট্যাক্ট লেন্স খুলুন। লক্ষণ ৩ দিনের বেশি থাকলে বা বাড়লে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অল্প পরিমাণ গিলে ফেললেও ছোট শিশুদের জন্য বিপজ্জনক, যাতে তীব্র তন্দ্রা, ধীর হৃদ্স্পন্দন, তাপমাত্রা কমে যাওয়া ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপ ও দ্রুত হৃদ্স্পন্দন হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিম্প্যাথোমিমেটিক ডিকনজেস্টেন্ট (আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট), নাক ও চোখের জন্য।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং বোতল ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন। খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।