ব্যবহার
নাইট্রোফুরানটোইন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ই. কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত জটিলতাহীন নিচের মূত্রনালীর সংক্রমণ (সিস্টাইটিস বা মূত্রথলির সংক্রমণ) চিকিৎসায় এবং যাদের বারবার সংক্রমণ হয় তাদের প্রতিরোধে ব্যবহার হয়। কিডনির সংক্রমণ (পায়েলোনেফ্রাইটিস) বা রক্তে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে এটি উপযুক্ত নয়, কারণ মূত্রথলির বাইরে এর মাত্রা বেশি হয় না। এই পণ্যে মাইক্রোক্রিস্টালাইন রূপ থাকে, প্রায়ই ধীরে নিঃসরণকারী ক্যাপসুলে।
কীভাবে কাজ করে
নাইট্রোফুরানটোইন প্রস্রাবে ঘনীভূত হয়। সেখানে ব্যাকটেরিয়ার এনজাইম এটিকে প্রতিক্রিয়াশীল পদার্থে পরিণত করে, যা ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ, প্রোটিন ও কোষপ্রাচীর ক্ষতি করে ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে। একসাথে কয়েকটি লক্ষ্যে আঘাত করে বলে প্রতিরোধ ধীরে তৈরি হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের চিকিৎসায় ধীরে নিঃসরণকারী রূপের প্রচলিত মাত্রা দিনে দুবার ১০০ mg করে ৩ থেকে ৭ দিন, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শমতো; অন্য রূপের সূচি আলাদা। প্রতিরোধে সাধারণত কম মাত্রা রাতে ঘুমানোর আগে একবার, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। খাবার বা দুধের সাথে খান, এতে শোষণ বাড়ে ও পেটের অস্বস্তি কমে। ক্যাপসুল আস্ত গিলুন। কোর্স শেষ করুন ও প্রচুর পানি পান করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ম্যাগনেসিয়াম ট্রাইসিলিকেটযুক্ত অ্যান্টাসিড: শোষণ কমায়; একসাথে খাবেন না।
- প্রোবেনেসিড ও সালফিনপাইরাজোন: প্রস্রাবে পৌঁছানো পরিমাণ কমাতে ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- প্রস্রাব ক্ষারীয় করে এমন ঔষধ (যেমন পটাসিয়াম সাইট্রেট): কার্যকারিতা কমায়।
- জীবন্ত মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকা: কম কার্যকর হতে পারে।
- কিছু প্রস্রাবের গ্লুকোজ পরীক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- কিডনির কার্যক্ষমতা কম থাকলে (সাধারণত eGFR ৪৫ ml/min এর নিচে, বা চিকিৎসকের বিবেচনায়), কারণ তখন এটি ভালো কাজ করে না ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ে।
- G6PD ঘাটতি (হিমোলাইসিসের ঝুঁকি)।
- গর্ভাবস্থার শেষ পর্যায় (৩৮ থেকে ৪২ সপ্তাহ), প্রসবের সময় এবং ৩ মাসের কম বয়সী শিশু।
- আগে নাইট্রোফুরানটোইনজনিত লিভার সমস্যা বা ফুসফুসের প্রতিক্রিয়া।
- নাইট্রোফুরানটোইন বা অন্য নাইট্রোফুরানে অ্যালার্জি।
- অ্যাকিউট পোরফাইরিয়া।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ঘুমঘুম ভাব হতে পারে। প্রস্রাব গাঢ় হলুদ বা বাদামি হতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়। কম ক্ষেত্রে র্যাশ, ডায়রিয়া বা চুল পাতলা হওয়া। কদাচিৎ, বিশেষ করে দীর্ঘ ব্যবহারে, ফুসফুসের প্রদাহ, লিভারের ক্ষতি বা স্নায়ুর ক্ষতি হতে পারে।
হঠাৎ জ্বর, কাঁপুনি, কাশি, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট; ত্বক বা চোখ হলুদ, ফ্যাকাশে মলসহ গাঢ় প্রস্রাব বা তীব্র ক্লান্তি; হাত-পায়ে অবশভাব, ঝিনঝিন বা দুর্বলতা; তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া; অথবা মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক প্রেসক্রাইব করলে গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা যায়, তবে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে ও প্রসবকালে এড়াতে হবে, কারণ এটি নবজাতকের হিমোলাইসিস ঘটাতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; ১ মাসের কম বয়সী বা G6PD ঘাটতিযুক্ত শিশুকে দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে চলুন ও চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসায় থাকলে নিয়মিত ফুসফুস ও লিভারের পরীক্ষা দরকার, এবং শ্বাসের সমস্যা, কাশি বা ঝিনঝিন হলে জানান। বয়স্ক এবং ডায়াবেটিস, রক্তস্বল্পতা, ভিটামিন বি ঘাটতি বা লবণের ভারসাম্যহীনতা আছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ এতে স্নায়ুর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। ২ থেকে ৩ দিনে উপসর্গ না কমলে চিকিৎসক দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি ও পেটের অস্বস্তি হতে পারে। চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন; বেশি পানি পান করলে ঔষধ দ্রুত বের হয়ে যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রনালীর ব্যাকটেরিয়ানাশক (নাইট্রোফুরান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।