বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Piroxicam

  • 3 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 3 টি কোম্পানি

ব্যবহার

পাইরক্সিক্যাম একটি নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID)। অস্টিওআর্থ্রাইটিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অ্যাঙ্কিলোজিং স্পন্ডিলাইটিসের (মেরুদণ্ডের এক ধরনের বাত) মতো দীর্ঘমেয়াদি জোড়ার রোগে ব্যথা, ফোলা ও শক্তভাব কমাতে এটি ব্যবহৃত হয়। পাকস্থলী ও ত্বকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে সাধারণত অন্য NSAID উপযুক্ত না হলে এটি দেওয়া হয়। জেল আকারে পেশি ও জোড়ার স্থানীয় ব্যথায় লাগানো হয়।

কীভাবে কাজ করে

পাইরক্সিক্যাম সাইক্লো-অক্সিজিনেজ (COX) এনজাইমকে বাধা দেয়, যা প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি করে। প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন ব্যথা, ফোলা ও জ্বর সৃষ্টি করে। এটি কমলে প্রদাহ ও ব্যথা কমে। ঔষধটি শরীরে দীর্ঘ সময় থাকে, তাই দিনে একবার সেবনই যথেষ্ট।

মাত্রা ও সেবনবিধি

প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা: দিনে একবার ২০ mg, খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে। কারও কারও দিনে ১০ mg ই যথেষ্ট। দিনে ২০ mg এর বেশি নয়। ১৪ দিনের মধ্যে চিকিৎসক চিকিৎসা পুনর্মূল্যায়ন করবেন। জেল হলে ব্যথার স্থানে দিনে ৩ থেকে ৪ বার পাতলা করে লাগান, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা সবচেয়ে কম সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

অন্য NSAID বা অ্যাসপিরিনের সাথে একত্রে খাবেন না (চিকিৎসক বললে কম মাত্রার অ্যাসপিরিন ছাড়া)। ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, কর্টিকোস্টেরয়েড ও SSRI জাতীয় বিষণ্নতারোধী ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। রক্তচাপের ঔষধ ও ডাইইউরেটিকের কার্যকারিতা কমতে পারে, এবং লিথিয়াম ও মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়তে পারে। ACE ইনহিবিটর, ডাইইউরেটিক ও সাইক্লোস্পোরিনের সাথে কিডনির ঝুঁকি বাড়ে।

কারা খাবেন না

বর্তমানে বা আগে পাকস্থলীর আলসার বা রক্তক্ষরণ, গুরুতর হৃদ্‌যন্ত্র, যকৃৎ বা কিডনি বিকলতা, অ্যাসপিরিন বা অন্য NSAID এ হাঁপানি বা অ্যালার্জি, কোনো ঔষধে গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়ার ইতিহাস থাকলে, এবং গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে সেবন করবেন না। শিশুদের জন্য নয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বদহজম, পেটব্যথা, বমিভাব, বুকজ্বালা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও শরীরে পানি জমা। এটি পাকস্থলীর আলসার ও রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ বৃদ্ধি, কিডনির সমস্যা এবং কদাচিৎ গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে। জেলে ত্বক লাল হওয়া বা রোদে সংবেদনশীলতা হতে পারে।

রক্তবমি, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বুকে ব্যথা, শরীরের একপাশে হঠাৎ দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট, ত্বকে ফোসকা বা চামড়া ওঠা, অথবা মুখ ও গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, এবং শেষ ৩ মাসে একেবারেই নয়, কারণ এটি শিশুর হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসব বিলম্বিত করতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; স্তন্যদানকালে সেবনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

বয়স্কদের পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বেশি। হৃদ্‌রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা যকৃতের সমস্যা, হাঁপানি বা রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসক পাকস্থলী সুরক্ষার ঔষধ যোগ করতে পারেন। ত্বকে ফুসকুড়ির প্রথম লক্ষণেই সেবন বন্ধ করে পরামর্শ নিন। মদ ও ধূমপান এড়িয়ে চলুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি সেবনে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, তন্দ্রা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ, কিডনি বিকলতা বা খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহনাশক ঔষধ (NSAID), অক্সিক্যাম গ্রুপ।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Piroxicam এর ব্র্যান্ড

3 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।