ব্যবহার
পলিইথিলিন গ্লাইকল ৩৩৫০ (ম্যাক্রোগল ৩৩৫০ নামেও পরিচিত) একটি জোলাপ বা ল্যাক্সেটিভ। স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি ব্যবহার হয়। ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে বেশি মাত্রায় এটি শক্ত হয়ে আটকে থাকা মল (ফিকাল ইমপ্যাকশন) বের করতে এবং কোলোনোস্কপি বা অপারেশনের আগে অন্ত্র পরিষ্কার করতেও দেওয়া হয়। অনেক পণ্যে এর সাথে লবণ (ইলেক্ট্রোলাইট) থাকে।
কীভাবে কাজ করে
এটি অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ: অন্ত্রে পানি ধরে রাখে, ফলে মল নরম হয় ও পরিমাণে বাড়ে এবং সহজে বের হয়। শরীরে এটি প্রায় শোষিত হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১টি স্যাশে (পণ্যভেদে প্রায় ১৩ থেকে ১৭ g) প্রায় ১২৫ থেকে ২৫০ ml পানিতে গুলে খান; ফলাফল বা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে ১ থেকে ৩টি স্যাশে পর্যন্ত মাত্রা বদলানো যায়। সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে কাজ করে। মুখে খাওয়ার দ্রবণ: প্যাকেটের নির্দেশনা মেনে চলুন। শিশু, আটকে থাকা মল ও অন্ত্র পরিষ্কারের ক্ষেত্রে: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে, দেওয়া নির্দেশনা হুবহু মেনে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই সময়ে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে, তাই অন্য ঔষধ অন্তত ১ ঘণ্টা ব্যবধানে খান। গিলতে সমস্যা থাকা রোগীদের তরল ঘন করার স্টার্চভিত্তিক উপাদানের কাজ এটি নষ্ট করে দিতে পারে।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে বাধা বা ছিদ্র থাকলে, বা অন্ত্রের নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেলে (ইলিয়াস)।
- গুরুতর আলসারেটিভ কোলাইটিস, ক্রোনস ডিজিজ বা টক্সিক মেগাকোলনের মতো অন্ত্রের গুরুতর প্রদাহ থাকলে।
- পলিইথিলিন গ্লাইকল বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেট ফাঁপা, পেট মোচড়ানো, গ্যাস, বমিভাব এবং পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া, বিশেষ করে বেশি মাত্রায়।
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- তীব্র বা বাড়তে থাকা পেটব্যথা, বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত।
- মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা খুব কম প্রস্রাবসহ তীব্র ডায়রিয়া (পানিশূন্যতা)।
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
শরীরে খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই প্রয়োজনে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়। আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
প্রায় এক সপ্তাহ ব্যবহারের পরও কোষ্ঠকাঠিন্য না কমলে, মলে রক্ত গেলে, কারণ ছাড়া ওজন কমলে বা হঠাৎ পায়খানার অভ্যাস বদলে গেলে ডাক্তার দেখান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না। হৃদরোগ বা কিডনির রোগ থাকলে লবণযুক্ত পণ্য শুধু পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে ডায়রিয়া হয় এবং পানিশূন্যতা ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। খাওয়া বন্ধ করুন, পানি পান করুন, এবং উপসর্গ গুরুতর হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অসমোটিক ল্যাক্সেটিভ (জোলাপ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাকেটে অন্য কিছু লেখা না থাকলে গুলে রাখা দ্রবণ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।