ব্যবহার
ওমালিজুমাব একটি বায়োলজিক্যাল ঔষধ, যা ব্যবহৃত হয়:
- মাঝারি থেকে তীব্র অ্যালার্জিজনিত হাঁপানিতে, যখন ইনহেলড স্টেরয়েড ও অন্যান্য ইনহেলারে ভালো নিয়ন্ত্রণ হয় না এবং বাতাসে থাকা কোনো অ্যালার্জেনে (যেমন ঘরের ধুলার মাইট) অ্যালার্জি প্রমাণিত।
- ক্রনিক স্পনটেনিয়াস আর্টিকেরিয়ায় (কারণ ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী আমবাত), যখন অ্যান্টিহিস্টামিনে উপকার হয় না।
- প্রাপ্তবয়স্কদের নাকের পলিপসহ তীব্র দীর্ঘস্থায়ী সাইনাস প্রদাহে, স্টেরয়েড নাকের স্প্রের সাথে।
এটি অতিরিক্ত চিকিৎসা; নিয়মিত ইনহেলার বা রিলিভারের বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
ওমালিজুমাব একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, অর্থাৎ ল্যাবরেটরিতে তৈরি এমন প্রোটিন যা নির্দিষ্ট একটি পদার্থকে লক্ষ্য করে। এটি ইমিউনোগ্লোবুলিন ই (IgE) এর সাথে যুক্ত হয়, যে অ্যান্টিবডি অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া শুরু করে। মুক্ত IgE কমে যাওয়ায় অ্যালার্জির কোষগুলো কম সাড়া দেয়, ফলে কয়েক সপ্তাহে হাঁপানির টান, আমবাত ও নাকের পলিপের উপসর্গ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ওমালিজুমাব চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে ডাক্তার বা নার্স দেন, সাধারণত প্রতি ২ বা ৪ সপ্তাহে। হাঁপানিতে মাত্রা ডাক্তার ঠিক করেন শরীরের ওজন ও রক্তে IgE এর মাত্রা দেখে। আমবাত ও নাকের পলিপে নির্ধারিত মাত্রা ব্যবহার হয়, ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী। প্রথম দিকের ডোজ ক্লিনিকে দেওয়া হয় যাতে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা যায়। ডাক্তার রাজি থাকলে পরে কিছু রোগীকে বাড়িতে ইনজেকশন দেওয়া শেখানো হতে পারে। পূর্ণ উপকার পেতে ১২ থেকে ১৬ সপ্তাহ লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য ঔষধের সাথে বড় কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। এটি ইনহেলার, স্টেরয়েড ও অ্যান্টিহিস্টামিনের সাথেই ব্যবহার হয়। সব ঔষধ ও পরিকল্পিত টিকার কথা ডাক্তারকে জানান। ওমালিজুমাব শুরু করার পর নিজে থেকে স্টেরয়েড ট্যাবলেট বা ইনহেলার কমাবেন বা বন্ধ করবেন না।
কারা খাবেন না
ওমালিজুমাব বা এর কোনো উপাদানে আগে গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। হঠাৎ হাঁপানির টানের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব বা চুলকানি, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা বা সর্দির মতো উপসর্গ, গিঁটে ব্যথা ও ক্লান্তি। কম ক্ষেত্রে জ্বর, ফুসকুড়ি, পেশিতে ব্যথা ও গ্রন্থি ফোলা হতে পারে (ইনজেকশনের ১ থেকে ৫ দিন পরে দেখা দিতে পারে)। ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের কৃমি (পরজীবী) সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
অ্যানাফাইল্যাক্সিসের (তীব্র অ্যালার্জি) লক্ষণ, যেমন শ্বাসকষ্ট, শাঁ শাঁ শব্দ, মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হওয়া, মাথা ঘোরা বা সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। চিকিৎসা শুরুর অনেক পরেও যেকোনো ডোজের পর এমন হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ওমালিজুমাব গর্ভের শিশুর শরীরে পৌঁছায়। এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতায় ক্ষতির স্পষ্ট বৃদ্ধি দেখা যায়নি, আর অনিয়ন্ত্রিত হাঁপানি নিজেই গর্ভাবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ। ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই ব্যবহার করা হয়। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যেতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- রিলিভার ইনহেলার সবসময় সাথে রাখুন এবং হাঁপানির টানে কী করতে হবে জেনে রাখুন।
- অ্যানাফাইল্যাক্সিসের লক্ষণগুলো জেনে নিন; ডাক্তার আপনাকে অ্যাড্রেনালিন অটো ইনজেক্টর দিতে পারেন।
- কৃমি সংক্রমণ বেশি এমন এলাকায় থাকলে বা ভ্রমণ করলে ডাক্তারকে জানান।
- অটোইমিউন রোগ বা ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা ইনজেকশন দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি মাত্রায় গুরুতর কোনো প্রভাব জানা নেই। বেশি দেওয়া হয়েছে মনে হলে ডাক্তারকে জানান, তিনি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, অ্যান্টি IgE ঔষধ (হাঁপানি ও অ্যালার্জিরোধী বায়োলজিক্যাল)।
সংরক্ষণ
রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, আলো থেকে রক্ষার জন্য মূল প্যাকেটে রাখুন। হিমায়িত করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।