ব্যবহার
ফাইটোমেনাডিওন হলো ভিটামিন কে১। এটি ব্যবহার হয়:
- নবজাতকের ভিটামিন কে এর অভাবজনিত রক্তপাত প্রতিরোধে।
- রক্ত বেশি পাতলা হয়ে গেলে বা রক্তপাত হলে ওয়ারফারিন ও এসিনোকুমারলের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব কমাতে।
- ভিটামিন কে কম থাকার কারণে রক্তপাত বা রক্তপাতের প্রবণতায়, যেমন চর্বি ঠিকমতো শোষণ না হলে, দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক খেলে বা কিছু লিভার ও অন্ত্রের রোগে।
কীভাবে কাজ করে
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী কয়েকটি প্রোটিন (ক্লটিং ফ্যাক্টর) তৈরি করতে লিভারের ভিটামিন কে লাগে। ফাইটোমেনাডিওন ঘাটতি পূরণ করে, ফলে সাধারণত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এই ফ্যাক্টরগুলো আবার তৈরি হতে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
নবজাতক: সাধারণত জন্মের পর পরই মাংসপেশিতে একবার ১ mg ইনজেকশন, অথবা ডাক্তার বা ধাত্রীর পরামর্শে মুখে খাওয়ার কোর্স। রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব কমানো ও রক্তপাতের চিকিৎসা: মাত্রা রক্ত পরীক্ষা (INR) ও রক্তপাত কতটা গুরুতর তার উপর নির্ভর করে, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স দেন; শিরায় দিলে খুব ধীরে দেওয়া হয়। ক্যাপসুল বা তরল শুধু ডাক্তারের নির্দেশে মুখে খেতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন ও একই ধরনের রক্ত পাতলা করার ঔষধের কাজ কমায়; বেশি মাত্রার পরে কিছুদিন এগুলো আবার কাজে আনা কঠিন হতে পারে।
- হেপারিন বা রিভারোক্সাবান, এপিক্সাবান, ডাবিগাট্রানের মতো নতুন রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব কমায় না।
- দীর্ঘদিন এন্টিবায়োটিক, কোলেস্টাইরামিন, অরলিস্ট্যাট ও মিনারেল অয়েল ভিটামিন কে এর মাত্রা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
ফাইটোমেনাডিওন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। হতে পারে:
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, ফোলা বা লালচে ভাব।
- মুখ লাল হয়ে যাওয়া, স্বাদে পরিবর্তন বা ঘাম।
- কদাচিৎ গুরুতর এলার্জি, মূলত শিরায় দিলে।
- অপরিণত নবজাতকে বেশি মাত্রায় জন্ডিস বাড়তে পারে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে চাপ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অজ্ঞান হয়ে পড়া, অথবা রক্তপাত না থামলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার পরামর্শ দিলে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যায়। বুকের দুধে খুব সামান্য যায় এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে ধরা হয়।
সতর্কতা
- কৃত্রিম হার্ট ভাল্ভ বা রক্ত জমাট বাঁধার কারণে দীর্ঘদিন রক্ত পাতলা করার ঔষধ খান এমন রোগীদের মাত্রা সাবধানে ঠিক করতে হয়, কারণ বেশি হলে রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি বাড়ে।
- লিভারের গুরুতর রোগে কাজ কম হতে পারে।
- রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব কমাতে ব্যবহার করলে নিয়মিত INR পরীক্ষা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ভিটামিন কে১ এর বিষাক্ততা কম। রক্ত পাতলা করার ঔষধ খান এমন কারও বেশি হলে রক্ত সহজে জমাট বাঁধতে পারে; নবজাতকে জন্ডিস বাড়তে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভিটামিন কে (চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন); কুমারিন জাতীয় রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রতিষেধক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন; জমাবেন না। শুকনো জায়গায় ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।