বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Nicorandil

  • 7 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 4 টি কোম্পানি

ব্যবহার

নিকোরান্ডিল দীর্ঘমেয়াদি (স্থিতিশীল) এনজাইনা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এনজাইনা হলো হৃৎপেশিতে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে বুকে ব্যথা। বিটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের মতো অন্য ঔষধ উপযুক্ত না হলে বা যথেষ্ট কাজ না করলে সাধারণত এটি দেওয়া হয়। এটি শুরু হয়ে যাওয়া এনজাইনার আক্রমণ থামায় না।

কীভাবে কাজ করে

নিকোরান্ডিলের দুটি কাজ আছে। এটি রক্তনালির পেশিতে পটাশিয়াম চ্যানেল খুলে দেয় এবং নাইট্রেটের মতো নাইট্রিক অক্সাইড মুক্ত করে। দুটি কাজই হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী করোনারি ধমনীসহ ধমনী ও শিরাকে শিথিল ও চওড়া করে। এতে হৃৎপিণ্ডের কাজের চাপ কমে ও রক্ত সরবরাহ বাড়ে, ফলে এনজাইনা প্রতিরোধ হয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শুরুর মাত্রা ১০ mg দিনে ২ বার, মাথাব্যথার প্রবণতা থাকলে ৫ mg দিনে ২ বার। চিকিৎসক এটি ১০ থেকে ২০ mg দিনে ২ বার, প্রয়োজনে ৩০ mg দিনে ২ বার পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। ট্যাবলেট পানি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খান, খাবারের সাথে বা ছাড়া। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট ব্লিস্টারেই রাখুন। হঠাৎ এনজাইনার আক্রমণে নির্দেশমতো দ্রুত কার্যকর নাইট্রেট স্প্রে বা জিভের নিচের ট্যাবলেট ব্যবহার করুন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল বা রিওসিগুয়াটের সাথে নিকোরান্ডিল খাবেন না, কারণ রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। অন্য রক্তচাপের ঔষধ, নাইট্রেট, অ্যালকোহল ও কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট রক্তচাপ আরও কমায়। অ্যাসপিরিন, এনএসএআইডি বা প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েডের সাথে নিলে পরিপাকতন্ত্রে ঘা ও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো পটাশিয়াম বাড়ানো ঔষধ পটাশিয়াম আরও বাড়াতে পারে।

কারা খাবেন না

নিকোরান্ডিলে অ্যালার্জি, খুব কম রক্তচাপ, কার্ডিওজেনিক শক, তীব্র হার্ট ফেইলিউর বা রক্তের পরিমাণ কম, ফুসফুসে হঠাৎ পানি জমা থাকলে, অথবা পিডিই৫ ইনহিবিটর বা রিওসিগুয়াট খেলে এটি ব্যবহার করবেন না। কিছু ক্ষেত্রে পটাশিয়াম কম থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো এটি এড়িয়ে চলা উচিত।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মাথাব্যথা, বিশেষ করে প্রথম কয়েক দিনে; সাধারণত সময়ের সাথে কমে যায়। এছাড়া মাথা ঘোরা, মুখ লাল হওয়া, বমিভাব, বমি ও দুর্বলতা হতে পারে। কম দেখা যায় কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ হলো মুখ, অন্ত্র, মলদ্বার, ত্বক বা চোখে ঘা, যা অনেক সময় ঔষধ বন্ধ করলেই সারে, এবং রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া।

মুখ, মলদ্বার বা অন্য জায়গায় ঘা, মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত বা কালো মল, অজ্ঞান হওয়া বা তীব্র মাথা ঘোরা, স্বাভাবিক চিকিৎসায় না কমা বুকে ব্যথা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় নিকোরান্ডিলের তথ্য কম, তাই চিকিৎসক প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলা ভালো। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি পরামর্শ করা হয় না।

সতর্কতা

ঔষধ খাওয়ার সময় কোনো ঘা বা রক্তপাত হলে চিকিৎসককে জানান। কম রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিউর, ডাইভার্টিকুলার রোগ, পটাশিয়াম কম বা বেশি, অথবা G6PD ঘাটতি থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘোরাতে পারে, তাই প্রভাব না বুঝে গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

মাত্রাতিরিক্ত সেবনে খুব কম রক্তচাপ, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মুখ লাল হওয়া ও অজ্ঞান হওয়া হতে পারে। রোগীকে পা উঁচু করে শুইয়ে দিন এবং জরুরি চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

এনজাইনাবিরোধী ঔষধ, নাইট্রেট কার্যকারিতাসহ পটাশিয়াম চ্যানেল ওপেনার।

সংরক্ষণ

২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, শুকনো স্থানে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহারের আগ পর্যন্ত ট্যাবলেট মূল ব্লিস্টারেই রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Nicorandil এর ব্র্যান্ড

7 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।