ব্যবহার
অক্সিফেনসাইক্লিমিন পাকস্থলী ও অন্ত্রের ব্যথাযুক্ত খিঁচুনি (স্প্যাজম) কমাতে ব্যবহৃত হয়। এটি পেপটিক আলসারের সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম, পেট মোচড়ানো ব্যথা ও খিঁচুনিসহ গ্যাস্ট্রাইটিসে ব্যবহৃত হয়েছে। এটি পুরোনো ঔষধ; আলসারের জন্য এখন নতুন এসিড কমানোর ঔষধ বেশি পছন্দ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
অক্সিফেনসাইক্লিমিন একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের স্নায়ু রাসায়নিকের কাজ আটকে দেয়, যা পরিপাকতন্ত্রের পেশি সংকুচিত করে এবং এসিড ক্ষরণ বাড়ায়। এতে পেটের পেশি শিথিল হয়, খিঁচুনি কমে এবং এসিড তৈরি কমে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ১০ mg দিনে দুইবার, সকালে ও রাতে শোবার আগে; চিকিৎসক এটি পরিবর্তন করতে পারেন। ট্যাবলেট পানি দিয়ে গিলে খান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- হায়োসিন, অ্যামিট্রিপটিলিন ও অন্যান্য ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, ক্লোরফেনিরামিনের মতো অ্যান্টিহিস্টামিন, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ও ডাইসোপাইরামাইডের মতো অন্য অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ও প্রস্রাব আটকে যাওয়ার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ায়।
- এটি অন্য ঔষধের শোষণ ধীর করতে পারে এবং মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- একই সময়ে অ্যান্টাসিড খেলে এর শোষণ কমে যেতে পারে; আলাদা সময়ে খান।
- অন্ত্রের গতি ধীর হলে পটাশিয়াম ক্লোরাইড ট্যাবলেট পরিপাকতন্ত্রে বেশি জ্বালা করতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লকোমা থাকলে।
- প্রোস্টেট বড় হয়ে প্রস্রাবে কষ্ট বা মূত্রথলির অন্য বাধা থাকলে।
- পাকস্থলীর বহির্গমন পথ বা অন্ত্রে বাধা, প্যারালাইটিক ইলিয়াস, বা গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস বা টক্সিক মেগাকোলন থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে।
- হৃদ্রোগের কারণে দ্রুত হৃদ্স্পন্দন বা রক্তক্ষরণসহ অস্থির হৃদ্রোগ থাকলে।
- অক্সিফেনসাইক্লিমিনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, আলোতে সংবেদনশীলতা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, ঘাম কমে যাওয়া, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, মাথা ঘোরা ও তন্দ্রা। বয়স্করা বিভ্রান্ত হতে পারেন।
ঝাপসা দেখা ও আলোর চারপাশে বলয় দেখাসহ চোখে তীব্র ব্যথা (সম্ভাব্য তীব্র গ্লকোমা), প্রস্রাব একেবারে না হওয়া, পেট ফুলে যাওয়াসহ তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা প্রমাণিত নয়; চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলেই কেবল ব্যবহার করুন। অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ বুকের দুধে যেতে পারে এবং দুধের পরিমাণ কমাতে পারে, তাই চিকিৎসক ভিন্ন পরামর্শ না দিলে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
- বয়স্ক, এবং হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, অতিসক্রিয় থাইরয়েড, রিফ্লাক্স রোগ, জ্বর, বা যকৃৎ বা কিডনির রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- এটি ঘাম কমায়; গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের সময় শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন।
- ঝাপসা দেখা বা তন্দ্রা হলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- পেটব্যথা তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী হলে, অথবা রক্তবমি বা কালো পায়খানা হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে খুব মুখ শুকিয়ে যাওয়া, লালচে গরম শুকনো ত্বক, চোখের মণি বড় হওয়া, দ্রুত হৃদ্স্পন্দন, জ্বর, প্রস্রাব আটকে যাওয়া, অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি বা অচেতনতা হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিস্প্যাসমোডিক, অ্যান্টিমাসকারিনিক (অ্যান্টিকোলিনার্জিক) ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।