ব্যবহার
পলিমিক্সিন (পলিমিক্সিন বি) একটি অ্যান্টিবায়োটিক। এখানকার পণ্যগুলোতে এটি ত্বক, চোখ বা কানে ব্যবহারের জন্য, সাধারণত নিওমাইসিন ও ব্যাসিট্রাসিনের মতো অন্য অ্যান্টিবায়োটিক এবং কখনো ডেক্সামেথাসোনের মতো স্টেরয়েডের সাথে মিশিয়ে থাকে। এগুলো ছোট কাটা, ছড়ে যাওয়া ও পোড়ার ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ এবং চোখ (যেমন কনজাঙ্ক্টিভাইটিস) বা বাইরের কানের ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসা বা প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। ইনজেকশন আকারটি হাসপাতালে গুরুতর সংক্রমণের জন্য সংরক্ষিত।
কীভাবে কাজ করে
পলিমিক্সিন বি মূলত স্যুডোমোনাস ও ই. কোলাইয়ের মতো গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বাইরের দেয়ালে লেগে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করে, ফলে ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। অন্য অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে মিশালে আরও বেশি ধরনের জীবাণুর বিরুদ্ধে কাজ করে। স্টেরয়েড থাকলে লালচে ভাব, ফোলা ও চুলকানিও কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ত্বকের মলম বা ক্রিম: জায়গাটি পরিষ্কার করে দিনে ১ থেকে ৩ বার অল্প পরিমাণে লাগান; হালকা ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকা যেতে পারে। চোখের ড্রপ, চোখের মলম ও কানের ড্রপ: চিকিৎসকের নির্দেশমতো, সাধারণত দিনে কয়েকবার করে প্রায় ৭ দিন। ব্যবহারের আগে ও পরে হাত ধুয়ে নিন এবং মুখ যেন চোখ, কান বা ত্বকে না লাগে। ইনজেকশন হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স দেন। কোর্স শেষ করুন এবং পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বক, চোখ বা কানে ব্যবহারে প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন, ভ্যানকোমাইসিন বা শক্তিশালী ডাইইউরেটিকের মতো কিডনি বা স্নায়ুর ক্ষতি করে এমন ঔষধের সাথে নিলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং এটি অ্যানেস্থেসিয়ায় ব্যবহৃত পেশি শিথিলকারকের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
পলিমিক্সিন বা অন্য কোনো উপাদানে (যেমন নিওমাইসিন) অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। স্টেরয়েডযুক্ত চোখের ড্রপ হারপিসের মতো ভাইরাস, ছত্রাক বা যক্ষ্মাজনিত চোখের সংক্রমণে ব্যবহার করা যাবে না। কানের পর্দা ফুটো থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কানের ড্রপ দেবেন না। বড় ক্ষত বা গভীর ক্ষতে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ত্বকে ব্যবহারে চুলকানি, জ্বালা, লালচে ভাব বা র্যাশ হতে পারে। চোখের পণ্যে অল্প সময় জ্বালা বা ঝাপসা দৃষ্টি হতে পারে। অ্যালার্জিক কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস হতে পারে, যা প্রায়ই মিশ্র পণ্যের নিওমাইসিনের কারণে হয়। দীর্ঘ ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। ইনজেকশনে কিডনির ক্ষতি, অবশ ভাব, ঝিনঝিন ও পেশি দুর্বলতা হতে পারে।
গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, ছড়ানো র্যাশ), চোখে ব্যথা বা দৃষ্টি খারাপ হওয়া, কানে কম শোনা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, অথবা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে বা উন্নতি না হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক, চোখ বা কানে অল্প পরিমাণে ব্যবহারে শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। ইনজেকশন গর্ভাবস্থায় শুধু স্পষ্ট প্রয়োজনে দেওয়া হয়।
সতর্কতা
পরামর্শের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না। চোখের পণ্য ব্যবহারের আগে কন্টাক্ট লেন্স খুলুন। স্টেরয়েড থাকলে চোখে দীর্ঘ ব্যবহারে চোখের চাপ বাড়তে পারে বা ছানি হতে পারে, তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা দরকার। সংক্রমণ ছড়ানো এড়াতে অন্যের সাথে পণ্য ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বক বা চোখে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ইনজেকশনের মাত্রাতিরিক্ত সেবনে কিডনি বিকলতা ও পেশি দুর্বলতার কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যার জন্য জরুরি হাসপাতাল চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পলিপেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিক (পলিমিক্সিন), ত্বক ও চোখে ব্যবহারযোগ্য সংক্রমণরোধী।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ বন্ধ রাখুন এবং চোখ ও কানের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর বা প্যাকে লেখা সময় পরে ফেলে দিন। ইনজেকশন প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।