ব্যবহার
পিপেরাজিন সাইট্রেট একটি কৃমিনাশক ঔষধ। বড়দের ও শিশুদের গোলকৃমি (অ্যাসকারিস) এবং সুতাকৃমি (পিনওয়ার্ম) সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত সিরাপ হিসেবে এটি পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
পিপেরাজিন কৃমির পেশি নড়াচড়ার স্নায়ু সংকেত আটকে দিয়ে কৃমিকে অবশ করে ফেলে। ফলে কৃমি অন্ত্রের দেয়াল আঁকড়ে থাকতে পারে না এবং স্বাভাবিক পায়খানার সাথে জীবিত অবস্থায় বের হয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক মাত্রায় সেবন করুন। গোলকৃমির জন্য সাধারণত একবারে একটি মাত্রা নেওয়া হয়, যা প্রায় দুই সপ্তাহ পরে আবার নেওয়া যেতে পারে। সুতাকৃমির জন্য সাধারণত ৭ দিন দিনে একবার নেওয়া হয়, কখনো এক সপ্তাহ পরে আবার। শিশুদের মাত্রা বয়স বা ওজন অনুযায়ী লেবেল বা চিকিৎসকের পরামর্শমতো ঠিক হয়। সুতাকৃমির ক্ষেত্রে প্রায়ই পরিবারের সবাইকে একসাথে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- পাইরেন্টেল: কৃমির পেশিতে উল্টোভাবে কাজ করে এবং পিপেরাজিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে; দুটি একসাথে নেওয়া উচিত নয়।
- ক্লোরপ্রোমাজিন ও অন্যান্য ফেনোথিয়াজিন ঔষধ: খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
পিপেরাজিনে অ্যালার্জি থাকলে, মৃগী রোগ বা খিঁচুনির ইতিহাস থাকলে এটি ব্যবহার করবেন না। কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা: বমিভাব, বমি, পেট কামড়ানো, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। কম ক্ষেত্রে র্যাশ, চুলকানি, ঝাপসা দেখা, টলমল করে হাঁটা, পেশি দুর্বলতা বা বিভ্রান্তি হতে পারে, বিশেষত বেশি মাত্রায় বা কিডনির সমস্যা থাকলে।
খিঁচুনি, তীব্র মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য হারানো, দেখতে সমস্যা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পিপেরাজিন সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। এটি বুকের দুধে যায়; ব্যবহার করতেই হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাত্রা নেওয়ার পর প্রায় ৮ ঘণ্টা বুকের দুধ খাওয়ানো বন্ধ রাখা যেতে পারে।
সতর্কতা
- কিডনি বা লিভারের সমস্যা, অপুষ্টি বা স্নায়ুর রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- সুতাকৃমির পুনঃসংক্রমণ রোধে ভালো করে হাত ধুবেন, নখ ছোট রাখবেন এবং বিছানার চাদর ও অন্তর্বাস গরম পানিতে ধোবেন।
- নির্দেশিত মাত্রার বেশি নেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বমি, দুর্বলতা, পেশি কাঁপা, টলমল হাঁটা, বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে, বিশেষত শিশুদের। অবিলম্বে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যানথেলমিন্টিক (কৃমিনাশক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।