ব্যবহার
প্যারক্সেটিন একটি বিষণ্নতারোধী ঔষধ, যা বিষণ্নতা, প্যানিক ডিজঅর্ডার, সোশ্যাল এঙ্ক্সাইটি, সাধারণ উদ্বেগজনিত রোগ, অবসেসিভ-কমপালসিভ ডিজঅর্ডার (OCD) ও পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (PTSD) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। কিছু দেশে কম মাত্রার রূপ মেনোপজের সময় গরম ভাব ওঠায় ব্যবহার হয়, এবং চিকিৎসকরা কখনও কখনও দ্রুত বীর্যপাতে এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
প্যারক্সেটিন একটি সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI)। সেরোটোনিন মস্তিষ্কের একটি রাসায়নিক যা মেজাজ, উদ্বেগ ও ঘুম নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্যারক্সেটিন স্নায়ুকোষকে সেরোটোনিন দ্রুত ফিরিয়ে নিতে বাধা দেয়, ফলে স্নায়ুর মাঝে বেশি সেরোটোনিন সক্রিয় থাকে। উপকার ধীরে ধীরে, সাধারণত ২ থেকে ৬ সপ্তাহে, পাওয়া যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
দিনে ১ বার সকালে খাবারের সাথে ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। বিষণ্নতায় প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে ২০ mg। উদ্বেগজনিত রোগ ও OCD তে চিকিৎসক প্রায়ই কম মাত্রায় শুরু করে ধাপে ধাপে বাড়ান, পরামর্শ অনুযায়ী। বয়স্ক এবং লিভার বা কিডনির সমস্যায় কম মাত্রা লাগে। ভালো লাগলেও খাওয়া চালিয়ে যান এবং হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- MAO ইনহিবিটর (যেমন মোক্লোবেমাইড, সেলেজিলিন) এর সাথে বা ১৪ দিনের মধ্যে, অথবা থিওরিডাজিন বা পিমোজাইডের সাথে খাবেন না।
- ট্রামাডল, ট্রিপটান (যেমন সুমাট্রিপটান), লিথিয়াম, লিনেজোলিড, অন্য বিষণ্নতার ঔষধ ও সেন্ট জনস ওয়ার্ট সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অ্যাসপিরিন, আইবুপ্রোফেন জাতীয় ব্যথানাশক, ওয়ারফারিন ও ক্লোপিডোগ্রেল রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।
- প্যারক্সেটিন ট্যামোক্সিফেনের কার্যকারিতা কমায় এবং মেটোপ্রোলল, রিসপেরিডন, এটোমোক্সেটিন ও কিছু ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টের মাত্রা বাড়ায়।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- প্যারক্সেটিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- MAO ইনহিবিটর, থিওরিডাজিন বা পিমোজাইড সেবনকারী।
- ১৮ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোরদের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বমিভাব, ঝিমুনি বা অনিদ্রা, মাথা ঘোরা, ঘাম, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, ওজন বাড়া, হাই তোলা, কাঁপুনি, ঝাপসা দেখা এবং যৌন সমস্যা (ইচ্ছা কমা, দেরিতে চরমুহূর্ত, ইরেকশনের সমস্যা) সাধারণ। হঠাৎ বন্ধ করলে মাথা ঘোরা, বৈদ্যুতিক শকের মতো অনুভূতি, উদ্বেগ ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে।
আত্মহত্যা বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা (বিশেষ করে শুরুতে বা মাত্রা বদলানোর পর), তীব্র অস্থিরতা, জ্বর ও ঘামের সাথে পেশি শক্ত বা কাঁপা ও বিভ্রান্তি (সম্ভাব্য সেরোটোনিন সিনড্রোম), খিঁচুনি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, কালো পায়খানা, হঠাৎ চোখে ব্যথা ও ঝাপসা দেখা, বা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম দিকে, সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, কারণ শিশুর হৃৎপিণ্ডের ত্রুটির সাথে সম্পর্ক থাকতে পারে; শেষ দিকে খেলে নবজাতকের শ্বাসকষ্ট ও প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী হলে বা পরিকল্পনা করলে কোনো পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; চিকিৎসকের পরামর্শে কখনও কখনও ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
প্রথম কয়েক সপ্তাহে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে, মেজাজ খারাপ হতে পারে ও আত্মহত্যার চিন্তা আসতে পারে, তাই পরিবার ও চিকিৎসকের নজর রাখা উচিত। বাইপোলার ডিজঅর্ডার, মৃগীরোগ, গ্লকোমা, রক্তপাতজনিত সমস্যা, হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ ও ডায়াবেটিস থাকলে জানান। বয়স্কদের রক্তে সোডিয়াম কমে যেতে পারে। ঔষধটি কীভাবে প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালানোতে সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি, ঝিমুনি, কাঁপুনি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, জ্বর, চোখের মণি বড় হওয়া, খিঁচুনি ও সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিষণ্নতারোধী, সিলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।