ব্যবহার
পেথিডিন (মেপেরিডিন নামেও পরিচিত) একটি শক্তিশালী ওপিওয়েড ব্যথানাশক, যা মাঝারি থেকে তীব্র ব্যথা অল্প সময়ের জন্য উপশমে ব্যবহার করা হয়, যেমন প্রসববেদনা, অস্ত্রোপচারের পরের ব্যথা বা কিছু চিকিৎসা প্রক্রিয়ার আগে ও সময়ে। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার জন্য উপযুক্ত নয়।
কীভাবে কাজ করে
পেথিডিন মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুর ওপিওয়েড রিসেপ্টরে যুক্ত হয়। এতে ব্যথার অনুভূতি কমে এবং শান্ত ভাব ও তন্দ্রা আসে। এর প্রভাব দ্রুত শুরু হয় এবং প্রায় ২ থেকে ৪ ঘণ্টা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পেথিডিন একটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ। সাধারণত হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স মাংসপেশিতে, চামড়ার নিচে বা শিরায় ইনজেকশন হিসেবে দেন। মাত্রা রোগীর বয়স, ওজন, কিডনির অবস্থা ও ব্যথার ধরনের ওপর নির্ভর করে, তাই কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। যত কম সময় সম্ভব ততটুকুই ব্যবহার করা উচিত।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন বা লাইনেজোলিড) এর সাথে বা সেগুলো বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে কখনো ব্যবহার করবেন না: প্রাণঘাতী প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
- অ্যালকোহল, বেনজোডায়াজেপিন, ঘুমের ঔষধ, অ্যান্টিহিস্টামিন ও অন্য ওপিওয়েড বিপজ্জনক তন্দ্রা ও শ্বাস ধীর হওয়ার কারণ হতে পারে।
- ফ্লুওক্সেটিন বা সারট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধ এবং ট্রামাডল সেরোটোনিন সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ায়।
- রিটোনাভির, ফেনিটোইন ও কার্বামাজেপিন এর মাত্রা বদলে বিষাক্ত প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- পেথিডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- গুরুতর শ্বাসকষ্ট, তীব্র হাঁপানির আক্রমণ বা শ্বাসনালি বন্ধ থাকলে।
- গত ১৪ দিনে এমএও ইনহিবিটর সেবন করলে।
- গুরুতর কিডনি বিকল, মাথার আঘাতে খুলির ভেতরে চাপ বেড়ে গেলে, বা অন্ত্র বন্ধ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত তন্দ্রা, মাথা ঘোরা, বমি ভাব, বমি, ঘাম, মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং দাঁড়ালে মাথা হালকা লাগা হতে পারে। বারবার মাত্রা দিলে বা কিডনির সমস্যা থাকলে নরপেথিডিন নামের একটি ভাঙন পদার্থ জমে কাঁপুনি, মাংসপেশির খিঁচুনি ও মৃগীর মতো খিঁচুনি হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহারে সহনশীলতা, নির্ভরতা ও আসক্তি তৈরি হতে পারে।
শ্বাস ধীর বা অগভীর হলে, অতিরিক্ত ঘুম পেলে, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, জ্বর ও অস্থিরতার সাথে খুব দ্রুত হৃদস্পন্দন, অথবা মুখ ফোলা ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রসবের সময় এটি ব্যবহার করা হয়, তবে এটি গর্ভফুল পার হয়ে নবজাতককে ঘুমঘুম ও শ্বাস ধীর করতে পারে, তাই শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ব্যবহারে নবজাতকের প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ হতে পারে। এটি বুকের দুধে যায়; একবারের মাত্রা গ্রহণযোগ্য হতে পারে, তবে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় বারবার মাত্রা এড়িয়ে চলা উচিত।
সতর্কতা
- বয়স্কদের এবং লিভার, কিডনি, ফুসফুস, থাইরয়েড বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
- ইনজেকশন নেওয়ার পর গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- এর অপব্যবহার হতে পারে; কঠোর নিয়ন্ত্রণে সংরক্ষণ ও প্রয়োগ করতে হবে।
- নিয়মিত ব্যবহারের পর প্রত্যাহারজনিত সমস্যা এড়াতে ধীরে ধীরে বন্ধ করতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে শ্বাস খুব ধীর হওয়া, চোখের মণি খুব ছোট হওয়া, গভীর ঘুম বা কোমা, নিম্ন রক্তচাপ ও খিঁচুনি হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা; হাসপাতালে প্রতিষেধক নালোক্সোন দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ওপিওয়েড ব্যথানাশক (নারকোটিক ব্যথানাশক)।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশমতো ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। তালাবদ্ধ স্থানে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।