ব্যবহার
অরলিস্ট্যাট কম ক্যালরি ও কম চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে প্রাপ্তবয়স্কদের ওজন কমাতে ও ধরে রাখতে ব্যবহার হয়, যখন:
- বডি মাস ইনডেক্স (BMI) ৩০ বা তার বেশি, অথবা
- BMI ২৮ বা তার বেশি এবং ওজনজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, যেমন টাইপ ২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা উচ্চ কোলেস্টেরল।
কীভাবে কাজ করে
অরলিস্ট্যাট অন্ত্রের লাইপেজ নামের এনজাইম আটকে দেয়, যা খাবারের চর্বি ভাঙে। ফলে খাওয়া চর্বির প্রায় চার ভাগের এক থেকে তিন ভাগের এক অংশ শোষিত না হয়ে পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়, এবং ক্যালরি গ্রহণ কমে। এটি শুধু খাবারের চর্বিতে কাজ করে, ক্ষুধা কমায় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক (প্রেসক্রিপশন শক্তি): চর্বিযুক্ত প্রতিটি প্রধান খাবারের সাথে ১২০ mg, দিনে ৩ বার; খাওয়ার সময় বা খাওয়ার ১ ঘণ্টার মধ্যে।
- কম শক্তির ৬০ mg ক্যাপসুলও ব্যবহার হয়, খাবারের সাথে দিনে ৩ বার।
কোনো বেলা খাবার না খেলে বা খাবারে চর্বি না থাকলে সেই ডোজ বাদ দিন। দিনের চর্বি, শর্করা ও আমিষ তিন বেলার খাবারে ভাগ করে খান, ক্যালরির প্রায় ৩০% চর্বি থেকে। ভিটামিন এ, ডি, ই ও কে পূরণে রাতে শোয়ার আগে (ডোজের অন্তত ২ ঘণ্টা পর) একটি মাল্টিভিটামিন খান। ১২ সপ্তাহে শুরুর ওজনের অন্তত ৫% কমে না গেলে চালিয়ে যাবেন কিনা ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন। বিশেষজ্ঞ না দিলে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সাইক্লোস্পোরিন: মাত্রা কমে যেতে পারে; সময়ের ব্যবধান রেখে খেতে হবে ও মাত্রা পরীক্ষা করতে হবে।
- লেভোথাইরক্সিন: অন্তত ৪ ঘণ্টা ব্যবধানে খান; থাইরয়েড পরীক্ষা করান।
- ওয়ারফারিন: ভিটামিন কে শোষণ কমায় কাজ বদলাতে পারে; INR ঘন ঘন পরীক্ষা করা উচিত।
- খিঁচুনির (এপিলেপসি) ঔষধ: খিঁচুনি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে; খিঁচুনির ধরন বদলালে ডাক্তারকে জানান।
- HIV এর ঔষধ (অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল) ও অ্যামিওডারন: কার্যকারিতা কমতে পারে।
- ডায়াবেটিসের ঔষধ: ওজন কমলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে আসে, তাই মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন ও বিটা-ক্যারোটিন: শোষণ কমে যায়।
কারা খাবেন না
- অরলিস্ট্যাটে এলার্জি থাকলে।
- দীর্ঘমেয়াদি ম্যালএবজর্পশন (অন্ত্র থেকে খাবার ঠিকমতো শোষিত না হওয়া)।
- কোলেস্টেসিস (লিভার থেকে পিত্তরসের প্রবাহ কমে যাওয়া)।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ, বিশেষ করে বেশি চর্বিযুক্ত খাবারের পর: পায়ুপথ দিয়ে তৈলাক্ত দাগ, তৈলাক্ত নিঃসরণসহ গ্যাস, হঠাৎ বা বারবার পায়খানার বেগ, তৈলাক্ত বা পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা, এবং কখনও পায়খানা ধরে রাখতে না পারা। কম চর্বির খাবারে এগুলো কমে। মাথাব্যথা ও উদ্বেগও হতে পারে।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- এলার্জির লক্ষণ (র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট)।
- পেটে তীব্র ব্যথা, চামড়া বা চোখ হলুদ, গাঢ় প্রস্রাব বা ফ্যাকাশে পায়খানা (বিরল লিভারের সমস্যা)।
- পায়ুপথ দিয়ে রক্তপাত।
- পাঁজর বা পিঠে তীব্র ব্যথা, বা প্রস্রাবে রক্ত (কিডনিতে পাথর হতে পারে)।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না; গর্ভাবস্থায় ওজন কমানো পরামর্শ করা হয় না। নিরাপত্তা জানা নেই বলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও খাবেন না।
সতর্কতা
- স্বাস্থ্যকর খাবার ও বেশি শারীরিক পরিশ্রমের সাথে ব্যবহার করুন; শুধু ঔষধ যথেষ্ট নয়।
- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি খেলে এবং তীব্র ডায়রিয়া হলে অতিরিক্ত একটি জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন, কারণ বড়ি ঠিকমতো শোষিত নাও হতে পারে।
- কিডনির রোগ বা আগে কিডনিতে পাথর হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ডায়াবেটিস থাকলে ঔষধের মাত্রা পরিবর্তন লাগতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে বেশি খেলে গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা কম, তবে পেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ওজন কমানোর ঔষধ (অন্ত্রের লাইপেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।