ব্যবহার
ফেনিটয়েন একটি খিঁচুনিরোধী ঔষধ, যা কয়েক ধরনের মৃগীরোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়, যেমন টনিক-ক্লোনিক (গ্র্যান্ড মাল) ও ফোকাল (আংশিক) খিঁচুনি। মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার বা মাথায় আঘাতের সময় ও পরে খিঁচুনি প্রতিরোধ বা চিকিৎসায়, এবং হাসপাতালে দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনিতে (স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস) ইনজেকশন হিসেবেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ সোডিয়াম ঢোকার ছোট ছোট চ্যানেলের মাধ্যমে সংকেত পাঠায়। মৃগীরোগে কিছু স্নায়ুকোষ বারবার অতিরিক্ত সংকেত দেয় এবং তা ছড়িয়ে পড়ে। ফেনিটয়েন এই সোডিয়াম চ্যানেলগুলোর পুনরায় সক্রিয় হওয়া ধীর করে, ফলে স্নায়ুকোষ দ্রুত বারবার সংকেত দিতে পারে না এবং খিঁচুনি ছড়ানো কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা প্রত্যেক রোগীর জন্য চিকিৎসক ঠিক করেন ও বদলান, সাধারণত রক্তে ঔষধের মাত্রা দেখে। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রায়ই দিনে প্রায় ৩০০ mg দিয়ে শুরু করেন, একবারে বা ভাগ করে, তারপর অল্প অল্প করে পরিবর্তন করেন। প্রতিদিন একই সময়ে পানি দিয়ে খান; খাবারের সাথে বা ছাড়া খেতে পারেন, তবে প্রতিদিন একইভাবে খান। তরল ঔষধ ভালো করে ঝাঁকিয়ে সঠিক মাপের চামচ বা কাপ দিয়ে মাপুন। পরামর্শ ছাড়া ব্র্যান্ড বা ধরন বদলাবেন না, কারণ রক্তে মাত্রা বদলে যেতে পারে। ইনজেকশন শুধু চিকিৎসক বা নার্স দেন। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে মারাত্মক খিঁচুনি হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফেনিটয়েন অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া করে। এটি ওয়ারফারিন (কখনো উল্টো বাড়াতে পারে), হরমোনাল জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, কর্টিকোস্টেরয়েড, কার্বামাজেপিন, অনেক এইচআইভি ও ক্যান্সারের ঔষধ এবং কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা কমাতে পারে। আইসোনিয়াজিড, ফ্লুকোনাজোল, অ্যামিওডারোন, ওমিপ্রাজল, ভ্যালপ্রোয়েট, ক্লোরামফেনিকল এবং একবারে অনেক মদ্যপান ফেনিটয়েনের মাত্রা বাড়াতে পারে; রিফামপিসিন, নিয়মিত বেশি মদ্যপান, অ্যান্টাসিড ও নল দিয়ে খাওয়ানো খাবার মাত্রা কমাতে পারে। বেশি মাত্রার ফলিক অ্যাসিডও মাত্রা কমাতে পারে। আপনার সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসক ও ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
ফেনিটয়েন বা একই ধরনের ঔষধে (হাইডানটয়েন) অ্যালার্জি থাকলে, অথবা আগে এটিতে মারাত্মক ত্বকের প্রতিক্রিয়া বা লিভারের সমস্যা হয়ে থাকলে খাবেন না। হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা নির্দিষ্ট ধরনের হার্ট ব্লক থাকলে ইনজেকশন দেওয়া হয় না। ডেলাভিরডিনের সাথে একত্রে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা, চোখের মণি কাঁপা, ঝাপসা বা দুটো করে দেখা
- ঝিমুনি, জড়ানো কথা, বিভ্রান্তি
- মাড়ি ফুলে বেড়ে যাওয়া (দাঁতের ভালো যত্ন উপকারী)
- শরীরে বা মুখে বাড়তি লোম, মুখের গড়ন মোটা হওয়া, ব্রণ
- বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য
দীর্ঘদিন খেলে হাড় দুর্বল হতে পারে (ভিটামিন D কমে) এবং ফোলেটের মাত্রা কমতে পারে। কদাচিৎ রক্তকণিকা, লিভার বা লসিকাগ্রন্থিতে প্রভাব পড়তে পারে।
ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘা (নির্দিষ্ট জিনধারী এশীয় বংশোদ্ভূতদের ঝুঁকি বেশি), জ্বরের সাথে গ্রন্থি ফোলা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, তীব্র ভারসাম্যহীনতা বা বিভ্রান্তি, নিজের ক্ষতির চিন্তা, অথবা খিঁচুনি বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ফেনিটয়েন জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিও বিপজ্জনক; দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন। চিকিৎসকরা সাধারণত গর্ভধারণের আগে ও সময়ে ফলিক অ্যাসিড এবং প্রসবের কাছাকাছি ভিটামিন K দেওয়ার পরামর্শ দেন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; অনেক মা দুধ খাওয়াতে পারেন, তবে শিশুর ঝিমুনি বা কম খাওয়া খেয়াল রাখুন এবং চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
রক্তে ঔষধের মাত্রা, লিভারের কার্যক্রম ও রক্তকণিকা দেখতে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে। লিভারের রোগ, রক্তে অ্যালবুমিন কম, কিডনির রোগ, ডায়াবেটিস, পোরফাইরিয়া এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। এটি ঝিমুনি আনতে পারে, তাই প্রভাব না বোঝা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। মদ্যপান এড়িয়ে চলুন। দাঁতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। খিঁচুনির ঔষধ খাওয়া কিছু মানুষের মেজাজের পরিবর্তন বা নিজের ক্ষতির চিন্তা আসে; এমন কিছু হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র ভারসাম্যহীনতা, চোখের মণি ঝাঁকুনি, জড়ানো কথা, বমি, বিভ্রান্তি, ধীর শ্বাস ও অচেতনতা হতে পারে। সাথে সাথে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী (হাইডানটয়েন অ্যান্টিএপিলেপটিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তরল ঔষধ ফ্রিজে জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।