ব্যবহার
ফেনক্সিমিথাইলপেনিসিলিন (পেনিসিলিন ভি) একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা হালকা থেকে মাঝারি সংক্রমণে ব্যবহার হয়, যেমন স্ট্রেপটোককাসজনিত গলাব্যথা ও টনসিলাইটিস, স্কার্লেট জ্বর, কিছু কান ও ত্বকের সংক্রমণ এবং দাঁতের সংক্রমণ। বাতজ্বর (রিউমাটিক ফিভার) ফিরে আসা ঠেকাতে এবং প্লীহা কাজ না করা ব্যক্তিদের নিউমোককাস সংক্রমণ প্রতিরোধেও এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি ব্যাকটেরিয়াকে কোষপ্রাচীর তৈরি করতে দেয় না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ফেটে মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত প্রতি ৬ ঘণ্টায় ৫০০ mg; গুরুতর সংক্রমণে প্রতি ৬ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১ g পর্যন্ত, নির্দেশ অনুযায়ী। স্ট্রেপটোককাসজনিত গলাব্যথায় সাধারণত ১০ দিন চিকিৎসা। বাতজ্বর প্রতিরোধে: সাধারণত দিনে দুবার ২৫০ mg, ডাক্তার যতদিন বলেন। ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: বয়স বা ওজন অনুযায়ী ডাক্তারের নির্দেশমতো। খালি পেটে, খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে বা ২ ঘণ্টা পরে, নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে খান এবং পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মিথোট্রেক্সেটের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- প্রোবেনেসিড পেনিসিলিনের মাত্রা বাড়ায়।
- ওয়ারফারিনের প্রভাব বদলাতে পারে।
- টেট্রাসাইক্লিন জাতীয় অ্যান্টিবায়োটিক এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- মুখে খাওয়ার টাইফয়েড টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
পেনিসিলিন বা পেনিসিলিন জাতীয় যেকোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি এবং মুখ বা যোনিপথে ছত্রাক সংক্রমণ। হালকা চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়িও হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে আমবাত বা ফুসকুড়ির মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ, ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা ফুসকুড়ি, অথবা তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে) দেখা দিলে সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
পেনিসিলিন গর্ভাবস্থায় বহুল ব্যবহৃত এবং শিশুর ক্ষতির প্রমাণ নেই। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ, তবে শিশুর ডায়রিয়া, মুখে ছত্রাক বা ফুসকুড়ি হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
- আগে পেনিসিলিন বা অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে এবং কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত সংক্রমণে এটি কাজ করে না।
- ভালো লাগলেও আগেই বন্ধ করবেন না, নইলে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মূলত বমি বমি ভাব, বমি ও ডায়রিয়া হয়। কিডনি অকার্যকর রোগীদের খুব বেশি মাত্রায় খিঁচুনি হতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
ট্যাবলেট ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তৈরির পর সিরাপ বা সাসপেনশন ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন এবং প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে শেষ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।