ব্যবহার
প্রামক্সিন (প্রামোকেইন) ত্বকে বা পায়ুপথের চারপাশে লাগানোর একটি অবশকারক ঔষধ। পোকার কামড়, হালকা ত্বকের জ্বালা, ছোটখাটো পোড়া ও রোদে পোড়া, আঁচড়, ডার্মাটাইটিস ও চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়িতে চুলকানি, ব্যথা ও জ্বালা থেকে এবং অর্শ (পাইলস) ও এনাল ফিসারের অস্বস্তি থেকে এটি সাময়িক আরাম দেয়। কিছু পণ্যে ফোলা কমাতে হাইড্রোকর্টিসোনের মতো হালকা স্টেরয়েডও মেশানো থাকে।
কীভাবে কাজ করে
প্রামক্সিন একটি টপিক্যাল অ্যানেস্থেটিক, যা রাসায়নিকভাবে লিডোকেইন বা বেনজোকেইনের মতো ঔষধ থেকে আলাদা; তাই যাদের ওইসব ঔষধে সংবেদনশীলতা আছে তারা কখনও এটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি সোডিয়াম চ্যানেল বন্ধ করে ত্বকের স্নায়ুর প্রান্তকে ব্যথা ও চুলকানির সংকেত পাঠাতে দেয় না, ফলে কয়েক ঘণ্টা জায়গাটি অবশ থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: আক্রান্ত ত্বকে দিনে ৩ থেকে ৪ বার পাতলা করে লাগান, অথবা লেবেলের নির্দেশমতো। অর্শে জায়গাটি আলতো করে পরিষ্কার ও শুকনো করে দিনে ৫ বার পর্যন্ত লাগান, বিশেষ করে প্রতিবার পায়খানার পর। স্টেরয়েডযুক্ত পণ্য চিকিৎসকের অন্য পরামর্শ না থাকলে শুধু লেবেলে লেখা সময় পর্যন্ত, সাধারণত ৭ দিনের বেশি নয়, ব্যবহার করুন। লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
নির্দেশমতো ছোট জায়গায় ব্যবহার করলে অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। চিকিৎসক না বললে একই জায়গায় একই সময়ে অন্য অবশকারক বা স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
প্রামক্সিন বা অন্য উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, বড় বা গভীর ক্ষত, গুরুতর পোড়া, কাটা বা সংক্রমিত ত্বকে অথবা চোখের কাছে ব্যবহার করবেন না। চিকিৎসা না করা ত্বকের সংক্রমণে (ছত্রাক, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া) স্টেরয়েডযুক্ত মিশ্র পণ্য ব্যবহার করা উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, লালচে ভাব বা শুষ্কতা হতে পারে। ত্বকের অ্যালার্জি বিরল। স্টেরয়েডযুক্ত মিশ্র পণ্য দীর্ঘ সময় বা বেশি ব্যবহারে ত্বক পাতলা হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে যাওয়া, শোঁ শোঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। জায়গাটি আরও লাল, ফোলা বা ব্যথাযুক্ত হলে, অথবা পায়ুপথ থেকে রক্তপাত হলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে অল্প পরিমাণ শোষিত হয়, তাই ছোট জায়গায় মাঝে মাঝে অল্প সময়ের ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। তবুও গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালে, বিশেষ করে স্টেরয়েডযুক্ত পণ্য ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন। দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনের বোঁটার কাছে লাগাবেন না।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ থেকে দূরে রাখুন। ৭ দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে, খারাপ হলে বা বারবার ফিরে এলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান। ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে আগে চিকিৎসক দেখান। পায়ুপথে রক্তপাত, বিশেষ করে পায়খানার অভ্যাসে পরিবর্তনসহ, চিকিৎসককে দিয়ে পরীক্ষা করানো দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম। শিশু গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
টপিক্যাল অ্যানেস্থেটিক ও চুলকানিনাশক ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্যাপ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।