ব্যবহার
অক্সাজেপাম একটি বেনজোডায়াজেপিন ঔষধ, যা তীব্র উদ্বেগের স্বল্পমেয়াদি উপশমে ব্যবহৃত হয়, যেমন টানটান ভাব, অস্থিরতা বা ঘুমের সমস্যাসহ উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার সাথে যুক্ত উদ্বেগ। অ্যালকোহল ছাড়ার সময়ের উপসর্গ, যেমন কাঁপুনি, অস্থিরতা ও উদ্বেগ নিয়ন্ত্রণেও এটি ব্যবহৃত হয়। নির্ভরতার ঝুঁকির কারণে সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহের বেশি প্রেসক্রাইব করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
অক্সাজেপাম মস্তিষ্কের প্রধান শান্তকারক রাসায়নিক বার্তাবাহক GABA এর প্রভাব বাড়ায়। এতে উদ্বেগ ও অস্থিরতা সৃষ্টিকারী স্নায়ুকোষের অতিসক্রিয়তা কমে, ফলে শান্ত ভাব ও হালকা ঘুমভাব আসে। এটি তুলনামূলক অল্প সময় কাজ করে এবং লিভারে অন্য সক্রিয় পদার্থে পরিণত হয় না, তাই বয়স্ক ও লিভারের সমস্যায় এটি বেশি উপযুক্ত হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খান। চিকিৎসক কার্যকর সবচেয়ে কম মাত্রা ঠিক করবেন, সাধারণত দিনে কয়েক ভাগে ভাগ করে, এবং বয়স্ক বা দুর্বলদের কম মাত্রায়। নিজে থেকে মাত্রা বাড়াবেন না বা পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন খাবেন না। নিয়মিত ব্যবহারের পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; উপসর্গ এড়াতে চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালকোহল পান করবেন না। ট্রামাডল, কোডিন বা মরফিনের মতো ওপিওয়েডের সাথে অক্সাজেপাম খেলে বিপজ্জনক তন্দ্রা, শ্বাস ধীর হওয়া, কোমা বা মৃত্যু হতে পারে। অন্য ঘুমের ঔষধ, তন্দ্রা আনা অ্যান্টিহিস্টামিন (যেমন ক্লোরফেনিরামিন), অ্যান্টিসাইকোটিক, বিষণ্নতার ঔষধ, ফেনোবার্বিটালের মতো খিঁচুনির ঔষধ ও পেশি শিথিলকারক তন্দ্রা বাড়ায়। প্রোবেনেসিড এর প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- অক্সাজেপাম বা অন্য বেনজোডায়াজেপিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের গুরুতর দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে।
- স্লিপ অ্যাপনিয়া (ঘুমের মধ্যে শ্বাস থেমে যাওয়া)।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (পেশি দুর্বলতার রোগ)।
- গুরুতর লিভার অক্ষমতা।
- তীব্র ন্যারো-এন্গেল গ্লুকোমা।
- বিষণ্নতা বা সাইকোসিসের একমাত্র চিকিৎসা হিসেবে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তন্দ্রা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, টলমল ভাব, প্রতিক্রিয়া ধীর হওয়া, পেশি দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও সতর্কতা কমে যাওয়া। বয়স্কদের স্মৃতির সমস্যা, বিভ্রান্তি ও পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারও কারও উলটো প্রতিক্রিয়ায় অস্থিরতা, আক্রমণাত্মক আচরণ বা উত্তেজনা হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে নির্ভরতা ও উপসর্গ তৈরি হতে পারে।
শ্বাস ধীর বা অগভীর হলে, রোগীকে জাগানো খুব কঠিন হলে, ঠোঁট নীল হলে, আত্মক্ষতির চিন্তা বা মেজাজের তীব্র পরিবর্তন দেখা দিলে, অথবা মুখ ফুলে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক অপরিহার্য মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। গর্ভাবস্থার শেষদিকে বা প্রসবের সময় ব্যবহারে নবজাতকের শরীর ঢিলেঢালা হওয়া, তাপমাত্রা কমে যাওয়া, শ্বাসের সমস্যা ও উপসর্গ হতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুমঘুম করতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
তন্দ্রা লাগলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। বয়স্ক, ফুসফুস, কিডনি বা লিভারের রোগী এবং অ্যালকোহল বা মাদকের অপব্যবহারের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। অন্যের হাত থেকে ঔষধ নিরাপদে রাখুন; এটির অপব্যবহার হতে পারে। উদ্বেগ ফিরে এলে বা মন খারাপ লাগলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে গভীর তন্দ্রা, বিভ্রান্তি, ভারসাম্যহীনতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, নিম্ন রক্তচাপ ও শ্বাস ধীর হওয়া হয়, যা অ্যালকোহল বা ওপিওয়েডের সাথে হলে আরও বিপজ্জনক। এটি জরুরি অবস্থা: সাহায্য ডাকুন এবং এখনই হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বেনজোডায়াজেপিন অ্যানক্সিওলাইটিক (উদ্বেগনাশক ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। নিরাপদ জায়গায় রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।