ব্যবহার
পেথিডিন হাইড্রোক্লোরাইড একটি শক্তিশালী ওপিওয়েড ব্যথানাশক, মূলত ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। প্রসববেদনা, অস্ত্রোপচারের পরের বা আঘাতজনিত মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা অল্প সময়ের জন্য কমাতে এবং অ্যানেস্থেসিয়ার আগে বা সময় এটি ব্যবহৃত হয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও অল্প সময়ের কার্যকারিতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার জন্য এটি উপযুক্ত নয়। এটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ এবং ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
পেথিডিন মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর ওপিওয়েড রিসেপ্টরে যুক্ত হয়। এতে ব্যথার সংকেত পাঠানো ও অনুভব করা কমে এবং ব্যথার প্রতি মানসিক প্রতিক্রিয়া বদলায়। এটি ঘুম ঘুম ভাবও আনে। প্রভাব দ্রুত শুরু হয় ও কয়েক ঘণ্টা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পেথিডিন ইনজেকশন চিকিৎসক, নার্স বা মিডওয়াইফ মাংসপেশিতে, ত্বকের নিচে বা ধীরে শিরায় দেন। ব্যথার ধরন, বয়স, ওজন ও কিডনির অবস্থা অনুযায়ী প্রতিটি রোগীর মাত্রা ঠিক করা হয়। পুনরাবৃত্তি ডোজ ও দৈনিক মোট পরিমাণ সীমিত ও তত্ত্বাবধানে থাকে। এটি শুধু অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করা উচিত। বয়স্ক এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যায় কম মাত্রা লাগে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সেলেজিলিন বা মোক্লোবেমাইডের মতো MAO ইনহিবিটর (গত ১৪ দিনের মধ্যে সহ) গুরুতর, কখনো মারাত্মক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে: পেথিডিন দেওয়া যাবে না।
- ডায়াজেপামের মতো বেনজোডায়াজেপিন, ঘুমের ঔষধ, অন্য ওপিওয়েড, গ্যাবাপেন্টিন, প্রিগ্যাবালিন, মদ ও ঘুম পাড়ানো অ্যান্টিহিস্টামিন গভীর ঘুম, শ্বাস ধীর হওয়া, কোমা ও মৃত্যু ঘটাতে পারে।
- SSRI, SNRI, ট্রামাডল, লাইনেজোলিড ও ট্রিপটান সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রিটোনাভির, ফেনিটয়েন ও কার্বামাজেপিন এর বিষাক্ত ভাঙনজাত পদার্থ (নরপেথিডিন) জমা বাড়াতে পারে।
- মেটোক্লোপ্রামাইড ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ অন্ত্রের উপর এর প্রভাব বদলাতে পারে।
কারা খাবেন না
- পেথিডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- তীব্র শ্বাসকষ্ট, হাঁপানির তীব্র টান বা গুরুতর ফুসফুসের রোগ থাকলে।
- এখন বা গত ১৪ দিনে MAO ইনহিবিটর খেলে।
- মাথায় আঘাত বা মাথার ভেতরে চাপ বেড়ে গেলে।
- কিডনির গুরুতর অক্ষমতা, তীব্র মদ্যপানজনিত অবস্থা, অন্ত্র অচল (প্যারালাইটিক ইলিউস) বা অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনির রোগে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: তন্দ্রাভাব, মাথা ঘোরা, বমিভাব ও বমি, ঘাম, মুখ শুকানো, মুখ লাল হওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দাঁড়ালে মাথা হালকা লাগা।
গুরুতর প্রভাব: ধীর বা অগভীর শ্বাস, নিম্ন রক্তচাপ, ধীর বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, কাঁপুনি, মাংসপেশি কাঁপা ও খিঁচুনি (বারবার ডোজ বা কিডনির সমস্যায় বেশি), এবং অ্যালার্জি। বারবার ব্যবহারে সহনশীলতা, নির্ভরতা ও প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
শ্বাস ধীর বা অগভীর হলে, রোগীকে জাগানো খুব কঠিন হলে, ঠোঁট নীল হলে, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র র্যাশ বা মুখ ও গলা ফুলে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান বা জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রসববেদনা কমাতে কখনো কখনো পেথিডিন ব্যবহৃত হয়। এটি গর্ভফুল পেরিয়ে শিশুর কাছে যায়, ফলে নবজাতক তন্দ্রাচ্ছন্ন হতে পারে, শ্বাস ধীর হতে পারে এবং প্রথম দিকের বুকের দুধ খাওয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে; কর্মীরা শিশুকে পর্যবেক্ষণ করেন ও প্রয়োজনে প্রতিষেধক দেন। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যবহারে নবজাতকের প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ হতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং এর ভাঙনজাত পদার্থ শিশুর শরীরে জমতে পারে, তাই দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত অন্য ব্যথানাশক পছন্দ করা হয়; চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
বয়স্ক এবং শ্বাসকষ্ট, ঘুমের সময় শ্বাস বন্ধ হওয়া (স্লিপ অ্যাপনিয়া), নিম্ন রক্তচাপ, থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনালের সমস্যা, প্রস্টেট বড় হওয়া, লিভার বা কিডনির রোগ, মৃগী, অন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ বা মাদকাসক্তির ইতিহাস থাকলে চিকিৎসক সাবধানে এটি দেন। মদ খাবেন না। ইনজেকশন নেওয়ার পর গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। এটি অভ্যাস তৈরি করতে পারে এবং এটি একটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে চোখের মণি খুব ছোট হওয়া, গভীর তন্দ্রা, খুব ধীর শ্বাস, নিম্ন রক্তচাপ, খিঁচুনি ও কোমা হতে পারে, যা মারাত্মক হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা: হাসপাতালে ওপিওয়েডের প্রতিষেধক নালোক্সোন এবং শ্বাসপ্রশ্বাসের সহায়তা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ওপিওয়েড ব্যথানাশক (ফেনাইলপাইপেরিডিন জাতক); নিয়ন্ত্রিত ঔষধ।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ও নিয়ন্ত্রিত ঔষধ: মোড়কে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে, তালাবদ্ধ আলমারিতে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।