ব্যবহার
নিফেডিপিন উচ্চ রক্তচাপ চিকিৎসায় এবং বুকে ব্যথা (অ্যানজাইনা) প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। ঠাণ্ডায় হাত-পায়ের আঙুল সাদা ও ব্যথা হওয়া (রেনোর সমস্যা) এবং কিছু অন্য ক্ষেত্রে ডাক্তারের নির্দেশে এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার। এটি ধমনীর দেয়ালের পেশি শিথিল করে সেগুলোকে প্রশস্ত করে। এতে রক্তচাপ কমে এবং হৃদ্পেশিতে রক্ত চলাচল ভালো হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- দিনে দুইবারের দীর্ঘমেয়াদি ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে দুইবার ১০ থেকে ২০ mg, ডাক্তারের পরামর্শে দিনে দুইবার ৪০ mg পর্যন্ত।
- দিনে একবারের দীর্ঘস্থায়ী ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে একবার ২০ থেকে ৩০ mg, প্রয়োজনে ডাক্তার বাড়াতে পারেন (দিনে সর্বোচ্চ ৯০ mg)।
- স্বল্পস্থায়ী ক্যাপসুল ও অন্যান্য ব্যবহার: শুধু ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
দীর্ঘমেয়াদি ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; গুঁড়া করবেন না বা চিবাবেন না। প্রতিদিন একই সময়ে খান। আঙ্গুরফল (গ্রেপফ্রুট) ও এর জুস এড়িয়ে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
গ্রেপফ্রুট জুস, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল ও কিছু এইচআইভির ঔষধ এর মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফাম্পিসিন, ফেনিটোইন, কারবামাজেপিন ও ফেনোবার্বিটাল এর কাজ অনেক কমিয়ে দিতে পারে; রিফাম্পিসিনের সাথে খাবেন না। অন্য রক্তচাপের ঔষধ ও মদ রক্তচাপ আরও কমায়। এটি ডিজক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- নিফেডিপিন বা এ জাতীয় ঔষধে এলার্জি থাকলে।
- কার্ডিওজেনিক শক, খুব কম রক্তচাপ বা অ্যাওর্টিক ভাল্ভ খুব সরু হলে।
- অস্থিতিশীল অ্যানজাইনা, বা হার্ট অ্যাটাকের এক মাসের মধ্যে।
- রিফাম্পিসিনের সাথে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, মুখ লাল হওয়া, গরম লাগা, মাথা ঘোরা, গোড়ালি ফোলা, বুক ধড়ফড় ও ক্লান্তি, প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব এবং দীর্ঘদিন খেলে মাড়ি ফুলে যেতে পারে।
বুকে ব্যথা বেড়ে গেলে বা ডোজের পরপরই শুরু হলে, অজ্ঞান হলে, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপে ডাক্তার কখনও কখনও নিফেডিপিন দেন, তবে শুধু এই উদ্দেশ্যে প্রেসক্রাইব করলেই ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না। ধীরে উঠে দাঁড়ান। হার্ট ফেইলিউর, কম রক্তচাপ, যকৃতের রোগ ও ডায়াবেটিসে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। কিছু দীর্ঘস্থায়ী ট্যাবলেটের খালি খোসা পায়খানার সাথে বের হতে পারে, এটি স্বাভাবিক। বয়স্কদের কম মাত্রা লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে খুব কম রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা দ্রুত হওয়া এবং রক্তে চিনি বেড়ে যেতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (ডাইহাইড্রোপাইরিডিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে (ট্যাবলেট মূল প্যাকে রাখুন) ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।