ব্যবহার
অক্সিবিউটিনিন হাইড্রোক্লোরাইড ওভারঅ্যাক্টিভ ব্লাডার (অতিসক্রিয় মূত্রথলি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন হঠাৎ প্রস্রাবের বেগ, ঘনঘন প্রস্রাব ও প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া। মূত্রথলির খিঁচুনি, স্নায়ুর সমস্যাজনিত মূত্রথলির সমস্যা (নিউরোজেনিক ব্লাডার) এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে বড় শিশুদের বিছানায় প্রস্রাব করার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অক্সিবিউটিনিন একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ, যা মসৃণ পেশিকে সরাসরি শিথিলও করে। এটি মূত্রথলির পেশিতে অ্যাসিটাইলকোলিনকে আটকে দেয়, ফলে মূত্রথলি শিথিল হয়, বেশি প্রস্রাব ধরে রাখে এবং হঠাৎ সংকোচন কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক (সাধারণ ট্যাবলেট): সাধারণত ৫ mg দিনে দুই বা তিনবার। সর্বোচ্চ ৫ mg দিনে চারবার (দিনে ২০ mg)। বয়স্করা ২.৫ mg দিনে দুবার দিয়ে শুরু করতে পারেন। এক্সটেন্ডেড-রিলিজ ট্যাবলেট সাধারণত ৫ mg থেকে ১০ mg দিনে একবার, আস্ত গিলে খেতে হয়; প্রয়োজনে চিকিৎসক বাড়াতে পারেন। খাবারের সাথে বা ছাড়া খাওয়া যায়। শিশু: চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ (ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতারোধী, ফেনোথায়াজিন, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, অ্যামান্টাডিন ও টলটেরোডিন) মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। এটি মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডোনের কাজ কমাতে পারে। কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল ও ইরিথ্রোমাইসিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল ও ঘুমের ঔষধ ঘুমভাব বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- অক্সিবিউটিনিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- চিকিৎসাহীন ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা।
- প্রস্রাব আটকে থাকা বা মূত্রথলির বহির্গমন পথে বাধা।
- অন্ত্রে বাধা, গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন, বা পাকস্থলী খুব ধীরে খালি হওয়া।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দেখা, চোখ শুকানো, ঘুমভাব, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, বমিভাব ও বদহজম। ঘাম কমে যেতে পারে এবং প্রস্রাবে অসুবিধা হতে পারে।
প্রস্রাব একেবারে না হলে, ঝাপসা দেখার সাথে চোখে ব্যথা, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, জ্বরসহ শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফোলা ও শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত; চিকিৎসক একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে এবং দুধের পরিমাণ কমাতে পারে, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
বয়স্কদের (বিভ্রান্তি ও স্মৃতির সমস্যার ঝুঁকি বেশি), এবং লিভার বা কিডনির রোগ, বর্ধিত প্রোস্টেট, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা বা পার্কিনসন্স রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। এটি ঘাম কমায়, তাই গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন। ঘুমভাব ও ঝাপসা দেখা হতে পারে, তাই গাড়ি চালাতে সাবধান থাকুন এবং অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি সেবনে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, মুখ লাল হওয়া, জ্বর, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব আটকে যাওয়া ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং ঔষধের প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রনালির খিঁচুনিরোধী ঔষধ; অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।