বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Neomycin Sulphate

  • 199 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 72 টি কোম্পানি

ব্যবহার

নিওমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ছোট কাটা, ছড়ে যাওয়া, পোড়া ও ক্ষতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এটি মূলত ত্বক, চোখ ও কানে ব্যবহার করা হয়, প্রায়ই অন্য ঔষধের সাথে মিলিয়ে। এছাড়া অন্ত্রের অপারেশনের আগে পেটের জীবাণু কমাতে এবং লিভারের গুরুতর রোগে মস্তিষ্কের বিভ্রান্তি (হেপাটিক এনকেফালোপ্যাথি) নিয়ন্ত্রণে ডাক্তার অল্প দিনের জন্য এর ট্যাবলেট দেন।

কীভাবে কাজ করে

নিওমাইসিন অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড শ্রেণির অ্যান্টিবায়োটিক। এটি ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োজনীয় প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে জীবাণু মেরে ফেলে। পেট বা অক্ষত ত্বক থেকে খুব সামান্যই রক্তে যায়, তাই যেখানে লাগানো হয় বা অন্ত্রের ভেতরেই এটি মূলত কাজ করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

  • ক্রিম, মলম বা পাউডার: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ১ থেকে ৩ বার পাতলা করে লাগান। ডাক্তার বেশি দিন না বললে সাধারণত ৭ দিনের বেশি নয়।
  • চোখ বা কানের ড্রপ: প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
  • ট্যাবলেট: শুধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, অল্প দিনের জন্য।

লাগানোর আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন। ত্বকের বড় অংশের খোলা ক্ষতে ব্যবহার করবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

নিওমাইসিন রক্তে গেলে (ট্যাবলেট বা বড় ক্ষতে ব্যবহারে) জেন্টামাইসিন ও অ্যামিকাসিনের মতো অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, ভ্যানকোমাইসিন ও সাইক্লোস্পোরিনের সাথে মিলে কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি বাড়াতে পারে। ট্যাবলেট ডিগক্সিন ও ফেনক্সিমিথাইলপেনিসিলিনের শোষণ কমাতে পারে, ওয়ারফারিনের কাজ বাড়াতে পারে এবং অজ্ঞান করার সময় ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

  • নিওমাইসিন বা অন্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে।
  • ট্যাবলেট: অন্ত্রে বাধা (অবস্ট্রাকশন) বা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (মাংসপেশি দুর্বলতার রোগ) থাকলে।
  • কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফুটো থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ত্বকে: চুলকানি, লালচে ভাব বা র‍্যাশ, যা বিশেষ করে দীর্ঘদিন ব্যবহারে এলার্জির লক্ষণ হতে পারে। ট্যাবলেটে: বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া।

কানে কম শোনা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ বা মাথা ঘোরা, স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট, অথবা তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় নিওমাইসিন ট্যাবলেট এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ রক্তে যাওয়া অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড গর্ভের শিশুর শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে। ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প দিন ব্যবহার সাধারণত কম ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়, তবুও আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। ত্বকে ব্যবহারে বুকের দুধে খুব সামান্যই যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

বড় বা গভীর ক্ষতে, বড় পোড়ায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না, কারণ তাতে বেশি ঔষধ রক্তে গিয়ে শ্রবণশক্তি ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। বয়স্ক ও কিডনি রোগীদের বাড়তি সাবধানতা দরকার। ত্বক আরও লাল, চুলকানিযুক্ত বা ফোলা হলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ছত্রাক বা ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণু বাড়তে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

ত্বকে বেশি লাগালে সাধারণত ক্ষতি হয় না। বেশি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি হতে পারে; দ্রুত চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Neomycin Sulphate এর ব্র্যান্ড

9 টি ব্র্যান্ড

Neomycin Sulphate যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

190 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।