ব্যবহার
পলিমিক্সিন বি একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা প্রধানত দুইভাবে ব্যবহার হয়:
- চোখ, কান বা চামড়ায়: ড্রপ, মলম ও ক্রিমে, সাধারণত অন্য অ্যান্টিবায়োটিক বা স্টেরয়েডের সাথে মিশিয়ে, চোখ ওঠা (কনজাংটিভাইটিস), বাইরের কানের সংক্রমণ ও সংক্রমিত ক্ষতের মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে, নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার (সিউডোমোনাস ও অ্যাসিনেটোব্যাক্টরের মতো গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া) গুরুতর সংক্রমণে, যখন অন্য অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
পলিমিক্সিন বি নির্দিষ্ট কিছু ব্যাকটেরিয়ার বাইরের আবরণে লেগে তা নষ্ট করে দেয়, ফলে ভেতরের উপাদান বেরিয়ে গিয়ে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। এটি ভাইরাস বা ছত্রাকের বিরুদ্ধে কাজ করে না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চোখ, কান ও চামড়ার ঔষধ: ডাক্তারের পরামর্শ বা প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত দিনে কয়েকবার, প্রায় ৫ থেকে ৭ দিনের ছোট কোর্সে। ড্রপার বা টিউবের মাথা যেন চোখ, কান বা চামড়ায় না লাগে।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় বা মাংসপেশিতে দেন। মাত্রা ঠিক হয় শরীরের ওজন ও কিডনির অবস্থা দেখে, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। চিকিৎসার সময় কিডনির পরীক্ষা করা হয়।
ভালো লাগলেও পরামর্শ অনুযায়ী পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এগুলো মূলত ইনজেকশনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি বা স্নায়ুর ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধ, যেমন অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইড (জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন), ভ্যানকোমাইসিন, অ্যামফোটেরিসিন বি ও কোলিস্টিনের সাথে কিডনি ও স্নায়ুর ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে। এটি মাংসপেশি শিথিলকারী ও কিছু অ্যানেসথেটিকের প্রভাব বাড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা করতে পারে। সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- পলিমিক্সিন বি বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফাটা থাকলে, যদি না ডাক্তার অন্য পরামর্শ দেন (কিছু মিশ্র কানের ড্রপ শ্রবণশক্তির ক্ষতি করতে পারে)।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখ, কান ও চামড়ায় ব্যবহারে: লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, চুলকানি, লাল হওয়া বা ফুসকুড়ি।
ইনজেকশনে: কিডনির ক্ষতি, মুখের চারপাশে বা হাত-পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন, মাথা ঘোরা, ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, জ্বর ও চামড়ায় ফুসকুড়ি।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি: মাংসপেশি দুর্বল লাগে বা শ্বাসকষ্ট হয়, প্রস্রাব অনেক কমে যায়, তীব্র এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে ফুসকুড়ি) দেখা দেয়, অথবা চোখ বা কানে ব্যবহারের সময় ব্যথা, ফোলা বা হঠাৎ দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তি কমে যায়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চোখ, কান ও চামড়ার ঔষধ খুব সামান্য শোষিত হয় এবং ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যেতে পারে। গর্ভাবস্থায় ইনজেকশন কেবল গুরুতর সংক্রমণে, নিরাপদ বিকল্প না থাকলে ব্যবহার করা উচিত। ইনজেকশন চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
ইনজেকশন চলাকালে কিডনির কার্যক্ষমতা, স্নায়ুর উপসর্গ ও শ্বাস-প্রশ্বাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়; কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমানো হয়। চোখ, কান বা চামড়ার ঔষধ পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করলে ঔষধ-প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বাড়তে পারে। ডাক্তার নিরাপদ না বললে চোখের ঔষধ ব্যবহারের সময় কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। কয়েক দিনে সংক্রমণ না কমলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ইনজেকশনের মাত্রা বেশি হলে কিডনি বিকল, স্নায়ুর ক্ষতি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের পেশি অবশ হয়ে যেতে পারে। হাসপাতালে শ্বাস-সহায়তা ও অন্যান্য চিকিৎসা দেওয়া হয়। চোখ, কান বা চামড়ার ঔষধ বেশি ব্যবহারে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পলিমিক্সিন অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
চোখ, কান ও চামড়ার ঔষধ: ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন; চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন। ইনজেকশনের ভায়াল সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখা হয় এবং হাসপাতালের কর্মীরা সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।