ব্যবহার
ফেনিলএফ্রিন হাইড্রোক্লোরাইড কয়েকটি রূপে ব্যবহার হয়:
- মুখে খাওয়ার, সাধারণত সর্দি-জ্বরের মিশ্র ঔষধে: সর্দি, ফ্লু ও এলার্জিতে নাক বন্ধ ও সাইনাসের জমাট ভাব কমাতে।
- নাকের ড্রপ বা স্প্রে: অল্প দিনের জন্য নাক বন্ধ কমাতে।
- চোখের ড্রপ: চোখ পরীক্ষা ও অপারেশনের আগে চক্ষু বিশেষজ্ঞ মণি বড় করতে ব্যবহার করেন, আর কম শক্তির ড্রপ চোখের লালচে ভাব কমাতে।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে নিম্ন রক্তচাপ বাড়াতে, যেমন অ্যানেসথেসিয়ার সময়।
কীভাবে কাজ করে
ফেনিলএফ্রিন রক্তনালির আলফা-১ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে রক্তনালি সঙ্কুচিত করে। নাকে এতে ফোলা কমে শ্বাসপথ খোলে, চোখে মণি বড় হয়, আর রক্তে গেলে রক্তচাপ বাড়ে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ট্যাবলেট বা সিরাপ (প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি): সাধারণত প্রয়োজনে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা পরপর ১০ mg; প্যাকেট বা ডাক্তার অন্য কিছু না বললে ২৪ ঘণ্টায় ৪ বারের (৪০ mg) বেশি খাবেন না। মিশ্র ঔষধে প্যাকেটের মাত্রা মানুন। ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে বা শিশুদের ঔষধের প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- নাকের ড্রপ বা স্প্রে: প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী; টানা ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
- চোখের ড্রপ ও ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স প্রয়োগ করেন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এমএও ইনহিবিটর জাতীয় ঔষধ (যেমন সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড) চলাকালে বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে এটি ব্যবহার করবেন না, এতে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। অন্য ডিকনজেস্টেন্ট বা উদ্দীপক, অ্যামিট্রিপটাইলিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, বিটা-ব্লকার, রক্তচাপের ঔষধ (এদের কাজ কমাতে পারে) ও ডিজক্সিনের সাথে সাবধান থাকুন। একই সাথে দুটি সর্দির ঔষধ খাচ্ছেন কিনা দেখুন, যেগুলোতে দুটোতেই ফেনিলএফ্রিন বা প্যারাসিটামল আছে।
কারা খাবেন না
- ফেনিলএফ্রিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ বা গুরুতর হৃদরোগ, হৃৎস্পন্দনের ছন্দের গুরুতর সমস্যাসহ।
- থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা।
- গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
- চোখের ড্রপ: অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অস্থিরতা, অস্বস্তি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, মাথা ঘোরা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ও বুক ধড়ফড়। নাকে ব্যবহারে জ্বালা করতে পারে, আর দীর্ঘদিন ব্যবহারে নাক আরও বেশি বন্ধ হয়ে যেতে পারে (রিবাউন্ড কনজেশন)। চোখের ড্রপে জ্বালা করতে পারে এবং কয়েক ঘণ্টা ঝাপসা দেখা ও আলোতে অস্বস্তি হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত, ধীর বা অনিয়মিত হওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, চোখে তীব্র ব্যথা, অথবা এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মুখে খাওয়ার ডিকনজেস্টেন্ট এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধে কতটা যায় জানা নেই, আর এটি দুধের পরিমাণ কমাতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা প্রস্রাবে কষ্ট, অথবা গ্লুকোমা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন এবং আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে কাশি-সর্দির ঔষধ দেবেন না। উপসর্গ ৭ দিনের বেশি থাকলে বা সাথে বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব বেড়ে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, হৃৎস্পন্দন ধীর বা অনিয়মিত হওয়া, বমি, উদ্বেগ ও খিঁচুনি হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন। সর্দির মিশ্র ঔষধে প্যারাসিটামলও থাকতে পারে, যা বেশি খেলে ভালো লাগলেও বিপজ্জনক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিম্প্যাথোমিমেটিক (আলফা-১ অ্যাড্রেনার্জিক এগোনিস্ট); নাকের ডিকনজেস্টেন্ট, চোখের মণি বড় করার ঔষধ ও রক্তচাপ বাড়ানোর ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখ বা নাকের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন। ইনজেকশন হাসপাতালের কর্মীরা সংরক্ষণ ও প্রয়োগ করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।