ব্যবহার
নাইট্রোগ্লিসারিন (গ্লিসারিল ট্রাইনাইট্রেট নামেও পরিচিত) ব্যবহার হয়:
- এনজাইনার টান (হৃৎপিণ্ডের সরু রক্তনালির কারণে বুকে ব্যথা) দ্রুত উপশমে
- যে কাজে সাধারণত এনজাইনা হয়, তার ঠিক আগে এনজাইনা প্রতিরোধে
- দীর্ঘমেয়াদে এনজাইনা প্রতিরোধে (দীর্ঘক্ষণ কাজ করা ট্যাবলেট, প্যাচ বা মলম)
- হাসপাতালে স্যালাইন হিসেবে ফুসফুসে পানি জমাসহ হার্ট ফেইলিউর, অস্থিতিশীল এনজাইনা এবং অপারেশনের সময় রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে
কীভাবে কাজ করে
নাইট্রোগ্লিসারিন শরীরে নাইট্রিক অক্সাইড ছাড়ে, যা রক্তনালিকে শিথিল ও প্রশস্ত করে। এতে হৃৎপিণ্ডের কাজের চাপ কমে এবং হৃৎপেশিতে রক্ত চলাচল বাড়ে, ফলে বুকের ব্যথা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- জিভের নিচের স্প্রে (সাধারণত প্রতি স্প্রেতে ৪০০ মাইক্রোগ্রাম): বুকে ব্যথা শুরু হলে বসে পড়ুন এবং জিভের নিচে ১ বা ২ বার স্প্রে করে মুখ বন্ধ করুন। স্প্রে শ্বাসের সাথে টানবেন না।
- জিভের নিচের ট্যাবলেট: ব্যথা শুরু হলে ১টি ট্যাবলেট জিভের নিচে গলতে দিন; গিলে ফেলবেন না।
- প্রথম ডোজের ৫ মিনিট পরও ব্যথা না কমলে দ্বিতীয় ডোজ নিন। দ্বিতীয় ডোজের ৫ মিনিট পরও ব্যথা থাকলে সাথে সাথে জরুরি সাহায্য নিন বা হাসপাতালে যান।
- দীর্ঘক্ষণ কাজ করা ট্যাবলেট, প্যাচ ও মলম: ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। ঔষধ যেন কাজ করতে থাকে, সেজন্য প্যাচ প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা (প্রায়ই রাতে) খুলে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স নিয়ন্ত্রিত স্যালাইন হিসেবে শিরায় দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল বা অ্যাভানাফিল (যৌন সমস্যা বা ফুসফুসের রক্তচাপের ঔষধ) অথবা রিওসিগুয়াটের সাথে কখনোই ব্যবহার করবেন না। একসাথে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
- অন্য রক্তচাপের ঔষধ, প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও মদ মাথা ঘোরা ও নিম্ন রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
- স্যালাইন হিসেবে দিলে এটি হেপারিনের প্রভাব কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- নাইট্রেট জাতীয় ঔষধে অ্যালার্জি
- খুব কম রক্তচাপ, শক বা ভেঙে পড়া
- যারা সিলডেনাফিল, টাডালাফিল, ভারডেনাফিল, অ্যাভানাফিল বা রিওসিগুয়াট খাচ্ছেন
- কিছু হৃদরোগ, যেমন হৃৎপিণ্ডের ভাল্ভ খুব সরু হওয়া (অ্যাওর্টিক বা মাইট্রাল স্টেনোসিস), হাইপারট্রফিক অবস্ট্রাক্টিভ কার্ডিওমায়োপ্যাথি, কনস্ট্রিকটিভ পেরিকার্ডাইটিস বা হৃৎপিণ্ডের চারপাশে তরল জমে চাপ (কার্ডিয়াক ট্যাম্পোনাড)
- মাথার ভেতরে চাপ বেড়ে যাওয়া, মাথায় আঘাত বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পরেও
- তীব্র রক্তস্বল্পতা
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথাব্যথা (প্রায়ই দপদপে, নিয়মিত ব্যবহারে সাধারণত কমে যায়), মুখ লাল হওয়া, বিশেষ করে দাঁড়ালে মাথা ঘোরা বা হালকা লাগা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও বমি বমি ভাব। প্যাচ ও মলমে ত্বকে জ্বালা হতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- ৫ মিনিট পর পর ২ ডোজ নেওয়ার পরও বুকের ব্যথা না কমলে
- অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, বা শুয়ে থাকলেও খুব দুর্বল লাগা
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা গায়ে র্যাশ
- শ্বাসকষ্টের সাথে ঠোঁট বা আঙুলের ডগা নীলচে হওয়া
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; ডাক্তার পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- স্প্রে বা ট্যাবলেট ব্যবহারের আগে সবসময় বসে পড়ুন, কারণ এতে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া হতে পারে।
- ঔষধ সবসময় সাথে রাখুন এবং মেয়াদ পরীক্ষা করুন।
- দীর্ঘমেয়াদি নাইট্রেট হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে এনজাইনা বেড়ে যেতে পারে।
- টানা ব্যবহার করলে শরীর নাইট্রেটে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে (টলারেন্স); পরামর্শমতো বিরতি মেনে চলুন।
- এমআরআই পরীক্ষা বা হার্টের ডিফিব্রিলেটর ব্যবহারের আগে প্যাচ খুলে ফেলুন।
- বয়স্ক, নিম্ন রক্তচাপ, সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক, থাইরয়েডের কম কাজ বা গ্লুকোমা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়।
- মদ মাথা ঘোরা বাড়াতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি হলে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, সাথে অজ্ঞান হওয়া, দপদপে মাথাব্যথা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বমি এবং কদাচিৎ মেথহিমোগ্লোবিনেমিয়া নামের রক্তের সমস্যায় ত্বক নীলচে হতে পারে। রোগীকে পা উঁচু করে শুইয়ে দিন এবং সাথে সাথে জরুরি সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নাইট্রেট রক্তনালি প্রসারক, এনজাইনারোধী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জিভের নিচের ট্যাবলেট মূল পাত্রে ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন এবং খোলার পর প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী বদলে নিন। স্প্রে দাহ্য: ক্যান ফুটো করবেন না বা পোড়াবেন না এবং আগুন থেকে দূরে রাখুন। প্যাচ ব্যবহারের আগ পর্যন্ত সিল করা প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।