ব্যবহার
নিওমাইসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এটি মূলত ত্বকে লাগানো হয়, প্রায়ই ব্যাসিট্রাসিন বা পলিমিক্সিন বি এর মতো অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে, কাটা, ছড়ে যাওয়া, পোড়া ও ক্ষতের ছোটখাটো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে। কিছু চোখ ও কানের ড্রপেও এটি থাকে। অন্ত্রের অপারেশনের আগে অন্ত্রের জীবাণু কমাতে এবং লিভারের গুরুতর রোগে (হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি) ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী এর ট্যাবলেট দেন।
কীভাবে কাজ করে
ব্যাকটেরিয়া বেঁচে থাকার জন্য যে প্রোটিন তৈরি করে, এটি তা বন্ধ করে দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। অন্ত্র বা অক্ষত ত্বকের ছোট জায়গা থেকে খুব কম শোষিত হয়, তাই এটি মূলত যেখানে লাগানো হয় সেখানেই কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ত্বকের ঔষধ: জায়গাটি পরিষ্কার করে দিনে ১ থেকে ৩ বার পাতলা করে লাগান, সাধারণত ডাক্তার অন্য কিছু না বললে ৭ থেকে ১০ দিনের বেশি নয়। চোখ ও কানের ঔষধ: প্যাকেট বা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। ট্যাবলেট: শুধু ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী; মাত্রা ও সময়কাল রোগের ওপর নির্ভর করে। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শোষিত হলে (ট্যাবলেট, বা ত্বকের বড় বা ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় লাগালে) কিডনি বা কানে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধের সাথে কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে, যেমন জেন্টামাইসিন ও অন্যান্য অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড, ফুরোসেমাইড, ভ্যানকোমাইসিন, সাইক্লোস্পোরিন ও অ্যামফোটেরিসিন বি।
- ট্যাবলেট ডিগক্সিন ও পেনিসিলিন ভি এর শোষণ কমাতে পারে এবং ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- শোষিত নিওমাইসিন অপারেশনের সময় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- নিওমাইসিন বা অন্য কোনো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে।
- কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফুটো থাকলে।
- ট্যাবলেট: অন্ত্রে বাধা, বা মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (পেশি দুর্বলতার একটি রোগ) থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকের ঔষধ: চুলকানি, লাল হওয়া, জ্বালা বা র্যাশ। ত্বকের এলার্জির (কন্টাক্ট এলার্জি) একটি বেশ সাধারণ কারণ হলো নিওমাইসিন, যাতে ত্বক ভালো না হয়ে আরও খারাপ দেখাতে পারে। ট্যাবলেট: বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া। বেশি শোষিত হলে: শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ এবং কিডনির ক্ষতি।
নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে চিকিৎসা নিন:
- কানে কম শোনা, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বা মাথা ঘোরা ও ভারসাম্য হারানো।
- স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব হওয়া, বা পা ফুলে যাওয়া।
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, বা ছড়িয়ে পড়া মারাত্মক র্যাশ।
- মারাত্মক বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ট্যাবলেট এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ শোষিত নিওমাইসিন শিশুর শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে। ত্বকের ছোট জায়গায় অল্প দিনের ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ছোট জায়গায় অল্প দিনের ব্যবহার সাধারণত চলে; স্তনে লাগাবেন না। ট্যাবলেট খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- ডাক্তার না বললে ত্বকের বড় জায়গা, গভীর ক্ষত বা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ত্বকে, বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না।
- ত্বক আরও লাল, চুলকানিযুক্ত বা ফোলা হলে ব্যবহার বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- কিডনির রোগে, বয়স্কদের এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- দীর্ঘ ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বেড়ে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অল্প মলম গিলে ফেললে সাধারণত ক্ষতি হয় না। বেশি ট্যাবলেট খেলে কিডনি ও শ্রবণশক্তির ক্ষতি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসে প্রভাব ফেলে এমন পেশি দুর্বলতা হতে পারে; জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে অন্য কিছু লেখা না থাকলে চোখ বা কানের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর আর ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।