ব্যবহার
খাবার স্যালাইন (ওআরএস) ডায়রিয়া, কলেরা, বমি, অতিরিক্ত ঘাম, জ্বর বা হিট স্ট্রোকের কারণে পানিশূন্যতা (শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। শিশু ও বড়দের ডায়রিয়ায় এটিই প্রথম চিকিৎসা।
কীভাবে কাজ করে
ওআরএসে নির্দিষ্ট অনুপাতে গ্লুকোজ এবং সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও সাইট্রেট বা বাইকার্বনেট লবণ থাকে। গ্লুকোজ অন্ত্রকে সোডিয়াম শোষণে সাহায্য করে, আর সোডিয়ামের সাথে পানিও শরীরে ঢোকে। ফলে পাতলা পায়খানায় হারানো পানি ও লবণ শুধু পানির চেয়ে অনেক দ্রুত পূরণ হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাত ধুয়ে নিন। একটি প্যাকেট পরিষ্কার পাত্রে ঢেলে প্যাকেটে লেখা ঠিক পরিমাণ বিশুদ্ধ খাবার পানি মেশান (বেশিরভাগ প্যাকেটে আধা লিটার বা ৫০০ ml)। পুরোপুরি গলে যাওয়া পর্যন্ত নাড়ুন। চিনি, লবণ, দুধ বা জুস মেশাবেন না, এবং পানি কম দেবেন না।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ml (সিকি থেকে আধা কাপ), চামচ দিয়ে ধীরে ধীরে।
- ২ থেকে ১০ বছরের শিশু: প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ml (আধা থেকে এক কাপ)।
- বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক: যত খেতে চায়, সাধারণত প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত ২০০ থেকে ৪০০ ml।
বমি করলে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আরও ধীরে খাওয়ান। বানানো স্যালাইন ১২ ঘণ্টার মধ্যে, বা প্যাকেটে লেখা সময়ের মধ্যে শেষ করুন, তারপর ফেলে দিয়ে নতুন বানান। ডায়রিয়ার সময় বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে প্রায়ই ডাক্তারের পরামর্শে জিংকও দেওয়া হয়।
কারা খাবেন না
- মারাত্মক পানিশূন্যতার সাথে শক বা অজ্ঞান অবস্থা (হাসপাতালে শিরায় স্যালাইন দরকার)।
- অন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে, বা রোগী গিলতে না পারলে।
- মারাত্মক কিডনি বিকল হয়ে প্রস্রাব খুব কম বা বন্ধ হলে, ডাক্তার না বললে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সঠিকভাবে বানালে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। খুব তাড়াতাড়ি খেলে বমি হতে পারে। পানি কম দিয়ে বেশি ঘন বানালে রক্তে সোডিয়াম বেড়ে যেতে পারে।
পায়খানায় রক্ত গেলে, রোগী খেতে না পারলে বা বারবার বমি করলে, খুব ঝিমিয়ে পড়লে বা জাগানো কঠিন হলে, চোখ বসে গেলে, মুখ খুব শুকনো থাকলে, ৬ ঘণ্টা বা বেশি সময় প্রস্রাব না হলে, বেশি জ্বর হলে, বা ২ দিনেও ডায়রিয়া না কমলে জরুরি চিকিৎসা নিন। শিশুর মাথার তালু বসে যাওয়া বিপদের লক্ষণ।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ। মায়েরা বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন।
সতর্কতা
- সবসময় প্যাকেটে লেখা ঠিক পরিমাণ পানি ব্যবহার করুন।
- ডায়াবেটিস, হার্ট ফেইলিউর বা কিডনি রোগ থাকলে কতটা খাবেন ডাক্তারের কাছে জেনে নিন; গ্লুকোজযুক্ত ওআরএসে চিনি থাকে।
- ওআরএস পানির ঘাটতি পূরণ করে, কিন্তু ডায়রিয়া নিজে বন্ধ করে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অনেক বেশি খেলে বা বেশি ঘন স্যালাইন খেলে রক্তে সোডিয়াম বেড়ে পিপাসা, খিটখিটে ভাব, বিভ্রান্তি, শরীর ফোলা বা খিঁচুনি হতে পারে। খাওয়ানো বন্ধ করে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাবার স্যালাইন ও ইলেকট্রোলাইট পূরণকারী।
সংরক্ষণ
প্যাকেট ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বানানো স্যালাইন ১২ ঘণ্টার মধ্যে, বা প্যাকেটে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।