ব্যবহার
এটি একটি বহু উপাদানের খাদ্য সম্পূরক, যেখানে প্রাকৃতিক ভেষজ নির্যাসের সাথে অ্যামিনো অ্যাসিড (প্রোটিনের গঠন উপাদান), ভিটামিন ও খনিজ মেশানো থাকে। সাধারণ স্বাস্থ্য ও শক্তি বজায় রাখতে, অসুখ থেকে সেরে ওঠার সময়, ক্লান্তি ও কম সহনশক্তিতে এবং খাবারে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেলে এটি ব্যবহৃত হয়। এটি কোনো রোগের চিকিৎসা নয়। ভেষজ উপাদান ও পরিমাণ পণ্যভেদে আলাদা, তাই সবসময় লেবেল পড়ুন।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন ও খনিজ শরীরকে খাবার থেকে শক্তি তৈরিতে সাহায্য করে, স্নায়ু, পেশি, রক্ত ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিক রাখে এবং কোষকে রক্ষা করে। অ্যামিনো অ্যাসিড পেশি ও টিস্যু মেরামতে সাহায্য করে। ভেষজ নির্যাসগুলো প্রথাগত টনিক বা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের জন্য দেওয়া হয়, যদিও অনেকগুলোর পক্ষে প্রমাণ সীমিত।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী খান, সাধারণত দিনে একবার খাবারের পর এক গ্লাস পানি দিয়ে। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য মাল্টিভিটামিন খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আয়রন, ক্যালসিয়াম, জিংক ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো খনিজ লেভোথাইরক্সিন এবং সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও ডক্সিসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমাতে পারে, তাই এই ঔষধগুলো অন্তত ২ থেকে ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। ভিটামিন K ওয়ারফারিনের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু ভেষজ (যেমন জিনসেং বা জিঙ্কো) রক্ত পাতলা করার ঔষধ, ডায়াবেটিসের ঔষধ বা ঘুমের ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- শরীরে আয়রনের আধিক্য, রক্তে উচ্চ ক্যালসিয়াম বা উচ্চ ভিটামিন A থাকলে।
- গুরুতর কিডনি বা লিভারের রোগ, যদি না চিকিৎসক অনুমতি দেন।
- শিশুরা, যদি না লেবেলে উপযুক্ত বলা থাকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হালকা বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা, মুখে অস্বাদ এবং উজ্জ্বল হলুদ প্রস্রাব (ভিটামিন B2 এর কারণে, ক্ষতিকর নয়) হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, সারা শরীরে র্যাশ উঠলে, অথবা বমিসহ তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কিছু ভেষজ উপাদান গর্ভাবস্থায় নিরাপদ কিনা জানা নেই, আর বেশি ভিটামিন A গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাবেন না; এ সময় সাধারণত গর্ভকালীন বিশেষ ভিটামিন ভালো।
সতর্কতা
সম্পূরক সুষম খাবারের বিকল্প নয়। দীর্ঘদিনের ক্লান্তি, ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা থাকলে চিকিৎসক দেখান। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসককে জানান যে আপনি ভেষজ সম্পূরক খাচ্ছেন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন, কারণ সম্পূরকের আয়রন তাদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। শিশু ভুলবশত অনেকগুলো ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে আয়রন থাকলে, এটি জরুরি অবস্থা: প্যাকেটসহ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাদ্য সম্পূরক (অ্যামিনো অ্যাসিড, ভিটামিন ও খনিজসহ ভেষজ নির্যাস)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।