ব্যবহার
প্রালিডক্সিম ক্লোরাইড একটি প্রতিষেধক (অ্যান্টিডোট), যা হাসপাতালে অ্যাট্রোপিনের সাথে অর্গানোফসফেট কীটনাশক (ফসলে ব্যবহৃত অনেক সাধারণ কীটনাশক) ও কিছু নার্ভ এজেন্টের বিষক্রিয়ার চিকিৎসায় দেওয়া হয়। মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে ব্যবহৃত কিছু ঔষধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনেও এটি ব্যবহার হতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
অর্গানোফসফেট অ্যাসিটাইলকোলিনএস্টারেজ নামের একটি এনজাইমকে আটকে দেয়, ফলে অ্যাসিটাইলকোলিন নামের স্নায়ু রাসায়নিক জমে পেশি, গ্রন্থি ও স্নায়ুকে অতিরিক্ত উত্তেজিত করে। প্রালিডক্সিম বিষকে এনজাইম থেকে সরিয়ে এনজাইমটিকে আবার সক্রিয় করে, ফলে পেশির শক্তি, বিশেষ করে শ্বাসের পেশির শক্তি ফিরে আসতে সাহায্য করে। বিষ স্থায়ীভাবে লেগে যাওয়ার আগে, অর্থাৎ দ্রুত দিলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে। নিঃসরণ ও ধীর হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে অ্যাট্রোপিনও দরকার হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রালিডক্সিম কেবল হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স দেন, সাধারণত শিরায় ধীরে ইনজেকশন বা স্যালাইনের মাধ্যমে, কখনো এরপর একটানা ড্রিপে। মাত্রা ও সময়কাল বিষক্রিয়ার তীব্রতা, রোগীর সাড়া ও কিডনির অবস্থার উপর নির্ভর করে, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এটি অ্যাট্রোপিনের সাথে ব্যবহার হয়; প্রালিডক্সিম অ্যাট্রোপিনের প্রভাবের লক্ষণ আগে প্রকাশ করতে পারে। চিকিৎসা দল অন্যভাবে না বললে বিষক্রিয়া বাড়াতে পারে বা শ্বাস কমাতে পারে এমন ঔষধ, যেমন সাক্সিনাইলকোলিন, মরফিন, থিওফাইলিন ও অ্যামিনোফাইলিন এড়িয়ে চলা হয়।
কারা খাবেন না
- প্রালিডক্সিমে অ্যালার্জি জানা থাকলে।
- কার্বামেট বিষক্রিয়ায় সব ক্ষেত্রে কার্যকর নয়, তাই সেখানে ব্যবহার চিকিৎসক ঠিক করেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখে ঝাপসা বা দুটো দেখা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ঝিমুনি, বমিভাব, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া, পেশি শক্ত বা দুর্বল হওয়া এবং ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে। খুব দ্রুত দিলে শ্বাসের সমস্যা বা পেশির খিঁচুনি হতে পারে।
অর্গানোফসফেট বিষক্রিয়া একটি জরুরি অবস্থা। কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার পর বমি, ঘাম, মুখ দিয়ে লালা পড়া, চোখের মণি ছোট হওয়া, পেশি কাঁপা, শ্বাসকষ্ট বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপত্তা ভালোভাবে জানা নেই, তবে বিষক্রিয়া প্রাণঘাতী হওয়ায় চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে এটি দেওয়া হয়।
সতর্কতা
কিডনির সমস্যায় কম মাত্রা দেওয়া হয়। মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। রোগীর শ্বাস, হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়; শ্বাসযন্ত্রের সহায়তা লাগতে পারে। আরও শোষণ ঠেকাতে দূষিত কাপড় খুলে ত্বক ধুয়ে ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি হলে মাথা ঘোরা, চোখে ঝাপসা দেখা, পেশি দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়, প্রয়োজনে শ্বাসযন্ত্রের সহায়তাসহ।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রতিষেধক, কোলিনএস্টারেজ পুনঃসক্রিয়কারী।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের পণ্য: পণ্যের প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।