বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Piperacillin

  • 15 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 10 টি কোম্পানি

ব্যবহার

পিপেরাসিলিন একটি ইনজেকশনের অ্যান্টিবায়োটিক, যা হাসপাতালে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে দেওয়া হয়। প্রায় সবসময় এটি ট্যাজোব্যাকটামের সাথে একসাথে দেওয়া হয়, যাতে ব্যাকটেরিয়া একে নষ্ট করতে না পারে। সাধারণ ব্যবহার:

  • নিউমোনিয়া, হাসপাতালে থাকার সময় হওয়া নিউমোনিয়াসহ
  • পেটের ভেতরের জটিল সংক্রমণ
  • প্রস্রাবের নালি ও কিডনির জটিল সংক্রমণ
  • ত্বক ও নরম টিস্যুর গুরুতর সংক্রমণ
  • জরায়ু ও তলপেটের সংক্রমণ
  • শ্বেত রক্তকণিকা খুব কম থাকা অবস্থায় জ্বর (ফেব্রাইল নিউট্রোপেনিয়া)

কীভাবে কাজ করে

পিপেরাসিলিন পেনিসিলিন গোত্রের ঔষধ। এটি ব্যাকটেরিয়াকে তার কোষপ্রাচীর তৈরি করতে দেয় না, ফলে ব্যাকটেরিয়া ভেঙে মারা যায়। কিছু ব্যাকটেরিয়া বিটা-ল্যাকটামেজ নামে এনজাইম তৈরি করে পেনিসিলিন নষ্ট করে দেয়; ট্যাজোব্যাকটাম এই এনজাইম আটকে রাখে, তাই পিপেরাসিলিন কাজ চালিয়ে যেতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ডাক্তার বা নার্স এটি শিরায় ধীরে ধীরে স্যালাইনের মতো (ড্রিপ) দেন, সাধারণত প্রতি ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পরপর। মাত্রা ও কতদিন চলবে তা সংক্রমণের ধরন, ওজন ও কিডনির অবস্থার ওপর নির্ভর করে, তাই ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী দেওয়া হয়। এটি মুখে খাওয়ার ঔষধ নয় এবং চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া বাসায় দেওয়া হয় না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • প্রোবেনেসিড রক্তে পিপেরাসিলিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
  • মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
  • অপারেশনের সময় ভেকুরোনিয়ামের মতো মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধের প্রভাব দীর্ঘ করতে পারে।
  • হেপারিন ও ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে, তাই বেশি নজর রাখতে হয়।
  • জেন্টামাইসিন ও অ্যামিকাসিনের মতো অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড একই ড্রিপে মেশানো যায় না; আলাদাভাবে দেওয়া হয়।
  • ভ্যানকোমাইসিনের সাথে দিলে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কারা খাবেন না

পিপেরাসিলিন, অন্য কোনো পেনিসিলিন, সেফালোস্পোরিন, কার্বাপেনেম বা ট্যাজোব্যাকটামের মতো বিটা-ল্যাকটামেজ প্রতিরোধকে আগে এলার্জি হয়ে থাকলে এটি দেওয়া যাবে না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বমি, র‍্যাশ, চুলকানি, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা, এবং যেখানে ড্রিপ দেওয়া হয় সেখানে ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা। মুখে বা যৌনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণও হতে পারে।

নিচের যেকোনোটি হলে সাথে সাথে ডাক্তার বা নার্সকে জানান (জরুরি চিকিৎসা নিন):

  • মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, বা সারা শরীরে র‍্যাশ, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়া
  • চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র, পানির মতো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা
  • অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ
  • খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা মাংসপেশি কাঁপা
  • প্রস্রাব অনেক কমে যাওয়া

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় পেনিসিলিন সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে ডাক্তার যখন একান্ত প্রয়োজন মনে করেন শুধু তখনই পিপেরাসিলিন দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো চলবে কিনা ডাক্তার ঠিক করবেন। শিশুর ডায়রিয়া, র‍্যাশ বা মুখে ছত্রাক হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন।

সতর্কতা

  • আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে এলার্জি হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
  • কিডনির রোগ থাকলে মাত্রা কম বা কম ঘনঘন দিতে হয়।
  • এতে সোডিয়াম আছে, যা লবণ কম খাওয়ার পরামর্শ পাওয়া বা হার্ট ফেইলিউরের রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
  • দীর্ঘ চিকিৎসায় রক্তকণিকা, কিডনি ও পটাশিয়ামের পরীক্ষা করতে হয়।
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস থাকলে জ্বর ও র‍্যাশ বেশি হতে পারে।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়া কম ঘটে। খুব বেশি মাত্রা, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে, মাংসপেশি কাঁপা বা খিঁচুনি ঘটাতে পারে। চিকিৎসক দল এর চিকিৎসা করেন, এবং ডায়ালাইসিসের মাধ্যমে রক্ত থেকে ঔষধ বের করা যায়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক (বিস্তৃত কার্যক্ষমতার, সিউডোমোনাস-বিরোধী পেনিসিলিন)।

সংরক্ষণ

না খোলা ভায়াল ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। মেশানোর পর হাসপাতালের কর্মীরা লিফলেটে লেখা সময়ের মধ্যে ব্যবহার করেন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Piperacillin যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

15 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।