ব্যবহার
ন্যাটেগ্লিনাইড খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। খাওয়ার পর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে এটি বিশেষভাবে উপকারী। একটি ঔষধে যথেষ্ট না হলে এটি একা বা মেটফরমিনের সাথে ব্যবহার করা যেতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
ন্যাটেগ্লিনাইড মেগ্লিটিনাইড গোষ্ঠীর ঔষধ। এটি অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরিকারী বিটা কোষে দ্রুত কাজ করে পটাশিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে, ফলে কোষগুলো অল্প সময়ের জন্য ইনসুলিন ছাড়ে। এটি দ্রুত ও অল্পক্ষণ কাজ করে বলে খাবারের ঠিক আগে খাওয়া হয়, যাতে খাবারের কারণে শর্করা বাড়ার সাথে মিলে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ১২০ mg দিনে তিনবার, প্রতিটি প্রধান খাবারের ১ থেকে ৩০ মিনিট আগে। রক্তে শর্করা লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি থাকলে ৬০ mg দিনে তিনবার দেওয়া হতে পারে। কোনো বেলার খাবার না খেলে সেই মাত্রা বাদ দিন; অতিরিক্ত খাবার খেলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। ডাক্তারের নির্দেশনা মেনে চলুন এবং পরামর্শমতো রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- যেসব ঔষধ শর্করা কমানোর প্রভাব বাড়াতে পারে (শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি): অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, ফ্লুকোনাজল, জেমফাইব্রোজিল, NSAID, স্যালিসাইলেট, MAO ইনহিবিটর এবং নন-সিলেকটিভ বিটা ব্লকার।
- যেসব ঔষধ এর প্রভাব কমাতে পারে: কর্টিকোস্টেরয়েড, থায়াজাইড ডাইউরেটিক, থাইরয়েড হরমোন ও সিম্প্যাথোমিমেটিক।
- বিটা ব্লকার শর্করা কমার সতর্ক লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
- অ্যালকোহল শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস।
- ন্যাটেগ্লিনাইডে অ্যালার্জি।
- গুরুতর লিভারের রোগ।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (হাইপোগ্লাইসেমিয়া), যাতে হাত-পা কাঁপা, ঘাম, ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তি হয়। এছাড়া সর্দির মতো উপসর্গ, কোমর ব্যথা, গিঁটে ব্যথা, ডায়রিয়া ও ওজন বাড়া হতে পারে।
চিনি খাওয়ার পরও শর্করা কমা ঠিক না হলে, অজ্ঞান হয়ে পড়লে, খিঁচুনি, তীব্র বিভ্রান্তি, অথবা শ্বাসকষ্টসহ মুখ বা গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ন্যাটেগ্লিনাইড সুপারিশ করা হয় না; এ সময় সাধারণত ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- শর্করা কমে গেলে দ্রুত সামলাতে সবসময় চিনির উৎস (গ্লুকোজ ট্যাবলেট, চিনি বা জুস) সঙ্গে রাখুন।
- বয়স্ক বা কম ওজনের মানুষ এবং অ্যাড্রিনাল, পিটুইটারি, লিভার বা কিডনির সমস্যা থাকলে শর্করা কমার ঝুঁকি বেশি।
- অসুখ, সংক্রমণ, অস্ত্রোপচার বা মানসিক চাপে শর্করা নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হতে পারে; ডাক্তার কিছু সময়ের জন্য ইনসুলিন দিতে পারেন।
- শর্করা কমার ঝুঁকি থাকলে গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। হালকা ক্ষেত্রে মুখে চিনি দিন; ব্যক্তি ঝিমিয়ে পড়লে, বিভ্রান্ত বা অজ্ঞান হলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় যোগাযোগ করুন। অজ্ঞান ব্যক্তিকে খাবার বা পানীয় দেবেন না।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মুখে খাওয়ার ডায়াবেটিসের ঔষধ; মেগ্লিটিনাইড (ইনসুলিন নিঃসরণ বৃদ্ধিকারক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।