ব্যবহার
অফলক্সাসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহার হয়। এটি ট্যাবলেট, চোখের ও কানের ড্রপ হিসেবে পাওয়া যায়।
- ট্যাবলেট: মূত্রনালী ও কিডনির সংক্রমণ, প্রোস্টেটের সংক্রমণ, কিছু বুকের সংক্রমণ, কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ এবং টাইফয়েডের মতো কিছু পেটের সংক্রমণে, যখন ডাক্তার উপযুক্ত মনে করেন।
- চোখের ড্রপ: কনজাঙ্কটিভাইটিস (চোখ লাল ও প্রাঁজোলা) ও কর্নিয়ার ঘায়ের মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণে।
- কানের ড্রপ: বাইরের কানের সংক্রমণ এবং কানের পর্দা ফুটো হয়ে যাওয়া কিছু মধ্যকর্ণের সংক্রমণে।
এটি সর্দি, ফ্লু বা অন্য ভাইরাসজনিত সংক্রমণে কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
অফলক্সাসিন ব্যাকটেরিয়ার ডিএনএ কপি করার জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম (ডিএনএ গায়ারেজ ও টপোআইসোমারেজ ৪) বন্ধ করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট, প্রাপ্তবয়স্ক: সংক্রমণ অনুযায়ী সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার ২০০ থেকে ৪০০ mg, ডাক্তার যতদিন বলেন ততদিন। কিডনির সমস্যা থাকলে কম মাত্রা লাগতে পারে। খাবারের আগে বা পরে পানি দিয়ে গিলে খান। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। সাধারণত শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের দেওয়া হয় না।
চোখের ড্রপ: সাধারণত প্রথম ২ দিন আক্রান্ত চোখে প্রতি ২ থেকে ৪ ঘণ্টা পরপর ১ থেকে ২ ফোঁটা, তারপর দিনে ৪ বার, অথবা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। কানের ড্রপ: ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। ড্রপারের মাথা যেন চোখ বা কানে না লাগে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এন্টাসিড, আয়রন, জিংক, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সুক্রালফেট ট্যাবলেটের শোষণ কমায়; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- ওয়ারফারিন: রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- স্টেরয়েড ট্যাবলেট (যেমন প্রেডনিসোলোন) টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
- ডায়াবেটিসের ঔষধ: রক্তে শর্করা অনেক বেড়ে বা কমে যেতে পারে।
- হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ এবং আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক (খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়াতে পারে) সাবধানে ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- অফলক্সাসিন বা অন্য কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে (যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা লেভোফ্লক্সাসিন) এলার্জি থাকলে।
- আগে কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে টেন্ডনের সমস্যা হয়ে থাকলে।
- ট্যাবলেট: মৃগীরোগ, শিশু ও বাড়ন্ত কিশোর-কিশোরী, গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ট্যাবলেট: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঘুমের সমস্যা ও রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা। ড্রপ: অল্প সময়ের জ্বালা, চুলকানি বা ঝাপসা দেখা।
টেন্ডনে ব্যথা বা ফোলা (বিশেষ করে গোড়ালিতে), হাত বা পায়ে অবশ ভাব, ঝিমঝিম বা জ্বালা, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়া, বুকে, পেটে বা পিঠে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা মেজাজের পরিবর্তন, অথবা র্যাশ, ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ হলে ট্যাবলেট বন্ধ করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ট্যাবলেট খাওয়া উচিত নয়। চোখ ও কানের ড্রপ শুধু ডাক্তার বললে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- ৬০ বছরের বেশি বয়সী, স্টেরয়েড খান এমন ব্যক্তি বা যাদের অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে, তাদের টেন্ডনের ক্ষতির ঝুঁকি বেশি।
- চিকিৎসার সময় কড়া রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা, ডায়াবেটিস, জি৩৬পিডি (G6PD) ঘাটতি, কিডনি বা লিভারের রোগ, বা মানসিক সমস্যার ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- মাথা ঘুরলে গাড়ি চালাবেন না।
- চোখের ড্রপ ব্যবহারের সময় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ট্যাবলেট খেলে মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখ বা কানের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।