ব্যবহার
ফেনোবারবিটোন (ফেনোবারবিটাল) মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়, যেমন শরীর শক্ত হয়ে ঝাঁকুনি দেওয়া খিঁচুনি (জেনারেলাইজড টনিক-ক্লোনিক) ও শরীরের একাংশের খিঁচুনি (ফোকাল)। দীর্ঘক্ষণ বা বারবার খিঁচুনি (স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস) থামাতে এবং নবজাতকের খিঁচুনিতে হাসপাতালে এর ইনজেকশন দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি বারবিচুরেট। মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক শান্তকারী রাসায়নিক GABA এর প্রভাব বাড়িয়ে দেয়, ফলে স্নায়ুকোষ হঠাৎ অতিরিক্ত সংকেত পাঠাতে পারে না এবং খিঁচুনি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক, মৃগীরোগ: সাধারণত দিনে একবার ৬০ থেকে ১৮০ mg, প্রায়ই রাতে ঘুমানোর আগে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করেন।
- শিশু: ওজন অনুযায়ী মাত্রা হিসাব করা হয়; শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন।
- প্রতিদিন একই সময়ে খান। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে মারাত্মক খিঁচুনি হতে পারে; বন্ধ করতে হলে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ঘুমের ঔষধ, ডায়াজেপামসহ অন্যান্য বেনজোডায়াজেপিন, অপিয়েড ব্যথানাশক ও ঘুম আনা এন্টিহিস্টামিন ঘুম ঘুম ভাব বাড়ায় এবং শ্বাস বিপজ্জনকভাবে ধীর করতে পারে।
- এটি অনেক ঔষধ দ্রুত ভেঙে ফেলে কার্যকারিতা কমায়, যেমন হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ, ওয়ারফারিন, স্টেরয়েড, ডক্সিসাইক্লিন, কিছু হার্টের ঔষধ, কিছু HIV এর ঔষধ এবং কার্বামাজেপিন ও ল্যামোট্রিজিনের মতো অন্য মৃগীর ঔষধ।
- সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট ফেনোবারবিটোনের মাত্রা বাড়িয়ে অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব আনতে পারে।
কারা খাবেন না
- ফেনোবারবিটোন বা অন্য বারবিচুরেটে এলার্জি থাকলে।
- একিউট পোরফাইরিয়া (একটি বিরল বংশগত রক্তের রোগ) থাকলে।
- শ্বাসকষ্টের গুরুতর সমস্যা, বা লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, টলমল ভাব, চিন্তা ধীর হওয়া এবং স্মৃতি বা মনোযোগ কমে যাওয়া। শিশু ও বয়স্কদের অস্থিরতা, খিটখিটে ভাব বা বিভ্রান্তি হতে পারে। দীর্ঘদিন খেলে ফলিক এসিড ও ভিটামিন ডি কমে গিয়ে হাড় দুর্বল হতে পারে।
জ্বরসহ র্যাশ, ফোসকা বা মুখে ঘা, চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, খুব ধীর বা অগভীর শ্বাস, অতিরিক্ত ঘুম, অথবা মন খারাপ বা নিজের ক্ষতি করার চিন্তা এলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং নবজাতকের রক্তপাত বা ঔষধ ছাড়ার লক্ষণ ঘটাতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ নিয়ন্ত্রণহীন খিঁচুনিও বিপজ্জনক। গর্ভধারণের পরিকল্পনা ডাক্তারের সাথে করুন; তিনি ফলিক এসিড দিতে পারেন। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুম ঘুম করতে পারে; শুধু ডাক্তারের পরামর্শে দুধ খাওয়ান এবং শিশুর অতিরিক্ত ঘুম বা কম খাওয়া খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
দীর্ঘদিন খেলে নির্ভরতা তৈরি হতে পারে, আর হঠাৎ বন্ধ করলে উইথড্রয়াল ও খিঁচুনি হয়। এটি হরমোনজনিত জন্মনিয়ন্ত্রণ দুর্বল করে, তাই অন্য পদ্ধতি ব্যবহার করুন। ঘুম ঘুম লাগলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। বয়স্ক মানুষ এবং বিষণ্ণতা, লিভার, কিডনি বা ফুসফুসের রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। নিয়মিত চেকআপ এবং কখনও রক্তে ঔষধের মাত্রা পরীক্ষা দরকার হয়। এটি নিয়ন্ত্রিত ঔষধ, তাই নিরাপদে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খাওয়া বিপজ্জনক; গভীর ঘুম, ধীর শ্বাস, রক্তচাপ কমে যাওয়া, অচেতনতা এমনকি মৃত্যু হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মৃগীরোগের ঔষধ (অ্যান্টিকনভালসেন্ট), বারবিচুরেট।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।