ব্যবহার
ফেনাইলএফ্রিন প্রধানত সর্দি, ফ্লু, সাইনোসাইটিস ও এলার্জির কারণে নাক বন্ধ বা নাক দিয়ে পানি পড়া কমাতে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে এটি সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় কাশি ও সর্দির সিরাপে, অ্যান্টিহিস্টামিন ও কাশি দমনকারী ঔষধের সাথে মিলিয়ে। ফেনাইলএফ্রিনযুক্ত চোখের ড্রপ চোখের হালকা লালচে ভাব কমাতে ব্যবহার হয়, আর বেশি শক্তির ড্রপ চোখ পরীক্ষার জন্য চোখের মণি বড় করতে চক্ষু বিশেষজ্ঞরা ব্যবহার করেন। ইনজেকশন হাসপাতালে অজ্ঞান করার সময় কমে যাওয়া রক্তচাপ বাড়াতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
ফেনাইলএফ্রিন একটি ডিকনজেস্ট্যান্ট। এটি রক্তনালীর আলফা রিসেপ্টরে কাজ করে নালীগুলো সরু করে। নাকে এতে ফোলা কমে ও শ্বাসের পথ খোলে; চোখে লালচে ভাব কমে ও মণি বড় হয়; রক্তে এটি রক্তচাপ বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কাশি ও সর্দির ঔষধ: প্যাকেটের লেবেলে লেখা মাত্রা বা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ অনুযায়ী খান, কারণ বিভিন্ন ঔষধে শক্তি আলাদা। প্রাপ্তবয়স্কদের সব ঔষধ মিলিয়ে ফেনাইলএফ্রিন সাধারণত দিনে ৬০ mg এর বেশি হওয়া উচিত নয়। শিশু: শুধু শিশুদের জন্য তৈরি ঔষধ, বয়স অনুযায়ী লেবেলে লেখা মাত্রায় দিন; ৬ বছরের কম বয়সী শিশুকে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কাশি ও সর্দির ঔষধ দেবেন না।
লালচে চোখের ড্রপ: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ ফোঁটা, দিনে সর্বোচ্চ ৪ বার, ২ থেকে ৩ দিনের বেশি নয়। মণি বড় করার ড্রপ ও ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন ফেনেলজিন, সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড) চলাকালীন বা বন্ধ করার ১৪ দিনের মধ্যে এটি খাবেন না; রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
- সিউডোএফেড্রিন ও এফেড্রিনসহ অন্য ডিকনজেস্ট্যান্ট ও উত্তেজক ঔষধে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ে।
- এটি রক্তচাপের ঔষধ ও বিটা-ব্লকারের কাজ কমাতে পারে।
- অ্যামিট্রিপটাইলিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট ও ডিগক্সিন হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- গুরুতর উচ্চ রক্তচাপ বা মারাত্মক হৃদরোগ থাকলে।
- বর্তমানে বা গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
- থাইরয়েড অতিসক্রিয় হলে।
- ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে (চোখের ড্রপ)।
- ফেনাইলএফ্রিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথাব্যথা, অস্থিরতা, নার্ভাস লাগা, ঘুমের সমস্যা, বুক ধড়ফড় ও রক্তচাপ বাড়া। চোখের ড্রপে জ্বালা, ঝাপসা দেখা এবং বেশি ব্যবহারে আগের চেয়ে বেশি লালচে ভাব ফিরে আসতে পারে।
তীব্র মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা, হৃদস্পন্দন খুব দ্রুত, ধীর বা অনিয়মিত হলে, অজ্ঞান হলে, চোখে ব্যথা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ, বড় প্রোস্টেট বা গ্লুকোমা থাকলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- একসাথে একাধিক কাশি ও সর্দির ঔষধ খাবেন না, কারণ অনেকগুলোতে একই উপাদান থাকে।
- অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন। উপসর্গ ৭ দিনের বেশি থাকলে বা সাথে বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তার দেখান।
- অ্যান্টিহিস্টামিনযুক্ত সিরাপে ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; এমন হলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ অনেক বেড়ে যেতে পারে, তীব্র মাথাব্যথা, ধীর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, বমি, উদ্বেগ ও খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন, বিশেষ করে শিশু গিলে ফেললে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
সিমপ্যাথোমিমেটিক ডিকনজেস্ট্যান্ট (আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহের মধ্যে বা প্যাকেটে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।