ব্যবহার
অক্ট্রিওটাইড হলো সোমাটোস্ট্যাটিনের কৃত্রিম রূপ; সোমাটোস্ট্যাটিন শরীরের একটি হরমোন যা আরও কয়েকটি হরমোনের নিঃসরণ বন্ধ রাখে। অ্যাক্রোমেগালি (গ্রোথ হরমোন বেশি হওয়া) এবং অন্ত্র ও অগ্ন্যাশয়ের কিছু হরমোন তৈরিকারী টিউমার (কার্সিনয়েড টিউমার ও ভিআইপোমা) থেকে হওয়া তীব্র ডায়রিয়া ও মুখ লাল হওয়া নিয়ন্ত্রণে এটি ব্যবহৃত হয়। খাদ্যনালির ফুলে ওঠা শিরা থেকে রক্তপাত ও কিছু অগ্ন্যাশয় ও অন্ত্রের সমস্যায় হাসপাতালেও চিকিৎসক এটি ব্যবহার করতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
এটি সোমাটোস্ট্যাটিন রিসেপ্টরে যুক্ত হয়ে গ্রোথ হরমোন, ইনসুলিন, গ্লুকাগন ও কয়েকটি অন্ত্রের হরমোনের নিঃসরণ কমায়। এতে হরমোনের আধিক্য কমে, অন্ত্রে তরল নিঃসরণ কমে এবং পেটের অঙ্গে রক্তপ্রবাহ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি ইনজেকশন হিসেবে চামড়ার নিচে বা শিরায় দেওয়া হয়; দীর্ঘমেয়াদি রূপ মাসে ১ বার মাংসপেশিতে দেওয়া হয়। চিকিৎসক বা নার্স ইনজেকশন দেন, অথবা ঠিকমতো প্রশিক্ষণের পর রোগী নিজে বাড়িতে দিতে পারেন। রোগ অনুযায়ী চিকিৎসকের নির্দেশমতো মাত্রা দেওয়া হয় এবং লক্ষণ ও রক্ত পরীক্ষা দেখে বদলানো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি সাইক্লোস্পোরিনের শোষণ কমাতে পারে এবং রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বদলাতে পারে, তাই ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের মাত্রা বদলানো লাগতে পারে। বিটা ব্লকার বা ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারের সাথে হৃৎস্পন্দন ধীর হতে পারে। ব্রোমোক্রিপটিন ও লিভারে ভাঙে এমন কিছু ঔষধের মাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- অক্ট্রিওটাইড বা ইনজেকশনের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেটব্যথা, বমিভাব, গ্যাস, পাতলা বা চর্বিযুক্ত পায়খানা, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, মাথাব্যথা, রক্তে শর্করা বেশি বা কম হওয়া এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে পিত্তথলিতে পাথর সাধারণ। হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া ও থাইরয়েডে পরিবর্তনও হতে পারে।
পেটের ওপরের ডান দিকে তীব্র ব্যথা (জ্বর বা ত্বক হলুদ হওয়াসহ), রক্তে শর্করা খুব কমে যাওয়ার লক্ষণ (ঘাম, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি), খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া বা তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় অভিজ্ঞতা সীমিত, তাই একান্ত প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করা হয়। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় রক্তে শর্করা, থাইরয়েড পরীক্ষা ও পিত্তথলির আলট্রাসাউন্ড করা হতে পারে। ডায়াবেটিস, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, লিভার বা কিডনির রোগ অথবা পিত্তথলির সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান। ইনজেকশনের জায়গা বদলে বদলে দিন। দীর্ঘ ব্যবহারে ভিটামিন বি১২ কমে যেতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া, মুখ লাল হওয়া, পেট কামড়ানো, ডায়রিয়া, বমিভাব ও রক্তে শর্করার পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন; সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সোমাটোস্ট্যাটিন অ্যানালগ (হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, আলো থেকে রক্ষা করুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ঘরের তাপমাত্রায় অল্প সময় রাখার বিষয়ে প্যাকের নির্দেশ মেনে চলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।