ব্যবহার
পারটুসিস ভ্যাকসিন হুপিং কাশি (পারটুসিস) থেকে সুরক্ষা দেয়। এটি শ্বাসনালির একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ, যাতে প্রচণ্ড কাশির দমক হয় এবং ছোট শিশুদের জন্য তা প্রাণঘাতীও হতে পারে। সাধারণত এটি সম্মিলিত ভ্যাকসিনের অংশ হিসেবে দেওয়া হয়, যা ডিপথেরিয়া ও ধনুষ্টংকার এবং কিছু পণ্যে পোলিও, হেপাটাইটিস বি ও হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি থেকেও সুরক্ষা দেয়। শিশুদের নিয়মিত টিকাদান ও বুস্টার ডোজে এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
এই ভ্যাকসিনে বরডেটেলা পারটুসিস ব্যাকটেরিয়ার বিশুদ্ধ ও নিষ্ক্রিয় অংশ (অ্যাসেলুলার পারটুসিস অ্যান্টিজেন) অথবা পুরনো ভ্যাকসিনে মৃত পুরো ব্যাকটেরিয়া থাকে। এগুলো রোগ সৃষ্টি করতে পারে না। এগুলো শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে অ্যান্টিবডি তৈরি করতে শেখায়, ফলে পরে আসল জীবাণু ঢুকলে শরীর দ্রুত লড়তে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, শিশুদের সাধারণত উরুতে। ডাক্তার, নার্স বা প্রশিক্ষিত টিকাদানকর্মী এটি দেন। কয়টি ডোজ ও কখন দেওয়া হবে তা জাতীয় টিকাদান সূচি বা ডাক্তারের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ঠিক হয়। শৈশবের পরের দিকে বুস্টার ডোজের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাধারণত একই দিনে অন্য নিয়মিত শিশু টিকার সাথে, ভিন্ন জায়গায় ইনজেকশন দিয়ে, এটি দেওয়া যায়। যারা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমায় এমন ঔষধ খান, যেমন উচ্চমাত্রার প্রেডনিসোলোন বা ক্যান্সারের চিকিৎসা, তাদের ক্ষেত্রে সুরক্ষা কম তৈরি হতে পারে। ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে টিকাদানকর্মীকে জানান, কারণ ইনজেকশনের জায়গায় কালশিটে পড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- আগের ডোজে বা ভ্যাকসিনের কোনো উপাদানে মারাত্মক অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
- আগের পারটুসিসযুক্ত ভ্যাকসিনের ৭ দিনের মধ্যে অন্য কোনো কারণ ছাড়া এনকেফালোপ্যাথি (মস্তিষ্কের গুরুতর অসুখ) হয়ে থাকলে।
- স্নায়ুর এমন রোগ যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল নয়, যতক্ষণ না তা পরীক্ষা করে স্থিতিশীল হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লাল হওয়া ও ফোলা, জ্বর, খিটখিটে ভাব, কান্না, ঘুম ঘুম ভাব ও এক দুই দিন খেতে না চাওয়া। কম দেখা যায়: একটানা কান্না, উচ্চ জ্বর, ইনজেকশন দেওয়া হাত বা পা অনেক ফুলে যাওয়া। বিরল: জ্বরের সাথে খিঁচুনি, শিশু নেতিয়ে পড়া ও সাড়া না দেওয়া, মারাত্মক অ্যালার্জি।
শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, খিঁচুনি, অস্বাভাবিকভাবে নেতিয়ে পড়া বা সাড়া না দেওয়া, অথবা ৩ ঘণ্টার বেশি না থামা কান্না হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কিছু দেশে গর্ভাবস্থায় পারটুসিসযুক্ত ভ্যাকসিন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যাতে নবজাতক সুরক্ষা পায়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় টিকা নেওয়া নিরাপদ বলে ধরা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
শিশুর উচ্চ জ্বর বা মাঝারি থেকে গুরুতর অসুখ থাকলে সাধারণত টিকা পিছিয়ে দেওয়া হয়; হালকা সর্দি থাকলে পেছানোর দরকার নেই। আগের ডোজে কোনো প্রতিক্রিয়া, খিঁচুনি, রক্তক্ষরণজনিত সমস্যা বা রোগপ্রতিরোধের সমস্যা থাকলে জানান। ইনজেকশনের পর ১৫ থেকে ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। অন্য সব ভ্যাকসিনের মতো এটিও সবাইকে পুরোপুরি সুরক্ষা নাও দিতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা মেপে ডোজ দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ভুলে বাড়তি ডোজ দেওয়া হলে ডাক্তারকে জানাতে হবে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে প্রয়োজনমতো চিকিৎসা করতে হবে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাকসিন (পারটুসিস, সাধারণত সম্মিলিত ভ্যাকসিনে)
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না, জমে গেলে ফেলে দিন। আলো থেকে দূরে রাখুন। সাধারণত ক্লিনিক বা ফার্মেসি প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।