ব্যবহার
নিক্লোসামাইড অন্ত্রের ফিতাকৃমি সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে গরুর মাংসের ফিতাকৃমি (টিনিয়া স্যাজিনাটা), শূকরের মাংসের ফিতাকৃমি (টিনিয়া সোলিয়াম), মাছের ফিতাকৃমি (ডাইফাইলোবোথ্রিয়াম লাটাম) এবং বামন ফিতাকৃমি (হাইমেনোলেপিস নানা) রয়েছে।
কীভাবে কাজ করে
নিক্লোসামাইড অন্ত্রের ভেতরে কাজ করে এবং শরীরে প্রায় শোষিত হয় না। এটি ফিতাকৃমির শক্তি তৈরি ও গ্লুকোজ গ্রহণ বন্ধ করে দেয়, ফলে কৃমির মাথা (স্কোলেক্স) ও খণ্ডগুলো মারা যায়। মরা কৃমি আংশিক হজম হয়ে মলের সাথে বের হয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- গরু, শূকর ও মাছের ফিতাকৃমি, প্রাপ্তবয়স্ক: একক মাত্রায় ২ g (সাধারণত ৫০০ mg এর ৪টি ট্যাবলেট), হালকা নাশতার পরে।
- বামন ফিতাকৃমি, প্রাপ্তবয়স্ক: প্রথম দিন ২ g, তারপর পরবর্তী ৬ দিন দিনে ১ g।
ট্যাবলেট ভালোভাবে চিবিয়ে বা গুঁড়া করে অল্প পানি দিয়ে খান। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। শূকরের ফিতাকৃমির ক্ষেত্রে মরা খণ্ড দ্রুত বের করতে ডাক্তার সেবনের প্রায় ২ ঘণ্টা পর জোলাপ দিতে পারেন। পরামর্শ ছাড়া চিকিৎসা পুনরাবৃত্তি করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব কম শোষিত হয় বলে গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঔষধ প্রতিক্রিয়া জানা নেই। চিকিৎসার দিন ও পরের দিন অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এতে শোষণ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- নিক্লোসামাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- গোলকৃমি বা সুতাকৃমির মতো অন্য কৃমিতে এটি কাজ করে না, তাই সেগুলোর জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম ও হালকা: বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, ক্ষুধামান্দ্য, ডায়রিয়া, মাথা হালকা লাগা, চুলকানি বা র্যাশ।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শূকরের ফিতাকৃমির ক্ষেত্রে তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি বা দৃষ্টির সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তার দেখান, কারণ এটি মস্তিষ্কে লার্ভা (সিস্টিসারকোসিস) এর লক্ষণ হতে পারে, যার আলাদা চিকিৎসা লাগে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নিক্লোসামাইড কম শোষিত হয় এবং ফিতাকৃমির তুলনামূলক নিরাপদ চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয়, তবে গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই ব্যবহার করা উচিত যখন ডাক্তার মনে করেন চিকিৎসা অপেক্ষা করতে পারে না। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বুকের দুধে যাওয়ার সম্ভাবনা কম; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
- শূকরের ফিতাকৃমিতে ক্ষতিগ্রস্ত খণ্ড থেকে বের হওয়া ডিম সিস্টিসারকোসিস ঘটাতে পারে; ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং পরামর্শ অনুযায়ী জোলাপ এই ঝুঁকি কমায়।
- চিকিৎসার পর মল পরীক্ষা করে সংক্রমণ সেরেছে কি না নিশ্চিত হওয়া হয়।
- টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন; পরিবারের সদস্যদেরও পরীক্ষা লাগতে পারে।
- পুনরায় সংক্রমণ এড়াতে গরু, শূকরের মাংস ও মাছ ভালোভাবে রান্না করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কম শোষিত হয় বলে অতিরিক্ত মাত্রা সাধারণত গুরুতর নয়, তবে পেটের অস্বস্তি ও বমি হতে পারে। জোলাপের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কৃমিনাশক; ফিতাকৃমিনাশক ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।