ব্যবহার
পিমেক্রোলিমাস ১% ক্রিম প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের হালকা থেকে মাঝারি এটোপিক ডার্মাটাইটিস (একজিমা) চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত অল্প সময়ের জন্য বা দীর্ঘ সময় ধরে মাঝে মাঝে ব্যবহার করা হয়, বিশেষ করে মুখ, চোখের পাতা, ঘাড় ও ভাঁজের মতো নাজুক ত্বকে, অথবা যখন স্টেরয়েড ক্রিম উপযুক্ত নয়।
কীভাবে কাজ করে
পিমেক্রোলিমাস একটি ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর। এটি ত্বকের কিছু রোগপ্রতিরোধী কোষকে প্রদাহ, লালচে ভাব ও চুলকানি সৃষ্টিকারী পদার্থ ছাড়তে বাধা দেয়। স্টেরয়েড ক্রিমের মতো এটি ত্বক পাতলা করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
আক্রান্ত ত্বকে দিনে ২ বার পাতলা করে লাগিয়ে আলতোভাবে পুরোপুরি মিশিয়ে দিন, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। একজিমার লক্ষণ দেখা দিলেই শুরু করুন এবং সেরে গেলে বন্ধ করুন। ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা যায়, তবে ক্রিম ত্বকে মিশে যাওয়ার পরে লাগান। হাতে চিকিৎসা না করলে ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন। ৬ সপ্তাহ পরেও উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বক দিয়ে খুব কম শোষিত হয়, তাই প্রতিক্রিয়া কম হওয়ার কথা। পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ক্রিম লাগাবেন না। বিস্তৃত একজিমায় যারা কেটোকোনাজোল বা ইরিথ্রোমাইসিনের মতো লিভারের CYP3A4 এনজাইম বাধাদানকারী ঔষধ খাচ্ছেন, তারা সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন। চিকিৎসাকালে জীবন্ত টিকা নিয়ে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন। কারো কারো অ্যালকোহলে মুখ লাল হতে পারে।
কারা খাবেন না
- পিমেক্রোলিমাস, অন্য ম্যাক্রোলাইড রোগপ্রতিরোধ নিয়ন্ত্রক (যেমন ট্যাক্রোলিমাস) বা ক্রিমের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু।
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল ব্যক্তি।
- সংক্রমিত ত্বক, অথবা ত্বকের ক্যান্সার বা ক্যান্সার-পূর্ব পরিবর্তন থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ হলো লাগানোর জায়গায় গরম, জ্বালা বা চিনচিন ভাব, যা সাধারণত হালকা এবং কয়েক দিনে কমে যায়। চুলকানি, লালচে ভাব, ফলিকুলাইটিস বা ঠোঁটে জ্বরঠোঁটো (হারপিস) এর মতো ত্বকের সংক্রমণ এবং অ্যালকোহলের পর মুখ লাল হওয়া হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা এখনো গবেষণাধীন, এবং ত্বকের ক্যান্সার বা লিম্ফোমার সাথে সম্ভাব্য সংযোগের কথা উঠেছে, যদিও তা প্রমাণিত নয়।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, ফোসকা বা জ্বরসহ ছড়িয়ে পড়া ব্যথাযুক্ত র্যাশ হলে, অথবা গ্রন্থি ফুলে থাকলে এবং না কমলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই কেবল ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করলে স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- রোদে থাকা কমান ও সানবেড এড়িয়ে চলুন; সুরক্ষামূলক পোশাক ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- লাগানো জায়গা আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ বা বায়ুরোধী ড্রেসিং দিয়ে ঢাকবেন না।
- একজিমায় সংক্রমণ থাকলে আগে তার চিকিৎসা করতে হবে।
- চোখ এবং মুখ বা নাকের ভেতরে লাগাবেন না; লেগে গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের ক্যালসিনিউরিন ইনহিবিটর (রোগপ্রতিরোধ নিয়ন্ত্রক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। হিমায়িত করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।