ব্যবহার
ওসিমারটিনিব নন-স্মল সেল ফুসফুস ক্যান্সারের (NSCLC) একটি টার্গেটেড ক্যান্সারের ঔষধ, যখন ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ক্যান্সার কোষে EGFR জিনের নির্দিষ্ট পরিবর্তন (মিউটেশন) পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার হয়:
- প্রাথমিক ফুসফুস ক্যান্সারের অস্ত্রোপচারের পর, আবার হওয়ার সম্ভাবনা কমাতে;
- EGFR মিউটেশনসহ অগ্রসর বা ছড়িয়ে পড়া (মেটাস্টাটিক) ফুসফুস ক্যান্সারের প্রথম চিকিৎসা হিসেবে, একা বা কেমোথেরাপির সাথে;
- অন্য EGFR ঔষধে চিকিৎসার সময় ক্যান্সার বাড়লে এবং তাতে T790M নামের পরিবর্তন পাওয়া গেলে।
কীভাবে কাজ করে
ওসিমারটিনিব একটি EGFR টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর। কিছু ফুসফুস ক্যান্সারে ত্রুটিপূর্ণ EGFR প্রোটিন ক্যান্সার কোষকে বারবার বাড়তে সংকেত দেয়। ওসিমারটিনিব এই প্রোটিনকে আটকে দেয়, ফলে ক্যান্সারের বৃদ্ধি ধীর হয় বা থেমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার একটি ৮০ mg ট্যাবলেট, প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, খাবারের আগে বা পরে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে বিশেষজ্ঞ মাত্রা কমাতে বা কিছুদিন বন্ধ রাখতে পারেন।
ট্যাবলেট গিলতে না পারলে প্রায় ৫০ ml সাধারণ (সোডা নয়) পানিতে দিয়ে নেড়ে গলিয়ে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে ফেলুন; গ্লাসে আরও একটু পানি দিয়ে ধুয়ে সেটিও খান।
কোনো ডোজ বাদ পড়লে খেয়ে নিন, যদি পরের ডোজ ১২ ঘণ্টার মধ্যে না থাকে; একসাথে দুই ডোজ খাবেন না। শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন এবং ভেষজ সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো যেসব ঔষধ এর ভাঙন দ্রুত করে, সেগুলো ওসিমারটিনিবের কার্যকারিতা অনেক কমিয়ে দেয়, তাই এড়িয়ে চলতে হয়। হৃৎস্পন্দনের ছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধের সাথে সাবধানতা দরকার। আপনি যে সব ঔষধ, ভিটামিন ও ভেষজ পণ্য খান, তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- ওসিমারটিনিব বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে
- সেন্ট জনস ওয়ার্টের সাথে একসাথে
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, র্যাশ, ব্রণের মতো দানা, ত্বক শুষ্ক বা চুলকানো, নখের চারপাশে ব্যথা বা সংক্রমণ, মুখে ঘা, রুচি কমে যাওয়া, ক্লান্তি এবং রক্তকণিকা কমে যাওয়া।
কম দেখা যায় কিন্তু গুরুতর: ফুসফুসে প্রদাহ, হৃৎস্পন্দনের ছন্দে পরিবর্তন (QT প্রলম্বন), হৃৎপেশি দুর্বল হওয়া এবং চোখে প্রদাহ।
নতুন বা বেড়ে যাওয়া কাশি, শ্বাসকষ্ট বা জ্বর; দ্রুত, ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়া; শ্বাসকষ্টের সাথে পা ফোলা; চোখ লাল হয়ে ব্যথা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন; অথবা ত্বকে ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ওসিমারটিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে নারীরা চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর অন্তত ২ মাস নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন; পুরুষরা চিকিৎসার সময় ও পরে অন্তত ৪ মাস কনডম ব্যবহার করবেন। চিকিৎসার সময় ও শেষ ডোজের পর ২ সপ্তাহ বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- ডাক্তার রক্ত পরীক্ষা করাবেন এবং হৃৎপিণ্ড পরীক্ষা (ECG ও হার্টের স্ক্যান) করাতে পারেন, বিশেষ করে হৃদরোগ থাকলে বা রক্তে পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কম থাকলে।
- শ্বাসের কোনো সমস্যা হলে দ্রুত জানান।
- ক্লান্তির কারণে গাড়ি বা যন্ত্র চালানোয় সমস্যা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ট্যাবলেট খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান। নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই; নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টার্গেটেড ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ (EGFR টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।