ব্যবহার
নিলোটিনিব একটি টার্গেটেড ক্যান্সার চিকিৎসার ঔষধ। ফিলাডেলফিয়া ক্রোমোজোম পজিটিভ ক্রনিক মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (CML), এক ধরনের রক্তের ক্যান্সারে প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুদের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়, নতুন রোগনির্ণয় হওয়া রোগীদের এবং যাদের ক্ষেত্রে আগের চিকিৎসা (যেমন ইমাটিনিব) কাজ করেনি বা সহ্য হয়নি তাদের জন্য।
কীভাবে কাজ করে
CML এ একটি অস্বাভাবিক জিন BCR-ABL টাইরোসিন কাইনেজ নামের ত্রুটিপূর্ণ এনজাইম তৈরি করে, যা ক্যান্সার কোষকে বাড়তে বাধ্য করে। নিলোটিনিব এই এনজাইম আটকে দেয়, ফলে লিউকেমিয়া কোষের বৃদ্ধি ধীর হয় বা থেমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো ঠিকভাবে খান। সাধারণত দিনে দুইবার, প্রায় ১২ ঘণ্টা পরপর, খালি পেটে খেতে হয়: প্রতিটি ডোজের ২ ঘণ্টা আগে ও ১ ঘণ্টা পরে কিছু খাবেন না, কারণ খাবার শোষণ ও হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়। ক্যাপসুল পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। নিজে মাত্রা বদলাবেন না বা বন্ধ করবেন না। নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা ও ইসিজি দরকার।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
জাম্বুরা ও জাম্বুরার রস এড়িয়ে চলুন। কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভির এর মাত্রা বাড়ায়; রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট কমায়। অ্যামিওডারোন, সোটালল, হ্যালোপেরিডল ও মেথাডোনের মতো QT বাড়ানো ঔষধ এড়িয়ে চলুন। অ্যান্টাসিড ও অ্যাসিড কমানোর ঔষধ সময় ব্যবধান রেখে খেতে হতে পারে। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- নিলোটিনিব বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম এবং তা ঠিক করা হয়নি এমন অবস্থায়
- লং QT সিনড্রোম থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
র্যাশ, চুলকানি, মাথাব্যথা, বমি ভাব, ক্লান্তি, পেশি ও গিঁটে ব্যথা, চুল পাতলা হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, রক্তের কণিকা কমে যাওয়া, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরল বাড়া এবং যকৃৎ ও অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম বাড়া সাধারণ। দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক বা পায়ের ধমনি সরু হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অজ্ঞান হওয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, হঠাৎ দুর্বলতা বা অবশ ভাব, পেটে তীব্র ব্যথা, রক্তপাতের লক্ষণ, জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ, অথবা চোখ বা ত্বক হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নিলোটিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। নারীদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ২ সপ্তাহ নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর অন্তত ২ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসক পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ইসিজি, রক্তের কণিকা, যকৃতের পরীক্ষা, রক্তে শর্করা ও চর্বি পরীক্ষা করবেন। হৃদযন্ত্র, যকৃৎ বা অগ্ন্যাশয়ের রোগ, অথবা আগে পাকস্থলীর অপারেশন হয়ে থাকলে জানান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তের কণিকা কমা, বমি ও ঝিমুনি হতে পারে এবং হৃৎস্পন্দনে প্রভাব পড়তে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী; টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মূল প্যাকে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।