ব্যবহার
পেরিনডোপ্রিল আর্জিনিন উচ্চ রক্তচাপ এবং স্থিতিশীল করোনারি ধমনির রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে এটি হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। কিছু হার্ট ফেইলিওর রোগীর ক্ষেত্রেও এটি দেওয়া হয়। এটি একা অথবা অ্যামলোডিপিন বা ইন্ডাপামাইডের মতো অন্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে দেওয়া হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
পেরিনডোপ্রিল একটি এসিই ইনহিবিটর। এটি অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম বন্ধ করে, যা দিয়ে শরীর অ্যাঞ্জিওটেনসিন টু তৈরি করে; এই হরমোন রক্তনালি সরু করে এবং শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে। অ্যাঞ্জিওটেনসিন টু কম হলে রক্তনালি শিথিল ও প্রশস্ত হয়, রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ডের পরিশ্রম কমে। আর্জিনিন লবণ হলো ঔষধটি সরবরাহের একটি রূপ মাত্র।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উচ্চ রক্তচাপ: সাধারণত দিনে একবার ৫ mg; প্রয়োজনে প্রায় এক মাস পর চিকিৎসক দিনে একবার ১০ mg করতে পারেন।
- স্থিতিশীল করোনারি ধমনির রোগ: সাধারণত ২ সপ্তাহ দিনে একবার ৫ mg, তারপর দিনে একবার ১০ mg।
- বয়স্ক, কিডনির সমস্যা আছে, মূত্রবর্ধক খান বা হার্ট ফেইলিওর আছে এমন রোগীদের সাধারণত দিনে একবার ২.৫ mg দিয়ে শুরু করা হয়।
- প্রতিদিন একই সময়ে সকালে খাবারের আগে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান।
রক্তচাপ ও রক্ত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা বদলাতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প, স্পিরোনোল্যাকটোনের মতো পটাশিয়াম ধরে রাখা মূত্রবর্ধক, ট্রাইমেথোপ্রিম ও হেপারিন রক্তে পটাশিয়াম বাড়াতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো এনএসএআইডি এর কার্যকারিতা কমাতে ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে অ্যালিস্কিরেনের সাথে খাবেন না। মারাত্মক ফোলাভাবের (অ্যাঞ্জিওইডিমা) ঝুঁকির কারণে স্যাকুবিট্রিল/ভালসার্টানের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন না। অন্য রক্তচাপের ঔষধ, মূত্রবর্ধক ও কিছু বিষণ্ণতারোধী ঔষধ রক্তচাপ আরও কমাতে পারে। এটি ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের শর্করা কমানোর প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
পেরিনডোপ্রিল বা অন্য কোনো এসিই ইনহিবিটরে অ্যালার্জি থাকলে, আগে কখনো অ্যাঞ্জিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া) হয়ে থাকলে, ৩ মাসের বেশি গর্ভবতী হলে, স্যাকুবিট্রিল/ভালসার্টান খেলে, ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকা অবস্থায় অ্যালিস্কিরেন খেলে, অথবা উভয় কিডনির ধমনি সরু হলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে শুকনো খুসখুসে কাশি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, দাঁড়ালে মাথা হালকা লাগা, পেটের সমস্যা, পেশিতে টান ও স্বাদের পরিবর্তন। পটাশিয়াম বাড়া ও কিডনির কাজে পরিবর্তন হতে পারে, যা রক্ত পরীক্ষায় দেখা হয়।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে, অজ্ঞান হলে, বুকে ব্যথা, গুরুতর র্যাশ অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না। এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসের পর। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসককে জানান, যাতে ঔষধ বদলানো যায়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বিশেষ করে নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে, এটি সুপারিশ করা হয় না; বিকল্প নিয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালে কিডনির কাজ ও পটাশিয়ামের রক্ত পরীক্ষা দরকার।
- প্রথম ডোজে মাথা ঘোরা হতে পারে; দুর্বল লাগলে বসুন বা শুয়ে পড়ুন।
- পানিশূন্যতা, বমি বা ডায়রিয়া থাকলে, ডায়ালাইসিসে থাকলে বা কম লবণের খাবার খেলে চিকিৎসককে জানান।
- অস্ত্রোপচার বা অ্যানেস্থেসিয়ার আগে চিকিৎসক বা দন্তচিকিৎসককে জানান যে আপনি এটি খান।
- কিডনি রোগ, হৃৎপিণ্ডের ভালভ সরু হওয়া ও গুরুতর হার্ট ফেইলিওরে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে শিরাপথে তরল ও পর্যবেক্ষণসহ চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাঞ্জিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (এসিই) ইনহিবিটর, উচ্চ রক্তচাপরোধী
সংরক্ষণ
আর্দ্রতা থেকে রক্ষায় মূল প্যাকে, ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।