ব্যবহার
নাইট্রোফুরাজোন ত্বকে লাগানোর একটি জীবাণুনাশক ঔষধ। পোড়া, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার পোড়া, ত্বক প্রতিস্থাপন (স্কিন গ্রাফট), ক্ষত, ঘা ও সংক্রমণের ঝুঁকি আছে এমন ত্বকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয়। এটি সাধারণত মলম, ক্রিম বা ড্রেসিং আকারে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
নাইট্রোফুরাজোন নাইট্রোফুরান গোত্রের ঔষধ। ব্যাকটেরিয়ার শক্তি উৎপাদন ও কোষ গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইমে এটি বাধা দেয়, ফলে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি থেমে যায় এবং অনেকগুলো মারা যায়। স্ট্যাফিলোককাসসহ ত্বকের অনেক সাধারণ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এটি কাজ করে, তবে সূডোমোনাসের মতো কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রায়ই প্রতিরোধী।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের পরামর্শ বা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। ক্ষত পরিষ্কার করার পর আক্রান্ত স্থানে বা ড্রেসিংয়ের ওপর পাতলা করে লাগানো হয়, ক্ষতের ধরন ও ড্রেসিং অনুযায়ী সাধারণত দিনে একবার বা কয়েক দিন পরপর। পোড়া ও বড় ক্ষতের যত্ন চিকিৎসক বা নার্সের মাধ্যমে হওয়া উচিত। পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অক্ষত ত্বক দিয়ে খুব কম শোষিত হয় বলে মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় অন্য ক্রিম বা এন্টিসেপটিক একই সময়ে লাগাবেন না, এতে কার্যকারিতা কমতে পারে।
কারা খাবেন না
- নাইট্রোফুরাজোন বা অন্য নাইট্রোফুরানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ সমস্যা হলো ত্বকে জ্বালা বা অ্যালার্জিক কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, অর্থাৎ লাগানোর জায়গার চারপাশে লালচে ভাব, চুলকানি, র্যাশ বা ফোলা; বেশি দিন ব্যবহার করলে এর সম্ভাবনা বাড়ে। দীর্ঘ ব্যবহারে প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জন্মাতে পারে। বড় পোড়ায় ব্যবহার করলে কিছু পণ্যের ভিত্তি উপাদান (পলিইথিলিন গ্লাইকল) শোষিত হয়ে কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, ফোসকা, মুখ বা ঠোঁট ফোলা, শ্বাসকষ্ট, অথবা জ্বর, ব্যথা বাড়া, পুঁজ বা লাল দাগের মতো সংক্রমণ বাড়ার লক্ষণ দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা ভালোভাবে প্রমাণিত নয়; বিশেষ করে বড় জায়গায়, চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ ও মুখে যেন না লাগে।
- কিডনির সমস্যা থাকলে বড় পোড়ায় শুধু ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করুন।
- জ্বালা বা র্যাশ হলে বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান।
- অ্যালার্জি ও প্রতিরোধী জীবাণুর ঝুঁকি কমাতে যত কম সময় প্রয়োজন তত কম সময় ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি ব্যবহারে মূলত জ্বালা ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে। খেয়ে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য জীবাণুনাশক, নাইট্রোফুরান।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। সরাসরি রোদ ও তীব্র তাপে রং বদলাতে পারে, তাই এড়িয়ে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।