ব্যবহার
পটাসিয়াম আয়োডাইড আয়োডিনের একটি উৎস। আয়োডিনের ঘাটতি ও গলগণ্ড (থাইরয়েড গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়া) প্রতিরোধে সাপ্লিমেন্টে এটি ব্যবহার হয়, বিশেষ করে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়। পারমাণবিক বা তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনার পর থাইরয়েড রক্ষায়ও এটি ব্যবহার হয়, তবে শুধু সরকারি নির্দেশ পেলে। কিছু থাইরয়েড অপারেশনের আগে এবং কিছু ছত্রাকজনিত চর্মরোগে ডাক্তার এটি দিতে পারেন; এসব ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
থাইরয়েড গ্রন্থি আয়োডিন দিয়ে থাইরয়েড হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন শরীরের শক্তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে অপরিহার্য। বেশি মাত্রায় পটাসিয়াম আয়োডাইড থাইরয়েডকে সাধারণ আয়োডিনে ভরে দেয়, ফলে তেজস্ক্রিয় আয়োডিন সেখানে জমতে পারে না, এবং সাময়িকভাবে থাইরয়েড হরমোন নিঃসরণ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- সাপ্লিমেন্ট: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত দিনে প্রায় ১৫০ mcg এবং গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় দিনে প্রায় ২৫০ mcg আয়োডিন থাকে। প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
- তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনা: শুধু জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বললে, তাদের দেওয়া মাত্রায় খান।
- অন্যান্য ব্যবহার: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
খাবারের সাথে বা পরে, এক গ্লাস পানি বা দুধের সাথে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিথিয়াম বা থাইরয়েডবিরোধী ঔষধের (যেমন কার্বিমাজল ও মেথিমাজল) সাথে খেলে থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। অ্যামিওডারোনেও প্রচুর আয়োডিন থাকে। বেশি মাত্রায়, পটাসিয়াম বাড়ায় এমন ঔষধের (যেমন স্পাইরোনোল্যাকটোন, অ্যামিলোরাইড, এনালাপ্রিল বা লোসার্টান) সাথে খেলে রক্তে পটাসিয়াম অতিরিক্ত বেড়ে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- আয়োডিন, আয়োডাইড বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ডার্মাটাইটিস হারপেটিফরমিস (চুলকানিযুক্ত ফোস্কা পড়া চর্মরোগ) বা হাইপোকমপ্লিমেন্টেমিক ভাসকুলাইটিস (রক্তনালির বিরল প্রদাহ) থাকলে।
- থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা বা থাইরয়েডে গুটি থাকলে, যদি না ডাক্তার পরামর্শ দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাপ্লিমেন্টের মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়। বেশি মাত্রায় পেটের অস্বস্তি, মুখে ধাতব স্বাদ, লালা বেড়ে যাওয়া ও ব্রণের মতো ফুসকুড়ি হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যায় বা শ্বাসকষ্ট হয়; জ্বরের সাথে গিঁটে ব্যথা বা ফুসকুড়ি হয়; দ্রুত হৃদস্পন্দন, কাঁপুনি, ঘাম ও ওজন কমে (থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতা); খুব ক্লান্তি, শীত শীত ভাব বা গলা ফুলে যায় (থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যাওয়া); অথবা চোয়ালের নিচের গ্রন্থি ব্যথাসহ ফুলে যায়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় আয়োডিন অপরিহার্য, এবং সাপ্লিমেন্টের স্বাভাবিক মাত্রা খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খেলে শিশুর গলগণ্ড বা থাইরয়েডের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে, তাই বেশি মাত্রা শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান। তেজস্ক্রিয় দুর্ঘটনায় সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন, কারণ গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য সুরক্ষা বিশেষভাবে জরুরি।
সতর্কতা
থাইরয়েডের রোগ, কিডনির রোগ বা রক্তে পটাসিয়াম বেশি থাকলে ডাক্তারকে জানান। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় খাবেন না। মনে রাখবেন, আয়োডিনযুক্ত লবণ ও অন্য সাপ্লিমেন্টেও আয়োডিন থাকে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মুখ ও গলায় জ্বালা, ধাতব স্বাদ, দাঁত ও মাড়িতে ব্যথা, পেটব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা হতে পারে। চিকিৎসা নিন। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত খেলে থাইরয়েডের কাজে গোলমাল হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়োডিন সাপ্লিমেন্ট; থাইরয়েড সুরক্ষাকারী ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।