ব্যবহার
পোভিডোন আয়োডিন একটি অ্যান্টিসেপটিক (জীবাণুনাশক), যা ত্বকে ও মুখে জীবাণু ধ্বংসে ব্যবহার হয়। এটি দ্রবণ, মলম, সার্জিক্যাল স্ক্রাব, মাউথওয়াশ বা গার্গল এবং যোনিপথে ব্যবহারের পণ্য হিসেবে পাওয়া যায়। এটি ব্যবহার হয়:
- ছোট কাটা, ছড়ে যাওয়া, অল্প পোড়া ও ক্ষত পরিষ্কার এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে।
- ইনজেকশন, অপারেশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়ার আগে ত্বক জীবাণুমুক্ত করতে।
- মুখ ও গলার সংক্রমণ এবং মুখের যত্নে (গার্গল বা মাউথওয়াশ)।
- যোনিপথের কিছু সংক্রমণে এবং স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার আগে পরিষ্কারে (যোনিপথের পণ্য)।
কীভাবে কাজ করে
এটি ধীরে ধীরে আয়োডিন ছাড়ে, যা সংস্পর্শে আসা নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ভাইরাস ধ্বংস করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ত্বকের দ্রবণ বা মলম: জায়গাটি পরিষ্কার করে আক্রান্ত ত্বকে দিনে ১ থেকে ৩ বার লাগান। হালকা ড্রেসিং দেওয়া যায়।
- গার্গল বা মাউথওয়াশ: লেবেলের নির্দেশমতো সরাসরি বা পানিতে মিশিয়ে প্রায় ৩০ সেকেন্ড কুলকুচি করুন, দিনে ৪ বার পর্যন্ত। ফেলে দিন, গিলবেন না।
- সার্জিক্যাল স্ক্রাব ও যোনিপথের পণ্য: লেবেল বা ডাক্তারের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বড় ক্ষত বা ত্বকের বড় অংশে নিয়মিত ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পারদযুক্ত অ্যান্টিসেপটিকের সাথে ব্যবহার করবেন না, কারণ একসাথে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে। হাইড্রোজেন পারক্সাইড, সিলভারযুক্ত ড্রেসিং ও এনজাইমযুক্ত ক্ষত পরিষ্কারক এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। বড় জায়গায় নিয়মিত ব্যবহারে থাইরয়েড পরীক্ষার ফল বদলাতে পারে, আর লিথিয়াম খান এমন ব্যক্তিদের তা এড়িয়ে চলা উচিত।
কারা খাবেন না
- আয়োডিন বা পোভিডোন আয়োডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- থাইরয়েড অতিসক্রিয় হলে বা অন্য থাইরয়েড রোগে (নিয়মিত বা বড় জায়গায় ব্যবহারের ক্ষেত্রে)।
- রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন চিকিৎসার আগে বা পরে।
- ডার্মাটাইটিস হারপেটিফর্মিস (ফোসকাযুক্ত একটি চর্মরোগ) থাকলে।
- নবজাতক ও সময়ের আগে জন্মানো শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মিত ব্যবহার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় জ্বালা, লালচে ভাব বা চুলকানি এবং ত্বক ও কাপড়ে সাময়িক বাদামি দাগ হতে পারে। কদাচিৎ অ্যালার্জি হয়। বড় ক্ষত বা পোড়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহারে আয়োডিন শরীরে ঢুকে থাইরয়েড বা কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মুখ বা গলা ফোলে, শ্বাসকষ্ট হয়, অথবা ত্বকে তীব্র ফোসকা বা জ্বালাপোড়া হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিয়মিত বা বড় জায়গায় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ আয়োডিন শিশুর শরীরে গিয়ে তার থাইরয়েডের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শে অল্প জায়গায় অল্প দিনের ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য (গার্গল, মাউথওয়াশ ও যোনিপথের পণ্য ছাড়া); গিলবেন না।
- ব্যবহারের আগে দ্রবণ গরম করবেন না।
- অপারেশনের সময় রোগীর শরীরের নিচে দ্রবণ জমে থাকতে দেবেন না, এতে ত্বকে জ্বালা হতে পারে।
- ক্ষত গভীর বা নোংরা হলে, অথবা ব্যথা ও ফোলা বাড়া, পুঁজ বা জ্বরের মতো সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে ডাক্তার দেখান।
- কিডনির রোগ থাকলে বড় জায়গায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে মুখ ও গলায় জ্বালা, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিসেপটিক ও জীবাণুনাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। জমাবেন না। পাত্র বন্ধ রাখুন এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।