ব্যবহার
প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে পেরিন্ডোপ্রিল ইরবুমিন ব্যবহার হয়:
- উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায়;
- হার্ট ফেইলিওরের চিকিৎসায়, সাধারণত অন্য হৃদরোগের ঔষধের সাথে;
- স্থিতিশীল করোনারি আর্টারি রোগে হার্ট অ্যাটাক ও অন্যান্য হৃদসমস্যার ঝুঁকি কমাতে;
- যাঁদের স্ট্রোক বা মিনি-স্ট্রোক হয়েছে, তাঁদের আবার স্ট্রোক প্রতিরোধে, সাধারণত ইন্ডাপামাইডের সাথে।
কীভাবে কাজ করে
পেরিন্ডোপ্রিল একটি এসিই (ACE) ইনহিবিটর। এটি এমন একটি এনজাইমকে বাধা দেয় যা অ্যানজিওটেনসিন ২ তৈরি করে; এই পদার্থ রক্তনালী সঙ্কুচিত করে এবং শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে। অ্যানজিওটেনসিন ২ কমলে রক্তনালী শিথিল ও প্রশস্ত হয়, রক্তচাপ কমে এবং হৃৎপিণ্ড সহজে রক্ত পাম্প করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
উচ্চ রক্তচাপ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ৪ mg; প্রয়োজনে প্রায় এক মাস পর দিনে একবার ৮ mg। বয়স্ক ও আগে থেকে প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ (ডায়ুরেটিক) খাচ্ছেন এমন ব্যক্তিরা সাধারণত দিনে একবার ২ mg দিয়ে শুরু করেন।
হার্ট ফেইলিওর: ঘনিষ্ঠ তত্ত্বাবধানে দিনে একবার ২ mg দিয়ে শুরু, চিকিৎসকের নির্দেশে ৪ mg পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
স্থিতিশীল করোনারি আর্টারি রোগ: ২ সপ্তাহ দিনে একবার ৪ mg, তারপর দিনে একবার ৮ mg, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
দিনে একবার সকালে খাবারের আগে খান। কিডনির সমস্যায় কম মাত্রা ব্যবহার হয়। শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না। কোনো ডোজ বাদ পড়লে পরের ডোজ স্বাভাবিক সময়ে খান; একসাথে দুই ডোজ খাবেন না।
এই মাত্রাগুলো পেরিন্ডোপ্রিল ইরবুমিনের (টারশিয়ারি-বিউটাইলামিন লবণ) জন্য। পেরিন্ডোপ্রিল আর্জিনিন পণ্যের মাত্রা আলাদা, তাই পরামর্শ ছাড়া একটি থেকে আরেকটিতে বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প, স্পাইরোনোল্যাক্টোন, এপলেরেনোন, অ্যামিলোরাইড, ট্রাইমেথোপ্রিম ও হেপারিন রক্তে পটাশিয়াম বাড়াতে পারে।
- ফুরোসেমাইডের মতো ডায়ুরেটিক শুরুতে রক্তচাপ অনেক কমিয়ে দিতে পারে।
- আইবুপ্রোফেন ও ডাইক্লোফেনাকের মতো ব্যথানাশক (NSAID) এর কার্যকারিতা কমাতে এবং কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- লিথিয়ামের মাত্রা বিষাক্ত পর্যায়ে বাড়তে পারে।
- অ্যালিস্কিরেন, লসার্টান, ভ্যালসার্টান ও অন্যান্য এআরবি একসাথে খেলে কিডনির সমস্যা ও উচ্চ পটাশিয়ামের ঝুঁকি বাড়ে।
- স্যাকুবিট্রিল-ভ্যালসার্টান পেরিন্ডোপ্রিলের ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাওয়া যাবে না।
- ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের ট্যাবলেটের সাথে, বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে, রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে।
- রেসেকাডোট্রিল, সিরোলিমাস ও এভারোলিমাস ফোলার (এনজিওইডিমা) ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
নিচের ক্ষেত্রে পেরিন্ডোপ্রিল ইরবুমিন খাবেন না:
- পেরিন্ডোপ্রিল বা অন্য কোনো এসিই ইনহিবিটরে অ্যালার্জি;
- আগে কখনো মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে গিয়েছিল (এনজিওইডিমা), এসিই ইনহিবিটরে বা অন্য যেকোনো কারণে;
- গর্ভবতী বা গর্ভধারণের চেষ্টা করছেন;
- ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা আছে এবং অ্যালিস্কিরেন খাচ্ছেন;
- গত ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে স্যাকুবিট্রিল-ভ্যালসার্টান খেয়েছেন;
- দুই কিডনির ধমনি সরু হয়ে গেছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: শুকনো খুশখুশে কাশি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, বমিভাব, পেটের অস্বস্তি, স্বাদ বদলানো, মাংসপেশিতে টান ও র্যাশ।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে যাওয়া, অথবা গিলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট;
- অজ্ঞান হওয়া বা তীব্র মাথা ঘোরা;
- বুকে ব্যথা বা দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন;
- ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া;
- তীব্র পেটব্যথা;
- স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম প্রস্রাব;
- জ্বর, গলাব্যথা বা মুখে ঘা যা সারছে না (শ্বেত কণিকা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে)।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় পেরিন্ডোপ্রিল খাবেন না। এটি বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসের পর গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভবতী হলে ঔষধ বন্ধ করুন এবং যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে গিয়ে অন্য ঔষধে বদলান। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়, বিশেষ করে নবজাতক বা অপরিণত শিশুর ক্ষেত্রে, এটি সুপারিশ করা হয় না; চিকিৎসক আরও উপযুক্ত ঔষধ বেছে দিতে পারেন।
সতর্কতা
- প্রথম ডোজে রক্তচাপ অনেক কমে যেতে পারে, বিশেষ করে পানিশূন্যতা, কম লবণের খাবার বা ডায়ুরেটিক খাওয়ার ক্ষেত্রে; মাথা ঘুরলে বসুন বা শুয়ে পড়ুন।
- নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা ও রক্তে পটাশিয়াম পরীক্ষা করা উচিত।
- কিডনির রোগ, হার্ট ভালভ সরু হওয়া, ডায়াবেটিস বা কানেক্টিভ টিস্যুর রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- যেকোনো অস্ত্রোপচার, ডায়ালাইসিস বা ডিসেনসিটাইজেশন চিকিৎসার আগে সার্জন বা অ্যানেসথেটিস্টকে জানান।
- বমি বা ডায়রিয়ায় রক্তচাপ কমে যেতে পারে; এমন হলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব কম রক্তচাপ, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, ধীর বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন ও কিডনির সমস্যা হতে পারে। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রক্তচাপরোধী; এনজিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (ACE) ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, মূল প্যাকেটে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।