ব্যবহার
পোলাটুজুমাব ভেডোটিন একটি ক্যানসারের ঔষধ, যা ডিফিউজ লার্জ বি-সেল লিমফোমা (DLBCL) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি লসিকাতন্ত্রের দ্রুত বাড়ন্ত এক ধরনের ক্যানসার। অন্য ক্যানসারের ঔষধের সাথে এটি প্রথম চিকিৎসা হিসেবে, অথবা লিমফোমা ফিরে এলে বা আগের চিকিৎসায় সাড়া না দিলে ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট, অর্থাৎ একটি অ্যান্টিবডির সাথে শক্তিশালী কোষনাশক ঔষধ জোড়া লাগানো। অ্যান্টিবডি অংশটি লিমফোমা কোষসহ বি-কোষের গায়ে থাকা CD79b নামের প্রোটিন খুঁজে তাতে যুক্ত হয়। কোষের ভেতরে ঢুকে ঔষধ অংশ (মনোমিথাইল অরিস্ট্যাটিন E) মুক্ত হয়ে কোষ বিভাজন বন্ধ করে, ফলে ক্যানসার কোষ মারা যায়। এভাবে ঔষধটি মূলত লিমফোমা কোষকে লক্ষ্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতাল বা ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে (ইনফিউশন) এটি দেন, সাধারণত অন্য ঔষধের সাথে প্রতি ৩ সপ্তাহে একবার নির্দিষ্ট সংখ্যক চক্রে। শরীরের ওজন অনুযায়ী ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডোজ ঠিক করেন। ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া প্রতিরোধে আগে কিছু ঔষধ দেওয়া হতে পারে। শুধু চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিটোকোনাজোল বা ক্লারিথ্রোমাইসিনের মতো শক্তিশালী CYP3A4 প্রতিরোধক কোষনাশক অংশের মাত্রা বাড়িয়ে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে, আর রিফাম্পিসিনের মতো ঔষধ মাত্রা কমাতে পারে। চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে। সব ঔষধ, ভেষজ পণ্য ও টিকার কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- পোলাটুজুমাব ভেডোটিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- সক্রিয় গুরুতর সংক্রমণ থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে হাত-পায়ের স্নায়ুর ক্ষতি (অবশ ভাব, ঝিনঝিন, জ্বালা বা দুর্বলতা), রক্তকণিকা (নিউট্রোফিল, প্লেটলেট, লোহিত কণিকা) কমে যাওয়া, নিউমোনিয়ার মতো সংক্রমণ, ক্লান্তি, জ্বর, পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, ক্ষুধামন্দা ও চুল পড়া। ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া, লিভারের সমস্যা এবং টিউমার লাইসিস সিনড্রোম (ক্যানসার কোষ দ্রুত ভাঙার ফলে রাসায়নিক ভারসাম্যহীনতা) হতে পারে। প্রোগ্রেসিভ মাল্টিফোকাল লিউকোএনসেফালোপ্যাথি (PML) নামের বিরল মস্তিষ্কের সংক্রমণও দেখা গেছে।
জ্বর বা কাঁপুনি, সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, শ্বাসকষ্ট, ইনফিউশনের সময় বা পরে মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা নতুন করে বিভ্রান্তি, স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া, দৃষ্টির পরিবর্তন, কথা বলা বা হাঁটায় অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। গর্ভধারণে সক্ষম নারী এবং গর্ভধারণে সক্ষম সঙ্গীর পুরুষদের চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েক মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় ও এরপর কয়েক মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না। এটি প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলতে পারে।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তকণিকা, লিভারের কার্যকারিতা ও স্নায়ুর ক্ষতির লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়, এবং প্রয়োজনে ডোজ পিছিয়ে বা কমিয়ে দেওয়া হতে পারে। সংক্রমণ প্রতিরোধে ঔষধ দেওয়া হতে পারে। অবশ ভাব বা ঝিনঝিন শুরু হলেই জানান। স্নায়ুর সমস্যা বা ক্লান্তি গাড়ি চালানোতে প্রভাব ফেলতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। বেশি দেওয়া হলে হাসপাতালের দল নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে সহায়ক চিকিৎসা দেবে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসাররোধী ঔষধ, অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (অ্যান্টি-CD79b)
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায়, জমাবেন না, আলো থেকে দূরে। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।