ব্যবহার
নরঅ্যাড্রিনালিন (নরএপিনেফ্রিন নামেও পরিচিত) একটি জরুরি হাসপাতালের ঔষধ, যা তীব্র নিম্ন রক্তচাপে (শক) রক্তচাপ বাড়াতে ও ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়, যেমন সেপটিক শক, হার্ট অ্যাটাকের পর বা অস্ত্রোপচার ও অচেতনার সময়। হৃৎস্পন্দন বন্ধ হওয়ার পর পুনরুজ্জীবন চিকিৎসার অংশ হিসেবেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
নরঅ্যাড্রিনালিন একটি প্রাকৃতিক হরমোন ও স্নায়ুর বার্তাবাহক। ঔষধ হিসেবে এটি মূলত রক্তনালীর আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক রিসেপ্টর উদ্দীপিত করে সেগুলোকে সঙ্কুচিত করে, ফলে রক্তচাপ বাড়ে। হৃৎপিণ্ডের বিটা-১ রিসেপ্টরেও এর কিছু প্রভাব আছে, যা হৃৎপিণ্ডকে জোরে পাম্প করতে সাহায্য করে। এতে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড ও কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে রক্তপ্রবাহ বজায় থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নরঅ্যাড্রিনালিন কেবল হাসপাতালে, সাধারণত আইসিইউ বা অপারেশন থিয়েটারে, ডাক্তার বা নার্স দেন। এটি পাতলা করে ইনফিউশন পাম্পের মাধ্যমে শিরায়, সম্ভব হলে বড় সেন্ট্রাল শিরায়, অবিরাম দেওয়া হয়। রক্তচাপ ও রোগীর প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী মিনিটে মিনিটে মাত্রা ঠিক করা হয়, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। এটি হঠাৎ নয়, ধীরে ধীরে বন্ধ করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- MAO ইনহিবিটর, ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট (যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন) ও লিনেজোলিড রক্তচাপে এর প্রভাব অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
- কিছু অচেতনকারক গ্যাস (যেমন হ্যালোথেন) হৃৎস্পন্দনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
- বিটা ব্লকার, অন্য ভাসোপ্রেসর, অক্সিটোসিন ও আরগট ঔষধ রক্তচাপের প্রতিক্রিয়া বদলাতে পারে।
- একই সময়ে দেওয়া সব ঔষধ চিকিৎসা দল পর্যালোচনা করবে।
কারা খাবেন না
- রক্তক্ষরণ বা পানিশূন্যতার কারণে রক্তের পরিমাণ কমে নিম্ন রক্তচাপ হলে, পরিমাণ পূরণের আগে (অল্পক্ষণের জরুরি ব্যবস্থা ছাড়া)।
- হাত-পা বা অন্ত্রের রক্তপ্রবাহ বন্ধকারী রক্ত জমাট থাকলে, জীবন রক্ষার প্রয়োজন ছাড়া।
- নরঅ্যাড্রিনালিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি (কিছু পণ্যে সালফাইট থাকে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মাথাব্যথা, উদ্বেগ, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খুব বেশি রক্তচাপ, শ্বাসকষ্ট, এবং আঙুল, কিডনি বা অন্ত্রে রক্তপ্রবাহ কমে যাওয়া হতে পারে। ইনফিউশন শিরার বাইরে চলে গেলে সেখানে টিস্যুর গুরুতর ক্ষতি হতে পারে।
বুকে ব্যথা, তীব্র মাথাব্যথা, স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা, ঠান্ডা ভাব, রঙ বদলানো বা ফোলা, অথবা ফ্যাকাশে, ঠান্ডা বা নীল আঙুল হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা দলকে জানাতে হবে। স্যালাইনের জায়গায় লিক হলে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়, প্রায়ই ওই জায়গায় ফেনটোলামিন ইনজেকশন দিয়ে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নরঅ্যাড্রিনালিন জরায়ু ও গর্ভের শিশুর রক্তপ্রবাহ কমাতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় কেবল তখনই ব্যবহার করা হয় যখন মায়ের জন্য উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে ডাক্তার পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে বা সাথে রক্তের পরিমাণ পূরণ করতে হবে।
- রক্তচাপ, হৃৎস্পন্দন, প্রস্রাবের পরিমাণ ও স্যালাইনের জায়গা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
- হৃদরোগ, রক্তনালীর রোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা বা বেশি বয়সে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- দ্রবণ বাদামি রঙের হলে বা কণা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় খুব বেশি রক্তচাপ, তীব্র মাথাব্যথা, ধীর হৃৎস্পন্দন, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, বমি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা ফুসফুসে পানি জমা হতে পারে। হাসপাতালের দল ইনফিউশন বন্ধ বা কম করে সহায়ক চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাসোপ্রেসর; সিম্প্যাথোমিমেটিক (ক্যাটেকোলামিন)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য: ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে সুরক্ষিত করে, মূল কার্টনে, প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন। ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।