ব্যবহার
নরফ্লক্সাসিন একটি ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক। মানুষের ক্ষেত্রে এটি মূলত মূত্রনালির সংক্রমণে (সংবেদনশীল জীবাণুজনিত মূত্রথলি ও কিডনির সংক্রমণ) এবং কখনো কখনো জীবাণুজনিত ডায়রিয়া ও প্রোস্টেটের সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়। প্রাণীদের, বিশেষ করে হাঁস-মুরগির অন্ত্র ও শ্বাসনালির জীবাণু সংক্রমণের চিকিৎসার জন্যও নরফ্লক্সাসিনের ওরাল সলিউশন ও পাউডার তৈরি হয়; এসব পশু চিকিৎসার পণ্য মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
নরফ্লক্সাসিন জীবাণুর DNA জাইরেজ ও টপোআইসোমারেজ IV নামের দুটি এনজাইমকে বাধা দেয়, যেগুলো জীবাণুর DNA তৈরি ও বিভাজনে প্রয়োজন। এতে জীবাণু মারা যায়। এটি প্রস্রাবে বেশি ঘনীভূত হয়, তাই মূত্রনালির সংক্রমণে কার্যকর। ভাইরাসের বিরুদ্ধে এটি কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, জটিলতাহীন সিস্টাইটিস: সাধারণত ৪০০ mg দিনে ২ বার ৩ দিন (নারীদের ক্ষেত্রে), অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
- প্রাপ্তবয়স্ক, অন্যান্য মূত্রনালির সংক্রমণ: সাধারণত ৪০০ mg দিনে ২ বার ৭ থেকে ১০ দিন, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
- খালি পেটে, খাবার বা দুধের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। পুরো কোর্স শেষ করুন।
- সাধারণত শিশু ও বেড়ে ওঠা কিশোর-কিশোরীদের দেওয়া হয় না।
- পশু চিকিৎসার পণ্য: খাবার পানি বা খাদ্যে কেবল লেবেল বা ভেটেরিনারি চিকিৎসকের নির্দেশমতো মাত্রায় দিন, এবং চিকিৎসাধীন পাখি বা পশুর মাংস বা ডিম খাদ্য হিসেবে ব্যবহারের আগে নির্ধারিত প্রত্যাহারকাল (উইথড্রয়াল পিরিয়ড) মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টাসিড, ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক, ম্যাগনেসিয়াম, সুক্রালফেট ও দুগ্ধজাত খাবার শোষণ কমায়: এগুলোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগে নরফ্লক্সাসিন খান।
- থিওফাইলিন ও ক্যাফেইন: মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- ওয়ারফারিন: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- আইবুপ্রোফেনের মতো NSAID: খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়ে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড: টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
- অ্যামিওডারোন ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিকের মতো QT ব্যবধান বাড়ানো ঔষধ: হৃৎস্পন্দনের ঝুঁকি।
কারা খাবেন না
- নরফ্লক্সাসিন বা অন্য কোনো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে।
- আগে কুইনোলোন খেয়ে টেন্ডনের সমস্যা হয়ে থাকলে।
- শিশু ও বেড়ে ওঠা কিশোর-কিশোরী, বিশেষজ্ঞ অন্য সিদ্ধান্ত না দিলে।
- গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও ফুসকুড়ি। কম দেখা গেলেও গুরুতর প্রভাবের মধ্যে আছে টেন্ডনে ব্যথা, ফোলা বা ছিঁড়ে যাওয়া (বিশেষ করে গোড়ালির অ্যাকিলিস টেন্ডন), ঝিনঝিন বা অবশ ভাবসহ স্নায়ুর ক্ষতি, মেজাজের পরিবর্তন বা বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, রোদে সংবেদনশীলতা, ক্লস্ট্রিডিওয়েডিস ডিফিসিলজনিত তীব্র ডায়রিয়া, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন ও রক্তে শর্করা কমে যাওয়া।
হঠাৎ টেন্ডনে ব্যথা বা ভর দিতে না পারা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ফোসকাযুক্ত ফুসকুড়ি, তীব্র পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অজ্ঞান হওয়া বা বুক ধড়ফড়, খিঁচুনি বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কুইনোলোন বেড়ে ওঠা গাঁটে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসক নিরাপদ অ্যান্টিবায়োটিক বেছে দেবেন।
সতর্কতা
- টেন্ডনে ব্যথা, হাত বা পায়ে অবশ ভাব বা জ্বালাপোড়ার প্রথম লক্ষণেই ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী, মৃগীরোগ, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, কিডনির সমস্যা, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা বা ডায়াবেটিস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- তীব্র রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন।
- প্রচুর পানি পান করুন। মাথা ঘোরাতে পারে: গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন।
- পশু চিকিৎসার পণ্য মানুষের জন্য ব্যবহার করা যাবে না, এবং প্রত্যাহারকাল শেষ হওয়ার আগে চিকিৎসাধীন প্রাণী খাদ্যশৃঙ্খলে আনা যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমিভাব, বমি, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পশু চিকিৎসার পণ্য মানুষের ঔষধ ও খাবার থেকে আলাদা রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।