ব্যবহার
অক্সিটেট্রাসাইক্লিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক। ব্রণ ও রোসেসিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাটিপিক্যাল নিউমোনিয়ার মতো বুকের সংক্রমণ, ক্লামাইডিয়া ও কিছু যৌনবাহিত সংক্রমণ এবং টেট্রাসাইক্লিনে সাড়া দেয় এমন জীবাণুর অন্যান্য সংক্রমণে এটি ব্যবহার হয়। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়ার বেড়ে ওঠা ও বংশবৃদ্ধির জন্য দরকারি প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে, ফলে শরীর সংক্রমণ দূর করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টায় ২৫০ থেকে ৫০০ mg, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। ব্রণ ও রোসেসিয়া: সাধারণত দিনে দুবার ৫০০ mg, কয়েক মাস ধরে, নির্দেশ অনুযায়ী। খালি পেটে, খাবারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, এক গ্লাস পানি দিয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে খান; খাওয়ার পর ৩০ মিনিট শুয়ে পড়বেন না। ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, অ্যান্টাসিড এবং ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত সাপ্লিমেন্ট এর শোষণ অনেক কমিয়ে দেয়; এগুলো অন্তত ২ থেকে ৩ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- আইসোট্রেটিনোইন বা অ্যাসিট্রেটিনের সাথে খেলে মাথার খুলির ভেতরে চাপ বাড়তে পারে।
- পেনিসিলিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
যেকোনো টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে, ১২ বছরের কম বয়সী শিশু (বেড়ে ওঠা দাঁতে দাগ ফেলে), গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং গুরুতর কিডনি রোগে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া, বুক জ্বালা, রোদে ত্বক সহজে পুড়ে যাওয়া এবং মুখ বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ।
তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, ঝাপসা বা দুটো করে দেখার সাথে তীব্র মাথাব্যথা, গিলতে ব্যথা বা কষ্ট, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, তীব্র ফুসকুড়ি বা ফোসকা, অথবা গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না; এটি শিশুর দাঁত ও হাড়ে প্রভাব ফেলতে পারে এবং মায়ের লিভারের ক্ষতি করতে পারে। বুকের দুধে যায় বলে দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন। গর্ভবতী হলে, হতে পারেন বলে মনে হলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- কড়া রোদ ও সানবেড এড়িয়ে চলুন; সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন ও শরীর ঢেকে রাখুন।
- কিডনি বা লিভারের রোগ, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস বা লুপাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাবলেট খাবেন না, এতে কিডনির ক্ষতি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মূলত বমি বমি ভাব, বমি ও পেটের অস্বস্তি হয়। ডাক্তারের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে শিশু বা কিডনি রোগীর ক্ষেত্রে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টেট্রাসাইক্লিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।